১৮ শতকের শেষ দিকে ইউজেন স্যান্ডো নামের এক জার্মান বডি বিল্ডার বেশ নাম করেছিলেন। তাঁকে আধুনিক বডি বিল্ডিংয়ের জনকও বলা হয়। বিচিত্র এক ধরনের হাতাকাটা পোশাক পরতেন তিনি। ধারণা করা হয়, ‘স্যান্ডো গেঞ্জি’র নামকরণ তাঁর নাম থেকেই অনুপ্রাণিত।সাউথ আফ্রিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ নানা দেশে ঘুরেছেন স্যান্ডো। ১৯০৫ সালে এসেছিলেন ভারতে। আধুনিক ইয়োগাকে জনপ্রিয় করার পেছনেও তাঁর অবদান আছে।
ইউজেন স্যান্ডোর নামে যুক্তরাজ্যে একটি বিখ্যাত কফির ব্র্যান্ডও আছে, যা স্যান্ডোস কোল্ড ব্রিউ কফি নামে পরিচিত।
বিজ্ঞাপন
‘গেঞ্জি’ শব্দটি এসেছে সম্ভবত গার্নসি বা গানসি থেকে। এটি একধরনের উলে বোনা সোয়েটার, যা ব্রিটিশ নাবিকেরা পরতেন। ব্রিটিশরা এ অঞ্চলে চা কিংবা ক্রিকেটের পাশাপাশি ‘গানসি’র প্রচলনও নিয়ে এসেছিল।অস্ট্রেলীয় ফুটবলে (অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল) খেলোয়াড়েরা একধরনের হাতাকাটা পোশাক পরেন। তাঁদের এই পোশাককে জার্সি নয়, বলা হয় গার্নসি।‘ফ্রুট অব দ্য লুম’ নামে একটি মার্কিন পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একবার একটা আজব গবেষণা করেছিল। তাদের গবেষণায় জানা যায়, যেসব পুরুষ প্যান্টের ভেতর আন্ডারশার্ট বা স্যান্ডো গেঞ্জি গুঁজে পরেন, তাঁরা তুলনামূলক বেশি সুখী ও সফল। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী এক হাজার পুরুষের ওপর জরিপ করে এ তথ্য জানা গেছে।১৯৯০–এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে স্যান্ডো গেঞ্জি ধরনের পোশাককে বলা হতো ‘ওয়াইফ বিটার’, অর্থাৎ যে পুরুষ স্ত্রীকে নির্যাতন করে। কেন এমন নামকরণ, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, এর পেছনে একটি ঘটনা আছে। ১৯৪৭ সালে স্ত্রীকে মারার অপরাধে জেমস হার্টফোর্ড জুনিয়র নামের একজন আটক হয়েছিলেন। মাসব্যাপী তাঁর ছবি ছাপা হয়েছিল স্থানীয় পত্রিকাগুলোয়। খবরের সঙ্গে হার্টফোর্ডের একটি ছবিও ছাপা হতো সে সময়। পরনে হাতাকাটা গেঞ্জি। ক্যাপশনে লেখা থাকত, ‘ওয়াইফ বিটার’।১৯৩৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ইট হ্যাপেনড ওয়ান নাইট’ ছবিতে মার্কিন অভিনেতা ক্লার্ক গ্যাবলের শার্ট খুলে ফেলার একটি দৃশ্য ছিল। মজার ব্যাপার হলো, ক্লার্ক গ্যাবল শার্টের নিচে খালি গা দেখানোর পরপরই স্যান্ডো গেঞ্জি বা আন্ডারশার্টের ব্যবসায় বিরাট ধস নামে। কারণ লোকে ভাবতে শুরু করেছিল যে ক্লার্ক গ্যাবল যদি শার্টের নিচে স্যান্ডো গেঞ্জি না পরেন, আমি কেন পরব?