কেবল স্ক্রলিং বাদ দিয়ে যেভাবে জীবন বদলে ফেললেন এই তরুণী

২০১৭ সালে উচ্চাশিক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কানাডা পাড়ি দেন হেইজি জিয়ং। পড়াশোনা শেষে ভালো চাকরি খুঁজছিলেন। না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছিলেন। ডুমস্ক্রলিংয়ে ডুবে থাকতেন। তারপর ২০২৪ সালে ২৯তম জন্মদিনে হেইজি নিজেকে কথা দেন, জীবন থেকে স্ক্রলিং বাদ দেবেন। আর ২০২৫ সালকে বেছেন নেন জীবন বদলে ফেলার জন্য। ২০২৫ সালের শেষে জানালেন, স্ক্রলিং বাদ দিয়ে যে ১০টি কাজ করে জীবন বদলে ফেলেছেন এই এশীয় তরুণী। লেখা হলো হেইজির ভাষায়।

হেইজি ২০২৫ সালকে বেছেন নেন জীবন বদলে ফেলার জন্য
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

১. মুঠোফোন দূরে রাখার পর মনে হলো, আমার হাতে অনেক সময়। সবার আগে নিজের রেজুমি আপডেট করি আর পেশাগত কাজ চালিয়ে যাই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করি। সাড়ে ৪ মাস পর কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি পাই। নতুন চাকরিতে আমার বেতন ৮০ শতাংশ বাড়ে। আপনাদের বলতে দ্বিধা নেই, আমার বেতন এখন ২ লাখ ২৪ হাজার কানাডীয় ডলার।

২. ২০২৫ সালের শুরুতে আমি যখন আমার প্রথম কনটেন্ট বানাই, নিজেকে রেকর্ড করার সময় আমার মনে হয়েছিল এইটা খুবই ‘ক্রিঞ্জ’। তারপর দেখি, আপনারা পছন্দ করছেন। আমার অষ্টম কনটেন্ট ভাইরাল হয়। আর ফলোয়ার ২০০ থেকে হয়ে যায় ৫০ হাজার! এরপর মাঝেমধ্যেই আমার কনটেন্ট ভাইরাল হতে থাকে। আর এখন আমার ১ লাখ ৬৯ হাজার ফলোয়ার।

হেইজি লিখেছেন, ‘মুঠোফোন দূরে রাখার পর মনে হলো, আমার হাতে অনেক সময়’

৩. ২০২৫ সালে আমি ২৪টা থেরাপি সেশন শেষ করেছি। আর এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে, অতীতের যেকোনো সময় থেকে আমি এখন সবচেয়ে সুখী, নির্ভার। আমার ২৯ বছরে নানা সময়ে জমা হওয়া ভার থেকে আমি এখন অনেকটাই মুক্ত। নিজেকে ক্ষমা করতে পেরেছি। হ্যাঁ, আমার জমানো টাকা অনেকটাই খরচ হয়ে গেছে। তবে এখন জানি, এর চেয়ে বহুগুণ আয় করতে আমি এখন প্রস্তুত।

৪. অক্টোবরে আমি অনাথ শিশুদের নিয়ে কাজ করা একটা ফাউন্ডেশনে ১ হাজার ডলার দান করেছি। ভাবছি, সামনের বছর এই সংগঠন আর এই শিশুদের সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত হব।

৫. আমি ২০১৭ সালে কানাডা আসি। ২০২৫ সালের আগে কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরে কোথাও যাইনি। ২০২৫ সালে আমি ৭টা দেশের ১২টা শহর ঘুরেছি। আশা করি, সামনের বছর থেকে টাকা জমাব।

৬. আমি খুবই অন্তর্মুখী স্বভাবের। সেই আমি দুটি জায়গায় ভাষণ দিয়েছি। যাকে বলে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য। তাতে বাকিরা কতটা কী অনুপ্রাণিত হয়েছেন জানি না, তবে আমি নিজে দারুণ অনুপ্রাণিত।

২০১৭ সালে উচ্চাশিক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কানাডা পাড়ি দেন হেইজি জিয়ং

৭. জীবন কীভাবে গুছিয়ে সারিয়ে তুলবেন, সে বিষয়ে আমি বই লিখতে শুরু করেছি। আপনারা বিশ্বাস করবেন কি না, জানি না, বইটির ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ একজন প্রকাশক পছন্দও করেছেন। ২০২৬ সালে আমার প্রথম বই প্রকাশিত হতে চলেছে।

৮. নিজের ফ্যাশন লেবেল নিয়ে কাজ করছি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ১৬টি অনলাইন কোর্স করেছি। দেখা যাক, ২০২৬ সালে এটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

৯. এসবের চেয়ে বড় কথা হলো, আমি নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক করেছি আর অর্থনৈতিকভাবে ‘খানিকটা’ স্থিতিশীলতা এনেছি।

১০. সবচেয়ে বড় কথা হলো, ৩০–এ দাঁড়িয়ে আমি জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করতে শিখেছি। আর এসবই করেছি খুবই ‘ভয়ে ভয়ে’, অনিশ্চয়তা নিয়ে। পারব কি না, নিশ্চিত ছিলাম না কোনোবারই।

হেইজির ভাষায়, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, ৩০–এ দাঁড়িয়ে আমি জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করতে শিখেছি’

হেইজি জিয়ং তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আরও বলেন, ‘আমি নিজেকে নিয়ে চূড়ান্ত হতাশায় ভুগেছি। ভেবেছি, আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। তারপর নিজেই ঠিক করলাম, জীবন একটাই। তাই ঠিকভাবে বাঁচব। নিজের জন্য সেটা আমাকে পারতেই হবে। কেবল সময়টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আর ধারাবাহিকভাবে লেগে থেকে মাত্র ১ বছরে আমি নিজেকে যেখানে দেখতে চেয়েছি, সেই রাস্তায় উঠে পরেছি। আমি বিশেষ কিছু অর্জন করিনি। তবে এটুকু বলতে পারি, আমার ভেতরটা বলছে, এখন আমি ঠিক পথে চলছি। আর বিশ্বাস করুন, এটা পরিশ্রমের, কিন্তু খুবই সন্তুষ্টির।’  

সূত্র: হেইজি জিয়ংয়ের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল