
সাধ্যরা থাকে ঢাকার পল্লবীতে। রাস্তার পাশে, পাঁচতলা বাড়ি। সাধ্যরা তিনতলায়। তিনতলার বারান্দায় সাধ্যর আলাদা জগৎ। সেখানে রাখা আছে পুতুল থেকে শুরু করে নানা কিছু। পড়ে ক্লাস টুতে। ভীষণ দুষ্টু সে। রাতে না-ঘুমানো পর্যন্ত তার দুষ্টুমি চলতেই থাকে।
স্কুলে মিস বলেছেন, ‘আপনার ছেলে এত শান্ত...?’
মা হাসেন। ‘বলেন কী, ওর দুষ্টুমির জ্বালায় মাঝেমধ্যে মনে হয় বাসা ছেড়ে চলে যাই।’
মিস অবাক হন।
‘তাই . . .?’
ইদানীং বুয়ার সঙ্গে সাধ্যর বেশ ভাব হয়েছে। মা দেখলেন, সেদিন দুপুরবেলা বুয়া আর সাধ্য বারান্দা থেকে হাসতে হাসতে দৌড়ে এল ভেতরে।
মা জানতে চাইলেন, ‘কী হয়েছে রে। এত হাসি কিসের?’
বুয়া বলে, ‘কিছু না খালাম্মা। আপনি ঘুমান।’
বুয়া আস্তে আস্তে সাধ্যকে বলে, ‘ব্যাডার পুরা শার্ট ভিজা গেছে। পুরা পানি তার মাথায় পড়ছে।’ এ কথা বলেই সে হেসে গড়িয়ে পড়ে। সাধ্যও হাসে।
মাঝেমধ্যেই সাধ্য ওপর থেকে লোকজনের ওপর পানি ফেলে।
কয়েক দিন পরের ঘটনা
বুয়া সাধ্যকে পিচ্চি একটা প্যাকেট দেয়। বলে, ‘এইডা য্যান কেউ না দেখে। লুকায় রাখবা।’
‘এটাতে কী?’
‘রং। লাল রং।’
‘কী হবে লাল রং দিয়ে?’
‘পানিতে গুলাই মাইনষের ওপরে ফেলাইবা। পুরা মানুষটা লাল হইয়া যাইব। হি হি হি।’
বুয়া হেসে গড়িয়ে পড়ে।
‘বাইজান, দৃশ্যডা ভাবতে আমার খুব মজা লাগতাছে।’
দৃশ্যটার কথা ভেবে সাধ্যও বেশ মজা পায়। সে একজনের মাথার ওপর রং দেওয়া পানি ফেলছে, আর লোকটার সাদা জামাকাপড় লাল হয়ে গেছে।
বুয়া বলে, ‘বাইজান একটা কথা কই। এহন থাইকা কিন্তু সাবধানে পানি ফেলতে অইবো। নিচে দারোয়ান আমারে জিগায়, ‘অ্যাই, তোমরা কি নিচে পানি ফেলো?’
পরের দিন সন্ধ্যাবেলা
এক মগ পানিতে রং গুলিয়েছে সাধ্য। ভীষণ উত্তেজিত সে। কখন কার মাথায় রঙিন পানি ফেলবে।
অন্ধকারে রাস্তার লোকগুলোর চেহারা খুব একটা বোঝা যাচ্ছে না। সাধ্য খুব সাবধানে মগের রঙিন পানি নিচে ফেলেই দে দৌড়। দৌড়ে ঘরের ভেতর। পুরো পানিটাই লোকটার মাথার ওপর পড়েছে।
সাদা শার্ট, অ্যাশ কালারের প্যান্ট পুরোটাই লাল হয়ে গেছে। দারোয়ান তাকে দেখেই মুচকি হাসে। পাছে ধমক খায়। সে জন্য সামান্য হেসেই গম্ভীর হয়ে যায়।
দারোয়ানের দিকে তাকিয়ে লোকটা বলে, ‘মানুষের সিভিক্স সেন্স নাই। শহরে থাকার যোগ্য নয় এরা।’
দারোয়ান গম্ভীর হয়ে বলে, ‘জি স্যার, মানুষের সিভিক নাই।’
বেশি লোক তাকে দেখার আগেই লোকটা দৌড়ে সিঁড়ি ভাঙে। কল বেল বাজতেই সাধ্য দৌড়ে যায় সেদিকে।
এমন সময় বাবা আসেন। সাধ্যও বাবার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। প্রতিদিনই ছেলের জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসে বাবা।
দরজা খুলতেই সাধ্যর চোখ বড় বড় হয়ে যায়। বাবার শার্ট-প্যান্ট লাল হয়ে গেছে।
‘হায় আল্লাহ, একি অবস্থা তোমার।’ মা বলেন।
সাধ্য গম্ভীর। বুক ফেটে তার কান্না আসছে। একটু পরে কেঁদেই ফেলে সে।
মা বলেন, ‘দেখেছ ছেলের কাণ্ড। বাবার দুরবস্থা দেখে ছেলের চোখে পানি এসে গেছে।’
এ কথা শুনে বাবা সাধ্যকে জড়িয়ে ধরেন। তা দেখে বুয়া রান্নাঘরে গিয়ে হেসে গড়িয়ে পড়ে।