
জাপানি শিল্পী ইয়াইয়োই কুসামা ৯৭ বছর বয়সে টোকিওর একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত ১৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। সাত দশকের বেশি সময়ের শিল্পীজীবনে কুসামা চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপনা, পারফরম্যান্স, চলচ্চিত্র, কথাসাহিত্য এবং কবিতায় কাজ করেছেন। পলকা ডট, কুমড়া এবং ইনফিনিটি রুমের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের অন্যতম সুপরিচিত শিল্পী।
২০২০ সালের এপ্রিলে করোনা মহামারিতে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে কবিতা লিখেছিলেন শিল্পী ইয়াইয়োই কুসামা। করোনা মহামারি জগৎ থেকে বিলীন হওয়ার কথা বলেছিলেন এই কবিতায়। শুরু করেছিলেন এভাবে, ‘যদিও তা জ্বলজ্বল করছে নাগালের বাইরে, আমি প্রার্থনা করি এই প্রত্যাশায় সেই আলোর আভা যেন আমাদের পথ দেখায়/ দীর্ঘকাল ধরে অপেক্ষা করছে যে এই মহাজাগতিক দ্যুতি’।
গোটা ‘মহাজগৎ’ রঙে রঙে, ফোঁটায় ফোঁটায়, বিন্দুতে বিন্দুতে দেখাতে একটা জীবন উত্সর্গ করছেন ইয়াইয়োই কুসামা (জন্ম: ২২ মার্চ ১৯২৯—মৃত্যু: ১৪ আগস্ট ২০২৬)। ‘ইনফিনিটি নেট: দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব ইয়াইয়োই কুসামা’ আত্মজীবনীতে লিখছেন, ‘আমার সব শিল্পকর্মই আমার যাত্রাপথের একেকটি ধাপ। কলম, ক্যানভাস ও নানা উপকরণ দিয়ে সত্যের জন্য আমার চালানো এক নিরন্তর সংগ্রামের ফসল। মাথার ওপর জ্বলজ্বল করছে বহুদূরের এক উজ্জ্বল তারা, আর আমি সেটির দিকে যত হাত বাড়াই, তা যেন আরও দূরে সরে যায়। কিন্তু আমার আত্মার শক্তি আর একনিষ্ঠ পথচলার জোরে, মানুষের এই পৃথিবীর বিভ্রান্তিকর ধাঁধাকে আঁকড়ে ধরে হলেও কাটিয়ে উঠেছিল- আত্মার জগতের অন্তত এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছানোর এই অকৃপণ প্রচেষ্টায়।’ আত্মজীবনীতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘শিল্প সৃষ্টি করা এবং উপন্যাস ও কবিতা লেখা—এগুলো সত্যের অনুসন্ধানে আমার বেছে নেওয়া আলাদা আলাদা পথ।’
বিশ্ব শিল্প ইতিহাসে তিনি পলকা ডটসের শিল্পী। পলকা নামে একটা চেক নাচ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ইউরোপে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। ওই সময়ে বিপনন কৌশল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পোশাকের নানা নকশার সঙ্গে ‘পলকা’ শব্দটি জুড়ে দেওয়া হতো। তখন থেকে এই বিশেষ ডটের নকশার নাম হয় ‘পলকা ডট’। ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নারীবিষয়ক ম্যাগাজিন ‘গডি’স লেডিস বুক’-এ পোশাকের নকশা হিসেবে ‘পলকা ডট’ কথাটি প্রথম লিখিতভাবে ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত শতকের পঞ্চাশের দশকে ফ্যাশন জগতে পোশাকের নকশায় পলকা ডট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শিল্পের ভাষায় ১৯৩৯ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে ইয়াইয়োই কুসামা পলকা ডট বা বিন্দু আঁকা শুরু করেন। শৈশবেই কুসামা একধরনের হ্যালুসিনেশনে ভুগতেন। চারদিকে দেখতেন শুধু অগণিত বিন্দু বা ডট। মানসিক এই অভিজ্ঞতাই তিনি আঁকলেন শিল্পের ভাষায়, করে তুললেন প্রধান অনুষঙ্গ। বললেন, ‘পলকা ডটগুলো একা থাকতে পারে না। আমরা যখন পলকা ডট দিয়ে প্রকৃতি ও আমাদের শরীরকে বিলীন করে দিই, তখন আমরা আমাদের পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠি।’
১৯২৯ সালে জাপানের নাগানো প্রশাসনিক অঞ্চলের মাতসুমোতো শহরে জন্ম নেওয়া কুসামার শৈশব ছিল ভীষণ জটিল। কামন এবং শিগেরু কুসামার কনিষ্ঠ সন্তান হিসেবে তিনি একটি রক্ষণশীল ও ধনী পরিবারে বেড়ে ওঠেন। এদের ‘নাকাতসুছায়া’ নামে একটি নার্সারি ছিল। শৈশবেই বীজের বাগানে স্কেচবুকে ছবি আঁকতেন কুসামা। ভয়াবহ দৃষ্টিভ্রমে ভোগায় তাঁর দৃষ্টিতে ভেসে উঠেছিল অসীম সব নকশা। মানসিক এই ভয় কাটিয়ে উঠতে তিনি কাগজে নিয়মিত আঁকতেন সেই বিন্দুর নকশা। ২০০২ সালে কুসামার আত্মজীবনীতে শৈশবে বেগুনি ফুলের বাগান দেখতে গিয়ে তাঁর প্রথম দৃষ্টিভ্রমের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন এভাবে, ‘ প্রতিটি ফুলের নিজস্ব মানুষের মতো মুখের অনুভূতি ছিল।... তারা সবাই আমার সঙ্গে কথা বলছিল।’
দ্য আর্ট নিউজপেপারে ফিলোমেনা অ্যাপস লিখছেন, ‘কুসামার জন্ম হয়েছিল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময়। তার শৈশব প্রভাবিত হয়েছিল সামাজিক অস্থিরতা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা ও অভাবে। জাপানের সামরিক শাসনের অধীনে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফসল রোপণ করতে হতো। ১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে মাত্র ১৫ বছর বয়সে কুসামাকে কুরেহা টেক্সটাইল কারখানায় পোশাক ও প্যারাশুট সেলাইয়ের জন্য পাঠানো হয়।’ একই সঙ্গে মায়ের আদেশে বাবার পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিও নজর রাখতে হতো। এমন অভিজ্ঞতার কারণে যৌনতা বিষয়ে কুসামার আজীবনের জন্য অনীহা তৈরি হয়। কুসামার এমন জীবনের সঙ্গে গত শতকের জাপানি সামাজিক চেতনার দারুণ মিল পাওয়া যায়।
সামাজিক অবস্থান ও লিঙ্গের কারণে একজন পেশাদার শিল্পী হয়ে উঠতে তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন কুসামার মা-বাবা। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত কিয়োটো মিউনিসিপ্যাল হিয়োশিগাওকা আপার সেকেন্ডারি স্কুলে তিনি আধুনিক নিহনগা শৈলীর চিত্রকলা অধ্যয়ন করেন। যদিও নিহনগার সীমিত ও পৌনঃপুনিক শিক্ষাপদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হতে পারেননি তিনি। বরং কুসামা নিহনগার করণকৌশলে তিনি পশ্চিমা শিল্পের নানান ধরন নিয়ে নিরীক্ষা করেন। এ সময় ফ্রান্সে শিল্পশিক্ষালয়ে পড়ার আবেদন করেছিলেন। দ্য আর্ট নিউজপেপার লিখছে, ১৯৫২ সালে তিনি মাতসুমোতোর ফার্স্ট কমিউনিটি সেন্টারে দুটি একক প্রদর্শনী করেন। এরপর ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত টোকিওতে আরও তিনটি সফল একক প্রদর্শনী করেন তিনি। একই সময় নিউইয়র্কে ব্রুকলিন মিউজিয়ামে ১৮তম দ্বিবার্ষিক ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার কালার এক্সিবিশনে তাঁর চিত্রকর্ম প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়। এতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। আত্মজীবনীতে কুসামা লিখছেন, ‘জাপানে থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই দেশটি খুবই ছোট, বড্ড দাসত্বপূর্ণ, বড্ড সামন্তবাদী এবং নারীদের প্রতি চরম অবজ্ঞাপূর্ণ। আমার শিল্পের প্রয়োজন ছিল একটি অসীম স্বাধীনতা।’
১৯৫৮ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান কুসামা। সেখানে যাওয়ার আগের তাঁর আঁকা প্রায় দুই হাজার চিত্রকর্ম ধ্বংস করে যান যেন তিনি নিজেকে আবার নতুন করে গড়ে তুলতে পারেন বলে। ১৯৫৫ সালে কুসামা যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত শিল্পী জর্জিয়া ও’কিফের সঙ্গে পত্রালাপ শুরু করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চিত্রশিল্পী ও ম্যুরালিস্ট কেনেথ কালাহানের সঙ্গে করেন পত্রালাপ। ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে ব্রাতা গ্যালারিতে যুক্তরাষ্ট্রে কুসামার প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে ‘ইনফিনিটি নেট’ সিরিজের শিল্পীর আঁকা পাঁচটি চিত্রকর্ম নিউইয়র্ক স্কুলের পুরুষতান্ত্রিক ধারাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছিল বলে মনে করেন শিল্পবিশারদেরা। গত শতকের ষাটের দশকে এই চিত্রকর্মগুলো ইউরোপেও বেশ সমাদৃত হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও শিল্পসমালোচক ডানাল্ড জাড তাঁর কাজের প্রশংসা করে কুসামার একটি চিত্রকর্ম সংগ্রহ করেন। ১৯৬১ সালে জাডের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃশ্যশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জোসেফ কর্নেলের সঙ্গে সম্পর্ক কুসামার নিউইয়র্ক পর্বের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৬৫-৬৬ সালে কুসামা অসীমতাকে প্রতিফলিত করতে আয়না ও আলোর ব্যবহার করেন। এর মধ্য দিয়ে শিল্পীকে এটিকে ‘আত্মবিলুপ্তি’ এবং ‘মহাবিশ্বের লাখ লাখ বিন্দু একটি বিন্দুতে পরিণত হওয়া’ বলে অভিহিত করেন শিল্পী। যুক্তরাষ্ট্রের পপধারার শিল্পী অ্যান্ডি ওয়ারহোল ১৯৬৬ সালে এবং কুসামার ১৯৬৩ সালের প্রদর্শনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে ‘ওয়াল পেপার’ করার ধারণা নেন বলে মনে করা হয়।
গত শতকের ষাটের দশকের শেষের দিকে কুসামা ভিয়েতনামি যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ‘অ্যানাটমিক এক্সপ্রেশন’ নামে পরিচিত এসব প্রতিবাদে গেরিলা কৌশল ব্যবহার করা হতো। এতে শিল্পীরা নগ্ন হয়ে পারফর্ম করতেন। ১৯৬৬ সালে ভেনিস বিয়েনালে ‘নার্সিসাস গার্ডেন’ প্রদর্শনী শিল্পী সংবাদের শিরোনাম হন। এ সময় তিনি ‘কুসামা ফ্যাশন কোম্পানি লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান পলকা ডট-এর কালেকশন এবং খোলামেলা পোশাক নকশা ও তৈরি করত।
১৯৭২ সালে কুসামার প্রিয় বন্ধু জোসেফ কর্নেলের মৃত্যু হয়। একই সময় প্রচারমুখী বলে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন শিল্পী। আর্থিক সংকট ও মানসিক ক্লান্তি নিয়ে ১৯৮৩ সালে চিরতরে জাপানে ফিরে আসেন কুসামা। ১৯৭৭ সাল থেকে স্বেচ্ছায় টোকিওর একটি মানসিক হাসপাতালে থাকতেন শিল্পী। জীবনের বাকিটা সময় তিনি এখানে কাটিয়েছেন। হাসপাতালের রাস্তার ওপারে একটি স্টুডিও তৈরি করেছিলেন নিয়মিত কাজ করতে। ১৯৭৮ সালে তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস ‘ম্যানহাটান সুইসাইড অ্যাডিক্ট’ প্রকাশিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত শতকের নব্বইয়ের দশকে শিল্পীজীবনের শুরুর পর্বের দৃশ্যশিল্পের উপদানগুলো কুসামার শিল্পচর্চায় ফিরে আসে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থায়ীভাবে ফেরার পর ১৯৮৯ সালে নিউইয়র্কের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল কনটেম্পোরারি আর্টস’ এবং অক্সফোর্ডের ‘মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট’-এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে তার প্রতি আবার শিল্পবোদ্ধাদের নজর আকৃষ্ট হয়। ১৯৯৩ সালে ভেনিস বিয়েনালে এককভাবে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। এই দুই আয়োজন তাঁকে করে তোলে একজন ‘আন্তর্জাতিক আইকন’।
গার্ডিয়ান পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, ক্রিস্টিজে ২০১৪ সালে কুসামার ১৯৬০ সালে আঁকা চিত্রকর্ম ‘ওয়াইট নম্বর-২৮’ নিলামে ৭.১ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়, যা ওই সময়ে জীবিত নারী শিল্পীর শিল্পকর্মের জন্য সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড ছিল। ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের টেট মডার্নে তাঁর রেট্রোস্পেক্টিভ প্রদর্শনী এবং লুই ভিটনের মতো প্রধান ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক কাজে কুসামা একজন আন্তর্জাতিক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। জনপরিসরে একইভাবে ‘জনব্যক্তিত্ব’ হিসেবে সমানভাবে সমাদৃত হন তিনি। ‘সেলফি কালচার’ ও ‘সোশ্যাল মিডিয়া’র বাইরে তাঁর ‘ইনফিনিটি রুমগুলোর’ অভিজ্ঞতা আধুনিক মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে স্পর্শ করেছিল প্রবলভাবে।
কুসামার কাছে পলকা ডট হলো অনন্তকালের প্রতীক। বলতেন, ‘আমাদের পৃথিবী, সূর্য, চাঁদ এবং পুরো মহাবিশ্বই একেকটি বিন্দু। আমি যখন ক্যানভাস বা ভাস্কর্যে পলকা ডট আঁকি, তখন নিজেকেও সেই মহাবিশ্বের সঙ্গে বিলীন করে দিই।’ সমালোচকেরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে কুসামার সৃষ্টিকে বলছেন ‘অবগাহনম–লক’ শিল্পরীতি। তাঁর শিল্পকর্ম সম্পর্কে আরও বলেছেন, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র।
গত শতকের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমা বিমূর্ত শিল্পচর্চার বিকাশ, নিউইয়র্ক আর্ট মুভমেন্ট এবং জাপানের ঐতিহ্যেই বিস্তার হয়েছে ইয়ায়োই কুসামার শিল্পভাষা। শিল্পীজীবনের বিভিন্ন পর্বে শিল্পী নানা মাধ্যমে সব সময় অনন্ত এক জগৎকে প্রকাশ করেছেন আপন নিয়মে। আধুনিক শিল্পের কোনো দেশ নেই, কোনো কাল নেই, শুধু অনন্তের দিকে যাওয়া—এটাই কুসামার সৃষ্টির মূলকথা। যেমনটি শিল্পী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন, ‘নিজেকে ভুলে যাও। অনন্তকালের সঙ্গে এক হয়ে যাও। তোমার পরিবেশের অংশ হয়ে ওঠো।’