
প্রতি গ্রীষ্মেই একটি তালিকার জন্য অপেক্ষা করেন বইপ্রেমীরা। সেটি কোনো প্রকাশনা সংস্থার বেস্টসেলার তালিকা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ‘সামার রিডিং লিস্ট’। ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছরই তিনি নিজের পছন্দের বইয়ের তালিকা প্রকাশ করে আসছেন।
২০২৬ সালের তালিকায় রয়েছে মোট ১১টি বই। পরিবার, ইতিহাস, প্রযুক্তি, স্মৃতি, চেতনা, রাজনীতি, প্রেম, সমাজ, মানবিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়কে ঘিরে লেখা এসব বইয়ে যেমন প্রতিষ্ঠিত লেখক আছেন, আছেন নতুন লেখকও।
তালিকার শুরুতেই রয়েছে তায়ারি জোনসের কিন। মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সময় দুই কিশোরীর বেড়ে ওঠা এবং পরিবার ও পরিচয়ের জটিল সম্পর্ক নিয়ে লেখা এ উপন্যাস ইতিমধ্যেই বেশ আলোচিত।
মানুষের চেতনার রহস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মাইকেল পোলানের আ ওয়ার্ল্ড অ্যাপিয়ার্স। স্নায়ুবিজ্ঞান, দর্শন, উদ্ভিদবিদ্যা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা মিলিয়ে বইটি জুড়ে চেতনার খোঁজ করা হয়েছে।
তালিকায় থাকা অ্যান প্যাচেটের হুইসলার আকস্মিক সাক্ষাৎ থেকে শুরু হওয়া স্মৃতি, সম্পর্ক ও জীবনের সিদ্ধান্তগুলোর গল্প।
তালিকার অন্যতম আলোচিত বই রূপিকা রিসামের ডেটা এম্পায়ার। বইটিতে দেখানো হয়েছে, প্রায় ১১ হাজার বছর ধরে তথ্য সংগ্রহ কীভাবে ক্ষমতা, শাসন ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
জর্জ সন্ডার্সের ভিজিল মৃত্যুশয্যায় থাকা এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর গল্পের মাধ্যমে করপোরেট লোভ, পরিবেশ ধ্বংস ও জীবনের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলেছে।
ওবামার তালিকায় এবার জায়গা পেয়েছে নতুন লেখক ভিনসেন্ট ইউয়ের প্রথম উপন্যাস সিক ইমিডিয়েট শেল্টার।
এ ছাড়া রয়েছে এলিজাবেথ স্ট্রাউটের দ্য থিংস উই নেভার সে, বেভারলি গেজের দিস ল্যান্ড ইজ ইয়োর ল্যান্ড, ক্যামিল বোর্দাসের ওয়ান সান অনলি, বেন লার্নারের ট্রান্সক্রিপশন ও কোলসন হোয়াইটহেডের কুল মেশিন।
ওবামার পাঠতালিকা শুধু জনপ্রিয় বইয়ের তালিকা নয়। তিনি সাধারণত এমন বই বেছে নেন, যেগুলো সমকালীন সমাজ, ইতিহাস, রাজনীতি ও মানুষের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়। ফলে প্রতিবছরই তাঁর তালিকা প্রকাশের পর বইগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়, বিক্রিও বেড়ে যায়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
গ্রন্থনা: রবিউল কমল