গ্রাফিকস: প্রথম আলো
গ্রাফিকস: প্রথম আলো

শ্রাব্য গণতন্ত্রের দ্বান্দ্বিকতা

পিটার ম্যানুয়েলের ক্যাসেট কালচার

পিটার ম্যানুয়েলের ক্যাসেট কালচার: পপুলার মিউজিক অ্যান্ড টেকনোলজি ইন নর্থ ইন্ডিয়া বইটি প্রথম দৃষ্টিতে প্রযুক্তি ও জনপ্রিয় সংগীতের ইতিহাস বলে মনে হলেও গভীরে এটি আসলে ক্ষমতা, সংস্কৃতি, বাজার, ভাষা, ধর্ম, অঞ্চল এবং জনতার রাজনৈতিক শ্রবণশক্তি—এই সবকিছুর একটি জটিল নৃতাত্ত্বিক মানচিত্র। বইটি ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত এবং উত্তর ভারতের ক্যাসেট-প্রযুক্তিকে লেখক শুধু সংগীত সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে নয়, এক নতুন ‘ক্যাসেট কালচার’ বা মিডিয়া সংস্কৃতি হিসেবে পাঠ করতে চেয়েছেন। তাঁর নিজের ভাষায়, এটি জনপ্রিয় সংগীতের ওপর ক্যাসেট প্রযুক্তির প্রভাব, রেকর্ডিং শিল্পের পুনর্গঠন এবং মধ্যস্থতাপ্রাপ্ত সংগীত শ্রোতার কাছে কী অর্থ তৈরি করে, তার অনুসন্ধান।

এই বইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটি ‘প্রযুক্তি’কে নিরপেক্ষ যন্ত্র হিসেবে দেখে না। ম্যানুয়েল দেখান, উত্তর ভারতে ক্যাসেটের আগমন কেবল নতুন ফরম্যাটের আগমন ছিল না, এ ছিল রেকর্ডিংয়ের উৎপাদন-উপায় এবং নিয়ন্ত্রণের নাটকীয় বিকেন্দ্রীকরণ। সস্তা, টেকসই, সহজে নকলযোগ্য এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য হওয়ার কারণে ক্যাসেট এমন এক মাধ্যম হয়ে ওঠে, যা বহুজাতিক ও জাতীয় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করে এবং গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীকেও সংগীত উৎপাদন ও বিতরণের জগতে টেনে আনে। এই জায়গাতেই বইটি মিডিয়া থিওরির সঙ্গে যুক্ত হয়: ক্যাসেটকে তিনি ‘ডেমোক্রেটিক পার্টিসিপ্যান্ট’ বা ‘অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক’ মাইক্রো-মিডিয়া হিসেবে ভাবেন।

সস্তা, টেকসই, সহজে নকলযোগ্য এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য হওয়ার কারণে ক্যাসেট এমন এক মাধ্যম হয়ে ওঠে, যা বহুজাতিক ও জাতীয় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করে এবং গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীকেও সংগীত উৎপাদন ও বিতরণের জগতে টেনে আনে।

কিন্তু বইটির আসল তাত্ত্বিক উত্তেজনা এখানে যে ম্যানুয়েল এই ‘গণতন্ত্রীকরণ’কে রোমান্টিকভাবে উদ্‌যাপন করেন না। তিনি একই সঙ্গে বলেন, ঘাসমূলের নিয়ন্ত্রণ মানেই মুক্তিকামী বিষয়বস্তু নয়। ক্যাসেট যেমন স্থানীয় পরিচয়, আঞ্চলিক ভাষা, প্রান্তিক রুচি ও অধস্তন সংস্কৃতি প্রকাশের নতুন পথ খুলে দেয়, তেমনি তা সামাজিক খণ্ডীকরণ, প্রতিক্রিয়াশীলতা, এমনকি ধর্মীয় বিদ্বেষকেও ত্বরান্বিত করতে পারে। ম্যানুয়েলের ভাষায়, ভারতীয় ক্যাসেট-সংস্কৃতি ধর্মীয় উগ্রতা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার এক ভীতিকর আশঙ্কাও হাজির করেছে। অর্থাৎ প্রযুক্তি এখানে মুক্তির যন্ত্রও, আবার প্রতিক্রিয়ার বাহনও।

শ্রাব্য গণতন্ত্রের দ্বান্দ্বিকতা

এই জায়গা থেকেই আমরা বইটি নিয়ে একটি নতুন তাত্ত্বিক আলাপ প্রস্তাব করতে চাই: ‘শ্রাব্য গণতন্ত্রের দ্বান্দ্বিকতা’। ম্যানুয়েলের বইয়ের অন্যতম প্রতিপাদ্য হলো, কোনো মাধ্যমকে কেবল ‘জনগণের’ হাতে গেছে বলে প্রগতিশীল বলে ধরা যায় না; বরং প্রশ্ন হলো জনগণ কারা? কোন জনগণ? কোন অঞ্চলের? কোন ভাষার? কোন ধর্মীয় কল্পনার? কোন শ্রেণির? ক্যাসেটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভাঙে বটে; কিন্তু তার জায়গায় একক মুক্তিকামী জনতা আসে না; আসে বহু ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী, বহু রকম নৈতিকতা, বহু রকম রাগ, বহু রকম আকাঙ্ক্ষা। ফলে ক্যাসেট-সংস্কৃতি একধরনের ‘প্লুরালাইজড পাবলিশ স্ফেয়ার’ তৈরি করে; কিন্তু সেই জনপরিসর সর্বদা গণতান্ত্রিক নয়; বরং প্রায়ই প্রতিদ্বন্দ্বী, খণ্ডিত এবং সংঘর্ষমুখর।

পিটার ম্যানুয়েল (১৯৫২-)

এ কারণে বইটি হাবারমাসীয় ‘পাবলিক স্ফিয়ার’-এর সরল মডেলকে অস্বস্তিতে ফেলে। কারণ, এখানে জনপরিসর গড়ে ওঠে যুক্তি-আলোচনার মাধ্যমে নয়; বরং গান, টিউন, ভজন, গজল, রসিয়া, কৌতুক, অনুকরণ, লোকপ্যারোডি এবং রাজনৈতিক প্রচার-ক্যাসেটের মাধ্যমে। অর্থাৎ এখানে জনগণ কথা বলে না শুধু, জনগণ শোনে, গায়, নকল করে, প্রচার করে, উত্তেজিত হয়। এই শ্রবণ-জনপরিসর যুক্তির নাগরিকতা নয়; বরং শব্দের নাগরিকতা। বইটির বিশাল গুরুত্ব এখানেই।

ম্যানুয়েলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো তিনি ‘পপুলার মিউজিক’ শব্দটিকেও নান্দনিকতার বদলে মিডিয়া-অর্থনীতির আলোয় সংজ্ঞায়িত করেন। তাঁর মতে, জনপ্রিয় সংগীত মানে কেবল জনগণ পছন্দ করে এমন সংগীত নয়; বরং সেটি এমন সংগীত, যা মাস কমোডিটি হিসেবে উৎপাদিত ও বাজারজাত হয় এবং যার স্টাইল মিডিয়ার ঘনিষ্ঠ সংযোগে বদলায়। এর ফলে ‘লোক’, ‘জনপ্রিয়’, ‘ধ্রুপদি’—এই শ্রেণিবিভাগগুলোকে তিনি স্থির বলে মানেন না। বিশেষত আঞ্চলিক লোকসংগীত ক্যাসেটের মাধ্যমে বাজারে এলে সেটি আর খাঁটি লোক থাকে না, আবার পুরোপুরি পপ-ও হয়ে যায় না।

কোনো মাধ্যমকে কেবল ‘জনগণের’ হাতে গেছে বলে প্রগতিশীল বলে ধরা যায় না; বরং প্রশ্ন হলো জনগণ কারা? কোন জনগণ? কোন অঞ্চলের? কোন ভাষার? কোন ধর্মীয় কল্পনার? কোন শ্রেণির? ক্যাসেটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভাঙে বটে; কিন্তু তার জায়গায় একক মুক্তিকামী জনতা আসে না।

এই পর্যবেক্ষণ থেকে আমরা আরেকটি তাত্ত্বিক বাক্য গড়তে পারি—ক্যাসেট লোকসংস্কৃতিকে উদ্ধার করে না; তাকে পুনরায় রচনা করে। অর্থাৎ ক্যাসেট কোনো আদি লোকবিশ্বকে শুধু সংরক্ষণ করে না, বরং সেটিকে বাজারযোগ্য, নকলযোগ্য, আঞ্চলিকভাবে চেনার মতো এবং অনেক ক্ষেত্রে অশ্লীলতা বা অতিরঞ্জনের উপযোগী করে গড়ে তোলে। বইয়ের সূচি থেকেই বোঝা যায়, ম্যানুয়েল আঞ্চলিক সংগীত, জেন্ডার, কমোডিফিকেশন, অশ্লীল গান এবং ব্রজ রসিয়ার বাণিজ্যিকীকরণ—এসবকে বইয়ের কেন্দ্রীয় সমস্যা হিসেবে নিয়েছেন।

পিটার ম্যানুয়েলের বই ক্যাসেট কালচার

একটি বড় সাফল্য হলো বইটি ‘বাজার বনাম সংস্কৃতি’র সস্তা দ্বৈততা এড়িয়ে যায়। ম্যানুয়েল দেখান, ক্যাসেট-বুম একদিকে আঞ্চলিক ভাষা, অঞ্চলভিত্তিক পরিচয় এবং আগে অবদমিত গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আত্মপ্রকাশকে ত্বরান্বিত করেছে; অন্যদিকে একই প্রক্রিয়া বাজারের যুক্তির কারণে বিষয়বস্তু, ভাষা, লিঙ্গ-প্রতিনিধিত্ব, এমনকি ভক্তিমূলক সংগীতের ভেতরেও নতুন বিকৃতি এনেছে। এই দ্বৈততা বইটির রাজনৈতিক পরিপক্বতা। কারণ, এখানে কমোডিফিকেশন কেবল ধ্বংসের নাম নয়; আবার স্রেফ মুক্তিরও নাম নয়।

তবে বইটির সীমাবদ্ধতাও এখানেই। ম্যানুয়েল অনেক সময় ‘বিকেন্দ্রীকরণ’কে এমনভাবে দেখেন, যেন কেন্দ্র ভাঙলেই প্রান্ত নিজের কণ্ঠ ফিরে পায়; কিন্তু উত্তর ঔপনিবেশিক তত্ত্বের আলোয় বলা যায়, প্রান্তের কণ্ঠ কখনোই একক, বিশুদ্ধ বা বাজারের বাইরে নয়; বরং ক্যাসেট-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও প্রান্তিক উচ্চারণ বাজারকাঠামোর মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং তার সঙ্গেই জন্ম নেয় নতুন মধ্যস্বত্বভোগী, স্থানীয় প্রযোজক-শক্তি, ক্ষুদ্র পিতৃতন্ত্র, ভাষিক আগ্রাসন ও ধর্মীয় সংখ্যাগুরুবাদ। বইয়ে এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত আছে; কিন্তু এর পূর্ণতর রাজনৈতিক ভাষ্য নেই। বিশেষত জাততত্ত্বকে তিনি বইয়ের কেন্দ্রীয় বিশ্লেষণী অক্ষ করেন না—এটি আজকের পাঠকের কাছে বড় ঘাটতি বলে মনে হতে পারে। বইয়ের আলোচনায় শ্রেণি, অঞ্চল, ভাষা, ধর্ম, জেন্ডার আছে; কিন্তু জাত-পাতের গঠনমূলক ভূমিকা আরও ধারালোভাবে আনা যেত।

গজল অধ্যায়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, ম্যানুয়েল ভাষা-রাজনীতির ভেতর দিয়ে সংগীতের রূপান্তর পড়েন। স্বাধীনতার পরে হিন্দি-উর্দু দ্বন্দ্ব, রাষ্ট্রীয় ভাষানীতি, উর্দুর অবনমন এবং মুসলিম সংস্কৃতিকে ‘রোমান্টিক অথচ পশ্চাৎপদ’ হিসেবে দেখার প্রবণতা—এসবের পরিপ্রেক্ষিতে গজলের পতন ও আধুনিকীকরণ তিনি বিশ্লেষণ করেন। এ অংশটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এখানে সংগীত নান্দনিক রূপ নয়, রাষ্ট্র-জাতীয়তাবাদের ভাষিক শাসনের শিকার ও বাহক—দুই-ই।

তবু এখানেও আমাদের আপত্তি আছে। ম্যানুয়েল গজলকে ভাষা-সামাজিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে খুব সূক্ষ্মভাবে পড়লেও মুসলিম সাংস্কৃতিক রূপের ভেতরের অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্য, অথবা শ্রোতা-সৃষ্ট অর্থের অনির্দিষ্টতাকে আরও জটিল করা যেত। কারণ, ভাষা শুধু রাষ্ট্রের দ্বারা মুছে যায় না, ভাষা কখনো কখনো শ্রোতার শরীরে, আবেগে, উচ্চারণ-ভুলে, এমনকি হাইব্রিড রোমান্টিকতায়ও বেঁচে থাকে। গজলের আধুনিকীকরণকে তাই শুধু অবক্ষয় বা অভিযোজনের ভাষায় নয়, পোস্ট লিঙ্গুয়িস্টিক সার্ভাইভ্যালের ভাষায়ও পড়া সম্ভব।

বইটির কেন্দ্রীয় থিসিসকে আমরা এভাবে নতুন ভাষায় বলতে পারি: মাধ্যমের গণতন্ত্রীকরণ সব সময় অর্থের গণতন্ত্রীকরণ নয়। ক্যাসেট বহু কণ্ঠকে সামনে আনে; কিন্তু সব কণ্ঠ মানবিক নয়; বহু অঞ্চলকে উচ্চারণের সুযোগ দেয়, তবে সব অঞ্চল বহুত্ববাদী নয়। বহু ভক্তিকে বাজারে তোলে; কিন্তু সব ভক্তি মুক্তিকামী নয়।

বইটির সবচেয়ে আলোড়নকারী অংশ নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে। নির্বাচনী প্রচার, নারী-স্বাধীনতা আন্দোলন, আঞ্চলিক আন্দোলন এবং বিশেষত হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার ভেতরে ক্যাসেটের ভূমিকা—এই অংশগুলো বইটিকে কেবল নৃতাত্ত্বিক গবেষণা নয়, রাজনৈতিক মিডিয়া-ইতিহাসেরও দলিল করে তুলেছে। নির্বাচনী রাজনীতিতে অডিও-ভিডিও ক্যাসেট কীভাবে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমকে পাশ কাটিয়ে এক সমান্তরাল প্রচার-ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি করেছিল, তার বিবরণ বইয়ে আছে।

এ প্রসঙ্গে আমরা বলব, ম্যানুয়েলের বই আজকের সোশ্যাল মিডিয়ারও এক আগাম তত্ত্ব। যেমন এখন আমরা হোয়াটসঅ্যাপ ফরোয়ার্ড, ইউটিউব শর্ট, টিকটক ক্লিপ বা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীভূত কিন্তু গভীরভাবে মেরুকৃত মিডিয়া-রাজনীতি দেখি, তেমনই ক্যাসেট যুগে তিনি দেখিয়েছিলেন, কীভাবে সস্তা পুনরুৎপাদন জনপরিসরকে বহু গুণ বিস্তৃত করে; কিন্তু সেই বিস্তার সত্য, মুক্তি ও বহুত্বের গ্যারান্টি দেয় না। এই অর্থে ক্যাসেল কালচার কেবল অতীতের বই নয়; এটি বর্তমান ডিজিটাল জনতার পূর্বপুরুষের ইতিহাস।

আসলে বইটির কেন্দ্রীয় থিসিসকে আমরা এভাবে নতুন ভাষায় বলতে পারি: মাধ্যমের গণতন্ত্রীকরণ সব সময় অর্থের গণতন্ত্রীকরণ নয়। ক্যাসেট বহু কণ্ঠকে সামনে আনে; কিন্তু সব কণ্ঠ মানবিক নয়; বহু অঞ্চলকে উচ্চারণের সুযোগ দেয়, তবে সব অঞ্চল বহুত্ববাদী নয়। বহু ভক্তিকে বাজারে তোলে; কিন্তু সব ভক্তি মুক্তিকামী নয়। এই পাঠ অত্যন্ত জরুরি, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাস বোঝার জন্য।

আমাদের মতে, ম্যানুয়েলের গবেষণাপদ্ধতিও প্রশংসনীয়। ১৯৮৯-৯১ সালে ভারতজুড়ে তাঁর মাঠগবেষণা, সাক্ষাৎকার, প্রযোজক, সংগীতশিল্পী, লোকসংস্কৃতি-গবেষক, সম্পাদক ও সমালোচকদের সঙ্গে কাজ—এসব বইটিকে জীবন্ত করে। তিনি নিজেও স্বীকার করেন যে বিষয়টি নতুন, উপকরণ কম; আর তিনি ভারতের মানুষদের নিজেদের ভাষায় কথা বলতে দিতে চেয়েছেন। এই এথনোগ্রাফিক ওপেননেস বইটির জোর। তবে একই সঙ্গে এই পদ্ধতির সীমাও আছে—অনেক পর্যবেক্ষণ সাক্ষ্যনির্ভর, কিছু সিদ্ধান্ত আজকের দৃষ্টিতে আরও বৃহত্তর ডেটা, শ্রোতা-গবেষণা এবং সাবঅল্টার্ন পদ্ধতিতে পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

সব মিলিয়ে ক্যাসেট কালচার এমন এক বই, যা উত্তর ভারতের সংগীত-ইতিহাস লেখে; কিন্তু আসলে তার চেয়েও বড় কিছু করে—কীভাবে প্রযুক্তি সংস্কৃতিকে বদলায় এবং সংস্কৃতি কীভাবে প্রযুক্তিকে নিজের দ্বন্দ্বে টেনে আনে। বইটি পড়ে বোঝা যায়—মিডিয়া কেবল বার্তাবাহক নয়, মিডিয়াই সামাজিক রূপান্তরের অবকাঠামো; কিন্তু সেই রূপান্তর প্রগতিশীল হবে কি প্রতিক্রিয়াশীল—তার উত্তর প্রযুক্তির মধ্যে নেই; আছে সামাজিক শক্তির বিন্যাসে।