
জফির সেতু
উপত্যকার কবিতা
ভূ-উপগ্রহ থেকে তাকালে
মনে হবে একটি অগ্নিগর্ভ
অথবা মনে হতে পারে
জলপাইপাতায় আবৃত একটি স্ত্রী-অঙ্গ
হয়তো এ জন্যেই উপত্যকাটিতে
জন্ম ও চিৎকার দুইই চলছে!
২.
কুরুক্ষেত্রের বিস্তার এখানেও
কুরু আর পা, বকুলের রক্তে এককালে
ভিজেছিল পৃথিবীর মুথাঘাস
আবারও মেদিনীযুদ্ধে পুড়ছে আকাশ
আর অতি কাছ থেকে ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ
হচ্ছে বৃদ্ধ-নারী-শিশু ও পুরুষ
জাফরানের খেত ভিজে যাচ্ছে মানুষের রক্তে।
আল ইমরান সিদ্দিকী
শ্রীমুখ
দুধে ভেজানোর আগে মেঝের ওপরে
পড়ে গেল কর্নফ্লেক্স। একটা একটা করে
হাতে তুলে দাঁড়িয়েছি, দাঁড়াতেই দেখি
করেছে বাড়ির পোষা বিড়ালটি এ কী!—
দুধের বাটিতে মুখ দিয়ে বসে আছে!
এসেছি অনেক দূরে, যে ছিলাম কাছে—
কার কাছে? কার কাছে? কোথায় ছিলাম?—
ভাবতে ভাবতে জানালার পর্দা সরালাম
সফেদ তুষারে ঢাকা পড়েছে দুনিয়া
|আদিগন্ত পাপড়ি ফেলে রাখলো ম্যাগনোলিয়া!
হঠাৎ তোমার মুখ গেল মনে পড়ে
যেন নিস্তরঙ্গ এক দুধের সাগরে
নৌকায় সটান হয়ে শুয়ে থাকা কারও
দুচোখের সামনে এক খুব বড়সড়
জংলি-মতো রক্তলাল গোলাপের গাছ
ধীরে ধীরে দুধ থেকে জেগে উঠছে আজ।
দিকরেখা ছুঁতে চায় ডালের বিস্তার!
ধূমল বিস্ময়, চিন্তা নানান প্রকার
জাগানো ছাড়া সে গাছ আর কী-বা পারে
কূলসীমাহীন এই দুধের সাগরে!
নিলাম জানালা থেকে নিজেকে সরিয়ে
কাফনের মতো সাদা পর্দা টেনে দিয়ে।
রোজেন হাসান
কলোনি
তোমার অশ্রুর মতো চায়ের শেষ ফোঁটা আমি পান করি, চা–শ্রমিকদের কথা মনে করে। অল্প মজুরির ক্ষীয়মান দেহের স্বেদের কথা মনে করে এই ফোঁটা আরও উজ্জ্বল আর দ্রাক্ষার চেয়েও তীব্র হয়ে ওঠে। ভোরবেলার সসীম বারান্দায় চা-মালিকের বাংলোর দিকে আমার দুরবিন, আমি শুনি চা-গাছেরা গাইছে কলোনির মাহাত্ম্য।
নীরবতার ঋতুতে বিদ্ধ এই বাগান, অযুত বোধিবৃক্ষের তলে; শ্রমণেরা পুড়ে যাচ্ছে ছায়ায়।
ইতিহাসের সুখীতম এই মুহূর্তে আমার ব্যক্তি–ইতিহাস বিশ্বের রূপক হয়ে ওঠে। এক মহান পুঁজি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের এই কোম্পানি–শাসনে আমি পান করি তোমার
না–ফেলা অশ্রুর ফোঁটা।
আমি আমার সুখীভাবের কাছে নেশাসক্ত পরিহাসপ্রবণ, এই ভোরে।