অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান
অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

গুচ্ছকবিতা

তোমাকে ভাবতে গেলে কিছু নেই, ফাঁকা

কুত্রাপি

৫১৪

কলায় বিজ্ঞান নেই, বিজ্ঞানে কলা
বলা আছে মূর্খের অভিধানে ভেতো বিদ্যার ব্যকরণ
সবই জানে সে তো এলিয়েন প্যান্ডোরার বাক্সে থাকা অমৃত
ভাণ্ড তাহার ভান্ডারবিহীন ভাদ্রপ্রবণ স্নায়ুবিকারি
আর্দ্র লবণের খাঁজে জোঁকেরা যেমন,
লোকেরা এমন হলে ছেড়ে দাও সালতামামির সুতা
আলতা মামির পায়ে মামার উদাসীন চোখে চলন্ত পায়েদের প্রজাপতি ছাপ
বলেন তো, নায়ে ঘের বিঁধে গেলে বণিকেরা বোকাসোকা থাকে?
খোকারা ধোকায় পড়ে, বুড়োদের কি খবর, বাছা?
নাচার জন্যে চাই মুদ্রা ও মন্ত্রমুকুল, তোমাদেরও বশ করে আবোল আর তাবোলের ছলা?

৫২৪

‘আত্মনং বিদ্ধি’ বলে লোকে
ভাত তো সমৃদ্ধি বলে শোকে
তোকে বলেছি, টাকাপয়সা নয়, কাকা যা কয়, তা নয়, মানুষের রূপটা আলাদা
যা গাধারাও বোঝে, তাতে চৌকস চিলেদের পোষে না
বউ রস দিলে ঢের বসে না মন বিষয়ে বিতৃষ্ণা বিশদ বিলোপন হয়
ছিল পণ জয় করবার লোভ–হিংসার ভরা থলি
বলি, এবেলা অধ্যয়নে আসো
বদচয়নে কাশো কেন অহেতুক, ভাসমান চেচুয়ার বিল?
যে ঠুয়ার কিল খেয়ে হয়ে গেছ বাঁকা,
চাকা লাগিয়ে তারে চালাতে লাগে রাজপথ, তোর পায়ে লেগে আছে আন্ধার গলি।

৫৩৩

খাতায় খতনা হলে অক্ষরে অধিবাস শক্ত
মাথায় সৎ না হলে লক্ষ্যরে যদি চাস পোক্ত প্রকার
বেকার
এ কার মাথা? কোন দিকে ফিরে দেয় বজ্রনিনাদের বিতণ্ডা বাতাবর্ত?
পতন যা ছাতা ধরত, তারও শেষ পাটাতন পিচ্ছিল
কাটা মন বিষ দিল ধামাধরা খয়রাতে খণ্ডকপাল
জামা পড়া কয় রাতে স্বপ্নরা ল্যাংটা হয়ে দৌড়ের দুয়ারে খায় ধাক্কা ও ধর্মাবতার?
কুয়ারে হায় পাক্কা সমুদ্র ভেবে মুদ্রণমাধুরীর গুণে গুদারা দেখাও
উদারা–মুদারা শেখাও তবে সহস্রারের দিকে ডিগবাজি শিখেছে সব সাত্ত্বিক গাতা-গর্ত।

৫৪৭

তোমাকে ভাবতে গেলে কিছু নেই, ফাঁকা
ঝাঁকা ভরে ছেঁকে তোলার কথা মনে হলে খুন হয়ে যাই
নুন বয়ে বেড়ানো স্বভাবে আর পারি না
নাড়ি না পাগলের মতো সাঁকো, তবু আউলা জীবন
বাউলা বাতুলে দেয় ক্ষণিকের ভুলে থাকা প্রেসক্রিপশন পরাঘুম
মরার ধুম পড়ে গেলে অসহায় হয়ে দেখি, আমি মরি নাই
ঝরার মৌসুমে আমি কেন পড়ে থাকি ঘাসের মতন
যতনে সন্দেহ বাড়ে, আরও বাড়ে জলাতঙ্ক রোগের রেওয়াজ
ভোগের আওয়াজে কেন শব্দকে মাড়িয়ে যাওয়া ধরি না!

৫৪৯

দুঃখ ঝুলিয়ে দিয়েছি তেমাথায়
কে মাথায় রাখে মজে যাওয়া পুকুরের তেজ
ভিজে গেলে একমাত্র শীতের পোশাক
বেক ছাত্র আসে রোদে
প্রবোধে প্রত্যেকেই মাস্টারমশাই মনমাতবর
বন রাতভর কাঁদে
অনুনাদে অন্তর ছলকে গিয়েই দেখে শূন্য পাতার হাড়গোর
অন্য ত্রাতার ঘরদোরে ফোটে কলি
অঞ্জলি উল্টে গেলে কেউ আর লেখে না ফুল বাকির খাতায়