ডেনিস লিভারটভের (২৪ অক্টোবর ১৯২৩—২০ ডিসেম্বর ১৯৯৭) প্রতিকৃতি অবলম্বনে গ্রাফিকস: প্রথম আলো
ডেনিস লিভারটভের (২৪ অক্টোবর ১৯২৩—২০ ডিসেম্বর ১৯৯৭) প্রতিকৃতি অবলম্বনে গ্রাফিকস: প্রথম আলো

ডেনিস লিভারটভের তিনটি কবিতা

পরবর্তী মাঠের দিকে

ডেনিস লিভারটভ বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান মার্কিন কবি। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে হলেও পরবর্তীকালে মার্কিন লেখক মিশেল গুডম্যানকে বিয়ের সূত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। অধিকাংশ গবেষকের মতে, তিনি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত ছিলেন ‘ব্ল্যাক মাউন্টেন’ ও ‘ইমেজিস্ট’ কাব্যধারায়। তাঁর কবিতায় অদ্ভুত সমান্তরালে হেঁটেছে আধ্যাত্মিক মরমিবাদ এবং তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক সচেতনতা। কবিতা রচনার ক্ষেত্রে তিনি ‘অর্গানিক ফর্ম’ তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন, যার সারকথা হলো কবিতার ভাবই তার নিজস্ব ছন্দ ও রূপ নির্ধারণ করবে। যুদ্ধবিরোধী সক্রিয়তা, সামাজিক ন্যায়বিচার, নিবিড় প্রকৃতিপ্রেম এবং বিশ্বাসের গভীর অন্বেষণকে উপজীব্য করে গড়ে ওঠা তাঁর সৃষ্টি একই সঙ্গে শান্ত অথচ বৈপ্লবিক। তাঁর প্রকাশিত ২০টির বেশি কাব্যগ্রন্থের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হিয়ার অ্যান্ড নাউ (১৯৫৭), দ্য জেকবস ল্যাডার (১৯৬১), সরো ড্যান্স (১৯৬৭) এবং ইভনিং ট্রেন (১৯৯২)। নিগূঢ় পর্যবেক্ষণ আর মরমি চেতনার মিশেলে তৈরি তাঁর কবিতা পাঠকদের নিয়ত এক অচেনা আধ্যাত্মিক পৃথিবীর মুখোমুখি দাঁড় করায়। এখানে এই কালজয়ী কবির তিনটি কবিতার অনুবাদ রইল। ভাষান্তর করেছেন রাব্বী আহমেদ।

বিবাহ প্রসঙ্গে

দাম্পত্যের শিকলে আমাকে বেঁধো না, আমি চাই
বিয়ে, এক
সাক্ষাৎ—

আমি তোমাকে বলেছিলাম
মে মাসের সবুজ আলোটার
কথা।

(নীরবতার এক পর্দা নেমে আসে
ডাউনটাউন পার্কে,
বেলা
শেষের শনিবার
বিকেল, দীর্ঘ
ছায়া আর ঠান্ডা

বাতাস, নতুন
ঘাসের গন্ধ,
কচি পাতা,

প্রাচুর্যের চৌকাঠে দাঁড়ানো ফুল—

আর সেখানে দেখা হওয়া সেই পাখিরা,
যাত্রাভঙ্গ করা পরিযায়ী পাখি
তিনটা পাখি প্রতিটি ভিন্ন প্রজাতির:

আজেলিয়া-বুকবিশিষ্ট গোল মাথার, কালো,
ডোরাকাটা, প্রফুল্ল, ইঁদুরের ন্যায় পিছলে চলা অন্যটা,
আর সবচেয়ে ছোট্টটা—গর্স ফুলের মতো সোনালি আর
পরে আছে এক কালো ভেনিসীয় মাস্ক।

আর তাদের সঙ্গে অকিঞ্চিৎকর তিনটা ঘিন্নি-পাখি,
নরম পালকে ঢাকা, ঝলমলে বাদামি—

আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম
আধঘণ্টা জাদুর ভেতর
কাছ দিয়ে কেউ যায়নি,
পাখিরা আমাকে দেখেছে আর

থাকতে দিয়েছে আমাকে
ওদের কাছাকাছি।)

এটা অপ্রাসঙ্গিক নয়:
আমার সঙ্গে
দেখা হবে,

আর দেখা হবে তোমার সঙ্গেও
এমনই
এক সবুজ

বাতাস-প্রান্তরে,
শিকল পরে নয়।

[১৯৬৩ সালের পোয়েট্রি ম্যাগাজিনের অক্টোবর-নভেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত।]

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজন্ম আপসহীন ডেনিস লিভারটভ ছিলেন তাঁর সময়ের প্রকৃত প্রতিনিধি; যাঁর দ্রোহ ও কবিতা যুগপৎ মানবতার জয়গান গেয়েছে।

বিয়ের যন্ত্রণা

বিয়ের যন্ত্রণা:

ঊরু আর জিহ্বা, প্রিয়,
এতে ভারী হয়ে থাকে,
দাঁতের ভেতরেও করে ওঠে টনটন।

আমরা আত্মিক মিলনের খোঁজে যাই,
আর ফিরিয়ে দেওয়া হই, প্রিয়—
প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাছ থেকে।

এটা লিভায়াথান (প্রকাণ্ড তিমি), আর আমরা
তার পেটের ভেতর,
খুঁজছি আনন্দ—সামান্য আনন্দ,
যা এর বাইরে চেনা যাবে না।

দুজন দুজন করে
যন্ত্রণার এই নৌকায়।

আত্মার শুশ্রূষা

শোক আর স্বপ্নের
সেই রাখাল

নিয়ে চলেন তাঁর পাল
পরবর্তী মাঠের দিকে।

তাঁর সবটুক দরদ দিয়ে
তিনি শুনেছেন

ঘণ্টার ঢং ঢং
কিন্তু ভেড়ারা

ক্ষুধার্ত আর প্রয়োজন
ঘাস, আজ ও

প্রতিদিন। সুন্দর
তাঁর ধৈর্য, দীর্ঘ তাঁর

ছায়া, উপত্যকা বেয়ে
নেমে যাওয়া পালের

তরঙ্গ-তোলা সে শব্দ।

[উৎস: পোয়েমস ১৯৬০-১৯৬৭ (নিউইয়র্ক: নিউ ডিরেকশনস পাবলিশিং, ১৯৮৩), পৃষ্ঠা ৯২]