অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান
অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

গুচ্ছকবিতা

পালিত পাখির মতো যত দিন তার

শুভ বিবাহ

বিবাহ গুঞ্জনে সুরেলা পাখিগুলো
গাইল প্রেমগান, গাইল নানা কথা
দুধারে রাস্তার বাহারি তৃণলতা
বলল ফিসফিস, বলল ব্যাকুলতা

বাতাসে ফুল ঘ্রাণ, ফুটছে গাঁদা ফুল
শিশির কার্তিকে সন্ধ্যা এসে গেল
মনেতে ঝরঝর, মন কি প্রবাহিত?
সদ্য ফোটা ফুল, হবে যে বিবাহিত

বিবাহ শুভ হবে, বিবাহ মধুরতা
বাতাসে গান ভেসে শোনাবে চতুরতা
সুরেলা পাখিগুলো বিবাহ গুঞ্জনে
শেখাবে তাল–লয়, শেখাল বোঝাপড়া

হাওয়াতে ভেসে তাই, তুমি যে বিবাহিত
তোমাকে দূরে ঠেলে, কান্না পায় খালি
কান্না পায় খালি, মন কি প্রবাহিত?
সদ্য ফোটা ফুল, হলো যে বিবাহিত

প্রস্থান

মুগ্ধ হওয়া শেষ হলে সেই ঘোরতর সমাহার
ফেরত পাঠাই তাকে, যা যা ছিল, তার যত মনোযোগ
গৃহলতা ঘিরে ঋতুভেদে ঘরে ঢোকা আধো আলো–রোদ

কতিপয় কটু কথা তাকে বলে ফেলে
সারা নিশি তারকারাজির সাথে জাগি
ভাবি, শীতরাতে আমি বুঝি টাকি মাছ
রাঁধুনীর হাতে গরিব দেহের আয়ুটুকু হলো শেষ!

তুরীয় প্রেমের অবসানে তাই, মুখ দেখাদেখি নাই।

হেমন্ত ভালো লাগে

কাঁচা রোদের নরম রংটুকু,
তোমাকে নিয়ে দেখতে চাই সোনা!

গ্রাম সালিসি ঘটার আগেভাগে
বলতে চাই অনেক চুপকথা

ধানের খেতে, আইলে বসে থেকে
ধানের গুণ তার ধর্মমতে
পায়ের পাতা ভিজিয়ে দিয়ে গেলে
মন চাইলে হাঁটতে যাব, আর

ভরা বিকেলে, ঝরবে শুধু শুধু
                    ঘন কুয়াশারেখা

ধু ধু ধোঁয়াশা ছাড়া যে কিছু নাই
সে খিলখিল চোখা হাসিতে তাই
এ মন চায় তোমার দেখাটুকু

যে বিকেলের পরপরই লাগে
সারাক্ষণ ঠান্ডা হিম হিম!
বিরল সেই শূন্য সাদা দিনে
ঝগড়া ভুলে মোরা গাইব গীত

মোরা দুলব রে ছাতিমের ঘ্রাণে
তা তা থই থই বলে নাচব, সোনা!

লাঞ্চ বক্স

খোয়াব ব্যতীত তুমি নাই
ফলত সন্দেহ হয়, জাপটে ধরা মানবহৃদয়
ভয় নিয়ে তবু ভাবে ভববন্ধনের সব কথা

হেমন্তের বিকিরিত আলো
ঘুমের ভেতর ভালো লাগে
সবজির দাম কমা শীত দেখি,
                    কিঞ্চিৎ খোয়াবে

দেখি, ধবধবে সাদা মুলা তিতপুঁটিসহ রেঁধে
লাঞ্চ বক্স নিয়ে যাও ভালো আর মন্দে

শরীরের ছন্দ ভালো নেই
তাল–লয় জেনে–বুঝে শ্বাস নিতে কষ্ট!
প্রেশারের ওঠানামা টের পেলে
প্রতিরোধে দিই তাকে লাঞ্চ বক্স, তাকে দিতে থাকি
             ভবদুনিয়ার টেলিপ্যাথি।

বিপ্লবস্মৃতি

অনেক বিপ্লব জমা পড়ে আছে মনে।

হাত ধরে হাটে গিয়ে মাছ কিনে ঘরে ফেরা রাত
ফিরে যদি পাই, মনে হবে
তরতাজা ছাতিমের মতো শুয়ে থাকা
                                        ও-শয়নভঙ্গি

স্বর-ছন্দে যতবার হয়েছে সাক্ষাৎ
পালিত পাখির মতো যত দিন তার
বুকজুড়ে থেকেছি গোপন
                 মধু মধু ছিল সেই সব

যৌথতার দিনগুলো রান্নার আনন্দে মেতে ছিল
ভাবলেই মনে হয়, তেল–নুন–ঝালে কতকাল দেখা নেই তার

বন্যাকবলিত গ্রামে কচু ফুল হয়ে ফুটে ছিলাম আমরা
যেন ছিলাম কাদামাখা বোরো ধানের আইলে
মাথা বের করা টাকি মাছ

বহুবার নিষেধ না মেনে দুইজন
                                খেয়েছি গন্দম
দুনিয়ার দুই মেরু প্রান্তে
                                হয়েছি নিক্ষিপ্ত

ঠিকঠাক ফুটে উঠবার আগে আমাদের মন
নিশিদিন হয়েছে অঙ্গার।