পাথরগলা দুপুর ফেটে যায়
ডালিমের মতো। একাকী পথিক হেঁটে যায়
পিপাসায় ফাটে বুকের ছাতি
বেদনার বেসাতি
নিয়ে গলগল
উগরে পড়ে তপ্ত অনল
কোথাও এতটুকু সুপান্য
জল নেই, পথিক ভাঙে মধ্যাহ্ন
চোখের উষ্ণতা কপালের ঘাম
মুছতে মুছতে ডাকে পথের নিলাম
চাঁদনিতে এখন জ্যোৎস্নার ঢল
নেই। অনর্গল
বয়ে যায় দুঃখ-শ্রাবণ
শাণিত মেধাবী মুখটিতে সারাক্ষণ
জমে থাকে মেঘ
যা ছিল স্বপ্নাবেগ—
ঝরে পড়ে। যা ছিল উজ্জ্বল
বিভা, ব্যথিত কপোল
বেয়ে নীরবে নিভে যায়
বেদনায়
শুকনা লাকড়ি জ্বলে চুলোর আগুনে
জল আর জ্বাল গুণে
চাল ফুটে হয়ে যায় ভাত—
এভাবে জ্বলে যায় চাঁদটির সোনালি প্রভাত
জ্বলে স্বপ্নের রং, জলে কৈশোর
শ্বশুরালয়ের উনুন এখন তার স্কুলঘর
অন্য আলো–য় লিখতে পারেন আপনিও। গল্প, কবিতা, প্রবন্ধসহ আপনার সৃজনশীল ও মননশীল যেকোনো লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।ই–মেইল: info@onnoalo.comঅন্য আলোপ্রথম আলো ভবন (৭ম তলা)১৯ কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
আকাশে বহুবিধ মেঘ
জমেছে। সাগরে টেরাকোটা আবেগ
জমেছে। উঠেছে অভিমানী ঢেউ
কেউ
জানে না তা। মনখোলা
বাতাসে দোলা
লেগেছে। ভেজা বৃষ্টিতে
ভীরু দৃষ্টিতে
কে যেন ভিজিয়ে দিচ্ছে
সমূহ ইচ্ছে
খোলা দেখে আমার শুভ্র আকাশ
বেদনা জমাতে কেবল কে তুই তাকাস?
অজস্র মুখ দেখি এই শহরে
বহু রং মেখে অন্তরে
বাহিরে সাজে কুগন্ধি মাকাল
নিজেদের ত্রিকাল
সাজায় শঠতায়
কপটতায়
ভরা এসব মুখের ভিড়ে
কাকে যেন খুঁজি ধীরে ধীরে
তবু অদ্ভুত ব্যথানন্দে
ভালো-মন্দে
অবিরত রাখি দিলখোশ
কোথাও মানুষ দেখি না—চারদিকে কেবলই মুখোশ
স্বপ্নরা পলাতক পাখি
কোথায় রাখি
শূন্য খাঁচাটি। খাঁচায় লেগে আছে প্রণয়ের ছাপ
স্নেহের উত্তাপ
স্বপ্নরা অচিন হাওয়া
ধাওয়া
করছে অন্ধ বুনো মোষ
রোষ
ধরে আছে তবু পরিযায়ী ভাঙা মন
অনুক্ষণ
ভাঙা সংসারে
মানুষ কতটা স্বপ্ন আর ধরতে পারে
তবু মাটির ভাঙা পাত্রের মতো
শূন্যতায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যত
স্বপ্নগুঁড়া দুহাতে কুড়াই, যেন সোনার ঝিনুক
বুক
ভরে নিই নতুন হাওয়া
পুনরায় করি স্বপ্ন ধাওয়া