বাড়তি বোঝা হয়ে আছি
মানুষের শরীরে চর্বি জমলে যেমন বেখাপ্পা, বেমানান লাগে অন্যদের চোখে
তেমন হয়ে গেছি।
কেউ বসতে বলে না
দাঁড়ায় থাকি। দাঁড়ায় থাকতে থাকতে কোমড় ব্যথা করে
তবু কেউ বসতে বলে না
কেউ কাছে ঘেঁষতে দেয় না
গায়ের কালো বর্ণ বলে কেউ মুখ তুলে তাকায়ও থাকে না
আজন্ম পাপী বলে ক্ষমাও করে না কেউ
পায়ের তলায় পিষ্ট হওয়াই এই ছোট্ট দূর্বাঘাসের নিয়তি।
বারবার উপযাচক হয়ে ‘হাই’ দিই
কিন্তু উত্তর না পেয়ে
নিরুত্তরেই কাটায়া দিতে হয় জীবন।
কী হবে নিজের দিকে তাকিয়ে
চলেই তো যাচ্ছে...
হাজারো চেষ্টা করেও
বেঁধে রাখা যাচ্ছে না তাকে
মনে হচ্ছে হাতের তালুতে
কেউ গরম কয়লা রেখে দিয়েছে!
আমি গাধার মতো নির্বোধ ছিলাম
যে কারণে তুমি খুব সহজেই আমাকে ব্যবহার করতে পারতে
আমি ছিলাম তোমার হাতের শেকল পরা বানর
যে কারণে তুমি চাইলেই আমাকে পারতে নাচাইতে
আমি ছিলাম হাতির মতো
আমাকে হাটে–বাজারে প্রদর্শন করে
তুমি রোজ রোজ আয়রোজগার করে খেতে
ব্যঙের মতো দিনযাপন করতাম
যেহেতু কুয়োর ভেতরে থাকতাম
ফলে একটু বৃষ্টি হলেই ঘর থেকে বের হয়ে হাঁটুপরিমাণ জলের ভেতরে
গলা ফুলিয়ে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করে তোমার গুণগান করার চেষ্টা করতাম
পশু সম্প্রদায়ের ভেতর আমিই সবচেয়ে হিংস্র অ্যাটাকিং জানোয়ার ছিলাম
যে কারণে খাঁচার ভেতর আটকে রেখে
আমাকে সারা দিন বসে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলে
আমি চাইছিলাম সব সময় তোমার দুহাত সৌন্দর্যে ভরা থাক
এ কারণে তোমাকে বারবার ফুল উপহার দিয়ে গিয়েছি
ফুল উপহার দিতে গিয়ে যেসব গাছ থেকে ফুল ছিঁড়েছি
সেসব গাছ চিৎকার করে উঠে আমায় বলেছে, ঘাতক, ঘাতক—
আমি পানি পান না করেও তোমাকে পান করানোর জন্য
দিনের পর দিন ব্যাগে পানি বহন করে
নিজেকে বুঝ দিচ্ছি, আমি তো মরুর উঠই হয়ে উঠেছি
নইলে কেন এই মরুতে আমি জীবন কাটিয়ে দিতে এসেছি।
জল ঘোলা কম করিনি
যখন বুঝেছি
পথ অথই
তখন অনুতাপও আর রাখিনি
জন্ম থেকেই যে
ট্রেডলমেশিনের ওপর
হাঁটছি আর হেঁটেছি!
চোখরোচক মেয়ে দেখে
রাগে ফুঁসছে হাওয়া
মিসেস মিসেস বলে ডাকি
এসো মিসেস
এবার সবকিছু ডিসমিস করি
আমি ঘোরাফেরা করতে চাই
তোমার শরমের কাছে
আমাকে সুযোগ দাও
নয়তো ভিলেনরা
শিস ফোটানোর সুযোগ পাবে।
আমি তোমায় দিয়েছি দাওয়া
এসো, এসো মিসেস
রাগে ফুলছে হাওয়া