আজকের দিনে কেউ আসবে না তুমি কুমকুম মেখেছ কি না দেখতে!
তোমার চুলে ফুল না ঝরা পাতা, মুখে হাসি না কান্না,
আজকের দিনে তুষার পড়লে তোমাকে বাঁচাতে কেউ আসবে না!
না প্রিয় কুকুর, না প্রেমিক, না পেটুক বিড়াল!
আজকে শহর সব থেকে নিষ্ঠুর, বছরের নিষ্ঠুরতম দিন আজ,
দুঃখ পেলে পাবে, মরলে মরবে, তোমার কান্না মিশে যাবে
কার্জন হলের পুকুরে; আজকে দুপুরে জেনে নাও ভালোবাসা কাকে বলে,
তোমার তুচ্ছ জীবনে এসেছে শিক্ষার দিন, শিক্ষার্থিনী, শেখো,
আজকের দিনে কেউ আসবে না, তুমি নববধূ হতে চাও কি না জানতে!
তোমার আঙুলে আজ কাঁটা ফুটুক, ব্যথা দিক, কাল তুমি গোলাপের দিবাস্বপ্ন দেখো!
২.
হাজার বছর ধরে ভালোবাসো, কেউ দেখুক, না দেখুক;
মনে করো তোমার পা সাপে কেটেছে, তুমি বুঝতে পারোনি,
বা হয়তো দংশনকে ভেবেছ আদর। নীল হলো সারা গা,
দুচোখে বাজল ধূসর বাঁশি, তুমি টানটান হয়ে রইলে,
তবু বুঝলে না, এটা প্রজাপতি নয়, এটা সাপ, এটা ঘাতক!
হঠাৎ তাবৎ রক্ত কেঁদে উঠল নবজাতকের মতো,
ভাবলে, মরেই যাচ্ছ, কিন্তু না; এ আসলে আনন্দ,
এই বিষ, বিষে বিষক্ষয়, বেঁচে থাকা, একরাশ বুদ্বুদ!
কেউ শুনুক, না শুনুক, ভালোবাসো হাজার বছর ধরে,
তোমাকে যে সাপে কেটেছে, এ কথা কেউ না জানলেও চলবে!
৩.
কিছুই না; আগামসি লেনের তন্দুরি
যেমন সকালবেলা উষ্ণ হয়ে ওঠে,
যেমন তিনটে খেলে ক্ষুধাই থাকে না;
তেমনই তোমার কোনো ছবি হয়তোবা,
(পুরান ঢাকার রোদে তোলা হয়তোবা)
শান্তি দেয়, মাশরেফা; কিছুই না, যেন
তুমিই মামুলি এই আগামসি লেন।
৪.
দূর, দূর থেকে যত পাখি
উড়ে আসে, চোখ মেলে থাকি,
তাদেরই মধ্যে সে কি আছে?
ভিড়ের মধ্যে সে কি থাকে?
নাকি সে-ই ভিড়? সে-ই দেশ,
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া;
মাশরেফা, শুধু মাশরেফা?
৫.
প্রায়শই কিছুই লাগে না।
একটা দেয়াল ঠিকই আপন স্বভাবে ভেঙে পড়ে;
দেয়ালের এপারে–ওপারে
যারা ছিল, আশ্চর্যজনকভাবে যারা
দেয়ালে দুকান পেতে গড়ে তুলেছিল যোগাযোগ—
তারা হতভম্ব, খুব অন্ধ হয়ে যায়,
আনাগোনাহীন, প্রায় বোবা হয়ে যায়;
দেয়াল কিংবা দেয়ালের না থাকায়
আসলেই বড্ড যায় আসে।
৬.
আমি স্বপ্নের মধ্যে স্বপ্নে দেখেছি একটা স্বপ্ন
ধীরস্থিরভাবে উড়ে যাচ্ছে টিকাটুলির দিকে,
যেখানে তুমি ঘুমিয়ে আছ,
যদিও মুখভাব দেখে মনে হচ্ছে, মশকরা করছ ঘুমের সঙ্গে,
আর একটা ছুরি যেমন আয়েশ করে বুকের ভেতরে গেঁথে যায়,
তেমনি ওই স্বপ্নটা যখন প্রেতচ্ছায়ার মতো
তোমার ঘুমন্ত শত শত চোখের ভেতরে ঢুকে পড়বে,
তখন মুখভাব দেখে মনে হবে, তুমি মশকরা করছ স্বপ্নের সঙ্গে,
স্বপ্নের মতো, সেয়ানে সেয়ানে...
৭.
এই মাশরেফা যে-ই হোক, যে পালকই হোক, তাকে আমি
লুকিয়ে রেখেছি যত্ন করে;
পাখির বুকের গূঢ় পালকের মতো;
নদীর গহন পলি-মৃত্তিকার মতো;
এই নদী যে নদীই হোক, যে পলিই হোক, তাকে আমি
লোকচক্ষু, লোলচক্ষু থেকে,
সমূহ উন্মাদনা, বিশ্রম্ভালাপ থেকে দূরে
লুকিয়ে রেখেছি, তাকে সরিয়ে রেখেছি যত্ন করে।