
প্রতিস্রুত
ছড়িয়ে পড়ছে দৃশ্য—
প্রিজমের ভাঙা আলো বিচ্ছুরিত হলো
পৃথিবীধাতব পৃষ্ঠে। শুষে নিবে সবটুকু? নাকি
দ্বিধায় বিদীর্ণ হবে প্রতিসরণের
সরল সূত্রের সাথে।
এমন আয়না কই
বিম্বের সবটা ছায়া ধরে রাখে নিজস্ব মুকুরে
যেমন তোমাকে রাখি, পত্রপুটে আঁখিপদ্মসহ
নির্জলা মিথ্যার মতো সকল ডিটেইলস
হঠাৎ কখনো যদি ধরা পড়ি আততায়ী চোখে
শীতল খুনির মতো লহমে যে পড়ে নিতে পারে
একান্ত নিজস্ব সব স্বরভঙ্গি, অতিমুদ্রাদোষ!
কোথায় লুকোব তবে প্রতিফলনের
এমন বিম্বিত বিশ্বে?
বরং আয়না শেখো জলের স্বভাব
শুষে নাও সবটুকু, স্বীয় নিমজ্জনে।
প্রথম প্রেম
রূপক অথবা কোনো ইঙ্গিতের মুখাপেক্ষী নই
শিশুর চাওয়ার মতো স্বচ্ছ আর ভণিতাবিহীন
তেমন প্রাঞ্জল-প্রায় প্রার্থনার মতো করে আমি
তোমার ইরাদা করি, ও আমার ওয়ালিয়া দীন
ইডেনের প্রান্ত থেকে আমাদের বিচ্যুতির পর
মর্ত্যভূমে এসে দেখি সবই হেথা অধিপ্রাণময়
পাথরে লুকোনো নৃত্য, শব্দ করে বয়ে চলে নদী
আছে প্রেম সাথে নিয়ে বিরহের অসহ প্রণয়
এমন বালাই প্রভু স্বর্গলোকে দেখিনি কখনো
ঈষৎ কম্পিত সাড়া ইশারায় কটাক্ষের ভুরু
সবই তো আলাদা লাগে কী কী সব হাহাকার জাগে
বিচ্ছেদের পরই তবে আমাদের প্রেম হলো শুরু!
তুমি কই কে কোথায় কবে আর দেখা হবে বলো
সীমানারক্ষীর মতো জেগে থাকা বেলাভূমিটার
নজর এড়িয়ে ছাড়ি কী করে এ জলাবদ্ধ ভূমি
ও হাওয়া কোথায় তুমি পৃথিবীর আছো কোন পার
গুজরান করি দিন অন্তরিন অগত্যসহন
দ্বীপদেশ ছেয়ে আছে ধুধুমার আদিগন্ত নীল
অনেক হলো তো এই অভিশপ্ত পথ চেয়ে থাকা
খোরাসান হতে এসো ভরে দাও আমার নিখিল
তোমার কাছে পাওয়া
নরম পলির দেশ। পথ ছিল খানাখন্দভরা
জলে ও জঙ্গলে কত শ্বাপদের অবাধ চারণ
আবহাওয়া অনুকূল সেটুকুই হয়েছে সহায়
পেরুতে তেরো শ নদী মাঠ-ঘাট আর বাদাবন
হেথা মাঠ ফেটে যায় বোশেখের অনল চিতায়
তবুও পৌষের রোদ ধরে রাখে কত যে দরদ
পাতা ঝরবার দিনে নেমে এসে প্রিয় মর্মরতা
হাহাকারে পা জড়িয়ে অনাহূত গতি করে রোধ
এত যে মাদল ধ্বনি ঋতুভরা এত কলরব
লাউডগা ধানখেত আরও কত পিছুটান, সব
তুচ্ছ করে একদিন আসব যে তা–ও জানতে কি?
আদিগন্ত হেঁটে এসে ঝাউবন পার হয়ে দেখি
আমাকে দিয়েছো তুমি অন্তহীন সমুদ্রের লোনা
বিস্বাদ, তবুও তারে কোনো দিন ফিরিয়ে নিয়ো না
প্রাকৃতিক
নৈযোগাযোগ, ভাষারা লুপ্ত
কথা প্রয়োজনহীন
আমরা দুজন
একটা পাথর
হয়ে আছি এত দিন!
পেছনে সবুজ আবছা সবুজ হলুদ বরণ নদী
ঢেউদলগুলো সৈনিক তার—
আমাদের সেনাপতি
সাদা–কালো দুই ঘরেই সচল
মুখোমুখি প্রায়শই তো
কথা নেই তবু, না দেখা দেয়ালচৌদিকে প্রসারিত
সেই অ-চলন ভাঙার প্রয়াসে
কলোরিত ঝরনার
পথ চেয়ে
স্বীয়
বুদ্বুদ জলে ঘেমে-নেয়ে একাকার।
নেক্রোফিলিক
তোমাকে দেখছি ডোমঘর থেকে একা
তোমাকে দেখছি পাতালের মৌমাছি
রক্তে মাংসে গড়িয়ে পড়ছে ক্লেদ
ঊরুসঙ্গমে এতটুকু বেঁচে আছি।
কাল সারারাত রেললাইনের পাশে
একা এক ঘরে লুকিয়ে নেমেছে চাঁদ
গোরস্তানের ঘ্রাণ ভরা মৌতাতে
দেহভূমি তার হয়েছিল উৎখাত
আমার কী গেছে কীই–বা হয়েছে তাতে
মদের নেশায় সারা জাহাঁ মিসমার
ছিন্নচণ্ডা দেহভরা কঙ্কালে
জমেছে শেওলা সন্নিপাতের হাড়।
তাতে শোরগোল ঠোকাঠুকি লেগে গেলে
আড়াল করার উপায়হীনের মতো
আমরা কাটছি বরফের জাঁতাকলে
পিষ্ট দেহের যতটুকু অক্ষত
যতটুকু তাতে লেগে আছে কোমলতা
মৃত্যুও যার দেয় নাই উপশম
সে দেহে জোছনা ঠিকরে বেরুতে দেখে
ডোমিনীকে কাছে টেনে নিল একা ডোম