অলংকরণ: মাসুক হেলাল
অলংকরণ: মাসুক হেলাল

গুচ্ছকবিতা

শবে বরাতের রাত

১.

আমাদের গরিব তালতলায়, কলোনির মসজিদে

নামাজ পড়তে পড়তে ক্লান্ত হলে কার্পেটে
শুয়ে থাকতাম শবে বরাতে!

এই একটাই রাত, আমার দেখা যা জেগে
থাকত সারা রাত, আল্লাহর খোঁজে।

কখনো জিকিরে কখনো মায়ের বানানো সন্দেশ
গরুর মাংসের ঝোলের সুগন্ধে...

দিনভর হালুয়া রুটির খোঁজে মানুষজন আসত
আমাদের গরিব কলোনিগুলোর বাসায় বাসায়

মসজিদ থেকে ভেসে আসা জিকিরের শব্দ ম ম
করত

সে এক অলৌকিক আশ্চর্যের রাত...

২.

শবে বরাতে আমাদের মহল্লার কেউ কেউ আতশবাজি
ফোটাত

কেউ মরিচা ছোটাত
এই এক আশ্চর্যের আনন্দের দিন ও রাত ছিল আমাদের

ঈদের দিনে নতুন কাপড় না পাওয়ার বেদনা

ছিল অনেকের। ছিল, কোরবানি দিতে না পারার বিষাদও
অনেকের বড় ঈদে...

কিন্তু শবে বরাতে আমাদের গরিব তালতলায় অনেক

হাসি
অনেক আনন্দ হতো, নক্ষত্রের মতো

৩.

রাত্রি দুইটার পরে, মসজিদের বারান্দায়
ফেরেশতাদের সাথে দেখা হতো

ভিতর থেকে জিকিরের শব্দ, আর বাইরে আমাদের

ঘুমে ঢুলো ঢুলো চোখ
অবয়ব মনে পড়ে না, শুধু মনে পড়ে, তালতলার
গরিব কলোনির ছাদে ফেরেশতারা নেমে আসত

ইয়া বড় তাদের ডানা, সফেদ সাদা
শবে বরাতের রাত্রে...

৪.

শবে বরাতের জন্য বোমা বানাতে গিয়ে হাত কেটে গেল

এক বড় ভাইয়ের একবার
একজন নামাজ পড়তে গিয়ে আর ঘরেই ফিরল না
আজীবন

একবার কবর জিয়ারতে গেল বন্ধুরা মাঝরাতে, নামাজের

শেষে
একবার বন্ধুরা জোছনা চুরি করতেও হাত বাড়াল চন্দ্রের
দিকে

৫.

নামাজ শেষে আব্বু এলেন
আম্মু দিলেন ক্ষীর

ধবধবে জোছনা ভেদ করে
দুনিয়াতে নামে

ফেরেশতা অস্থির।
আম্মা হাসলে ভাবি চান্নি রাইত,
এলেবেলে খেলে

শবে বরাতের রাইতে দুয়েকটা জিন
দলছুট, হালুয়া রুটির ঢোলে...