প্রতীকী ছবি অবলম্বনে গ্রাফিকস: প্রথম আলো
প্রতীকী ছবি অবলম্বনে গ্রাফিকস: প্রথম আলো

দেশে–বিদেশে

বই চুরির মামলায় গৃহবন্দিত্বের সাজা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) লাইব্রেরি থেকে বিরল ও ঐতিহাসিক চীনা পাণ্ডুলিপি চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত জেফ্রি ইয়িংকে সাজা দিয়েছেন আদালত। তাঁকে এক বছরের গৃহবন্দিত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তিনি আগে যে সময় কারাগারে ছিলেন, সেটিও সাজা হিসেবে গণনা করা হবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেমন্টের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী জেফ্রি ইয়িং একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন চুরির অভিযোগ স্বীকার করেছেন।

গত বছরের অক্টোবরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করেন। চুরি হওয়া সামগ্রীর ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পরে নির্ধারণ করা হবে। চুরি হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ১৬৮৫ সালের একটি চীনা পাণ্ডুলিপিও ছিল, যার মূল্য প্রায় ১৬ হাজার ৭১৫ ডলার।

প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ইয়িং ইউসিএলএর লাইব্রেরি থেকে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ডলার মূল্যের বিরল বই ও পাণ্ডুলিপি চুরি করেন।

তদন্তে জানা যায়, তিনি প্রথমে লাইব্রেরি থেকে পাণ্ডুলিপিগুলো ধার নিতেন। এরপর সেগুলোর নকল কপি ফেরত দিতেন। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, প্রতিটি চুরির কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি চীন সফরে যেতেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) ক্যাম্পাসে অবস্থিত রয়েস হল

ইউসিএলএর ইস্ট এশিয়ান লাইব্রেরির কর্মকর্তারা কয়েকটি বিরল চীনা পাণ্ডুলিপি না পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, সর্বশেষ ‘অ্যালান ফুজিমোরি’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বইগুলো ব্যবহার করেছিলেন।

বিরল ও মূল্যবান হওয়ায় এসব বই সাধারণ পাঠকের জন্য ছিল না। এগুলো ধার নিতে আগে থেকেই আবেদন করতে হতো। পরে ইউসিএলএর কর্মীরা জানান, অ্যালান ফুজিমোরি নামটি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতেও একই ধরনের চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন।

তদন্ত চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইয়িংয়ের ব্রেন্টউডের হোটেলকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে নকল পাণ্ডুলিপি ও বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করে।

২০২৫ সালের আগস্টে ইয়িংকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে ‘অস্টিন চেন’ নামে একটি ভুয়া পরিচয়পত্র এবং ‘অস্টিন চেন’ ও ‘জেসন ওয়াং’ নামের দুটি লাইব্রেরি কার্ড উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব নাম তিনি ভুয়া পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করতেন।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

গ্রন্থনা: রবিউল কমল