সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়রদের পদমর্যাদা নিয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন মন্ত্রীর পদমর্যাদায়। তখন সরকারে ছিল বিএনপি, মেয়রও ছিলেন বিএনপির নেতা। এরপর ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের চার মেয়রকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কথা বলেছিল। তাঁরা আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও রংপুরে তিন মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজিত করে। ফলে তাঁদের প্রতি সরকারের বিরূপ মনোভাব দেখা যায়। তাঁদের পদমর্যাদা বা সম্মানী সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে এত দিন সবকিছু আটকে ছিল। রোববার প্রথম আলোয় এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই তিন মেয়রের সম্মানীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিমাণ প্রতিমন্ত্রীর প্রাপ্য সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধার সমান বা কাছাকাছি।
মেয়রদের পদমর্যাদা ও সেই সঙ্গে উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা সুসমন্বিত হওয়া প্রয়োজন। কেউ মন্ত্রী, কেউ প্রতিমন্ত্রী আবার কেউ উপমন্ত্রী কেন হবেন। যদি পার্থক্য থাকেও, তার উপযুক্ত যুক্তি থাকতে হবে। কিন্তু নির্বাহী আদেশে এসব সিদ্ধান্ত নিলে মেয়রভেদে বৈষম্যমূলক আচরণের সুযোগ থেকে যাবে। তাই অবিলম্বে সিটি করপোরেশন আইনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ধারা যুক্ত করতে হবে। আইনে শুধু পদ নয়, তাঁর গাড়িতে ফ্ল্যাগ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে কি না, সম্মানী ও ভাতার পরিমাণ প্রভৃতি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। আইনগত ভিত্তি থাকলে কোন মেয়র কোন দলের সমর্থনপুষ্ট, সে বিষয়টি গৌণ হয়ে যাবে। মানমর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা সবকিছুই আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে। মেয়রদের জন্য এটুকু সম্মান অবশ্যই থাকতে হবে।
কলকাতার মেয়র কিন্তু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিছুই নন। তিনি হলেন ‘প্রধান নাগরিক’। সেই হিসেবে তাঁর জন্য রয়েছে বিশেষ পদমর্যাদা। তিনি যে দলীয় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী থেকে আলাদা, কেবল মেয়র হিসেবেই যে তাঁর পৃথক মর্যাদা রয়েছে, তা বোঝানোর জন্য এ ধরনের চিন্তা আমাদের দেশেও করা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।