চি ঠি প ত্র

রাবার চাষ

বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রাবার বাগান থেকে উত্পাদিত রাবার আমাদের জাতীয় সম্পদ; যা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই বনজ সম্পদটি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে রাবার বাগান সৃষ্টি ও কাঁচা রাবার উত্পাদন দ্রুত প্রসার লাভ করে। ফলে সরকারি পর্যায়ে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের অধীন প্রায় ৪০ হাজার একর ছোট-বড় ১৬টি রাবার বাগান থেকে রাবার উত্পাদিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীন প্রায় আট হাজার একর পতিত জমি রাবার চাষের আওতায় আনা হয়। এ ছাড়া রাবার খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বেসরকারি মালিকানায় প্রায় ২০ হাজার একর পতিত জমি রাবার চাষের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। তদুপরি চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে চা-বাগানের পাশাপাশি রাবার বাগান সৃষ্টির কার্যক্রম চালু রয়েছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, বেসরকারি বাগানগুলোতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে সফল বাগান সৃষ্টি ও উন্নত মানের কাঁচা রাবার উত্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সফল রাবার বাগান সৃষ্টি ও রাবারগাছ থেকে লেটেক্স (রাবারের কষ) আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের নিমিত্তে ও সব বাগানে সব কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের রাবারের ওপর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন তথা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা একান্ত আবশ্যক। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের অধীন স্থগিত কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি রাবারের ওপর অভিজ্ঞ, দক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করে সারা দেশে রাবার বাগানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে এ শিল্পের প্রভূত উন্নতি সাধন করা যেতে পারে।
সর্বোপরি আমাদের দেশের উত্পাদিত কাঁচা রাবারে যথাযথ ব্যবহারের জন্য টায়ার ও টিউব, স্যান্ডেল ও জুতা, হুজ পাইপ, ওয়াসার ইত্যাদি কারখানা স্থাপন করে উন্নত মানের রাবারসামগ্রী তৈরি করে বিদেশ থেকে আমদানি করা রাবারসামগ্রীর বিকল্প হিসেবে দেশীয় রাবারসামগ্রীর ব্যবহার দ্বারা আমাদের অনেক বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় সম্ভব। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আ ফ ম মোহেববুল্লাহ
সাবেক সহব্যবস্থাপক ও প্রশিক্ষক, বশিউক, কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র, হেয়াকো, ভুজপুর, চট্টগ্রাম।