
গত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতির ধারা ও ২০১৬ সালের কিছু চমকে দেওয়া পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ‘পপুলিজম’ বা লোকরঞ্জনবাদ শব্দটির বেশ ব্যবহার হয়েছে। গেল বছরটিকে অনেকে নতুন লোকরঞ্জনবাদের উত্থানের বছর হিসেবেও বিবেচনা করছেন। লোকরঞ্জনবাদের আদিরূপ কেমন ছিল, বর্তমানে তা কোথায় দাঁড়িয়েছে বা সামনে কী হতে পারে—এসব নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিতে একটি ধারা হিসেবে লোকরঞ্জনবাদের উত্থানপর্ব আসলে বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট (গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়া) ও যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিজয় তাত্ত্বিক আলোচনার একটি বিষয় হিসেবে লোকরঞ্জনবাদকে সামনে নিয়ে এসেছে। ব্রেক্সিটের গণভোট ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রচারণায় ‘পপুলিস্ট’ বা লোকরঞ্জনবাদী কৌশলকে বেছে নেওয়া ও সফল হওয়ায় এ নিয়ে এখন আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই।
কিন্তু লোকরঞ্জনবাদ বা এই ধারার রাজনীতি বলতে যা বোঝায়, তার সঙ্গে আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনীতির খুব অমিল আছে কি? লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতির মূল কৌশলই তো মনে হয় আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চর্চা করে যাচ্ছি। আমাদের দেশের সরকার বা বিরোধী দল কাউকেই রাজনীতির এই ধারার বাইরে ফেলা যাচ্ছে না। একাত্তরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পঁচাত্তর পর্যন্ত সময়কালটি এক ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। এরপর আমাদের দেশের রাজনীতিতে যে ধারার সূচনা ঘটে, তার সঙ্গে লোকরঞ্জনবাদী ধারার মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থেকেছে আবার বিরোধী দলে গেছে, কিন্তু সব পক্ষই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে লোকরঞ্জনবাদী পথ বেছে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চলতে চলতে আমরা মনে হয় রাজনীতির এই ধারাকে এক ভিন্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছি। এই ধারার শাসনের এমন স্তরে আমরা পৌঁছেছি যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভবত এখন আর আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বা জরুরি নয়। আমরা কি তবে দেশে লোকরঞ্জনবাদ কায়েমই করে ফেলেছি!
‘পপুলিজম’ বা লোকরঞ্জনবাদের আভিধানিক অর্থ বিবেচনায় নিলে তা অনেকটা এ রকম; ‘টু সাপোর্ট দ্য ইন্টারেস্ট অব অর্ডিনারি পিপল’ বা সাধারণ জনগণের স্বার্থকে সমর্থন করা। কিন্তু রাজনীতির কোনো বিশেষ ধারা বা পথ এবং তা নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা এত সহজভাবে চলে না। লোকরঞ্জনবাদ, লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতি বা রাজনীতিক ও এর কৌশল—এসবের কিছু সাধারণ দিক ও বৈশিষ্ট্য তাত্ত্বিক-বিশেষজ্ঞরা বের করেছেন।
সাধারণভাবে লোকরঞ্জনবাদ জনগণের আবেগ, বঞ্চনা বা হতাশাকে কাজে লাগায়। এসব বিবেচনায় নিয়ে তারা জনগণকে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখায়। বাস্তবায়ন করা যাবে কি যাবে না, সেসব বিচার-বিবেচনা না করেই তারা ঢালাও প্রতিশ্রুতি দেয়। কৌশল হিসেবে প্রতিপক্ষের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ায়। তারা যা বলে, তার পক্ষে তথ্য–প্রমাণ হাজির করার কোনো ব্যাপার থাকে না। কিছু শত্রুকে তারা নির্দিষ্ট করে দেয় এবং দেশ বা জনগণের সব সমস্যা, ক্ষতি বা বিপদের জন্য তাদেরই দায়ী করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এ জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিদেশি শাসক বা শক্তিকে এবং তাদের দেশীয় অনুচরদের দেশটির সব অঘটনের জন্য দায়ী করা হয়। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে, জাতীয়তাবাদকে উসকে দেয়। সাধারণভাবে ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী ধারাকে লোকরঞ্জনবাদের সঙ্গে যুক্ত করা হলেও এর বামপন্থী ধারাও রয়েছে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এই লোকরঞ্জনবাদী ধারাকে অবশ্য অনেক সমালোচক গণতন্ত্রের পেছন–যাত্রা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের জোয়ার হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন।
এসব নীতির ওপর ভর করে যখন কোনো দেশে লোকরঞ্জনবাদী শাসন কার্যকর হয়, তখন সেই শাসকগোষ্ঠীর অন্যতম জরুরি কাজ হয়ে দাঁড়ায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রভাব সীমিত করা। লোকরঞ্জনবাদী শাসনক্ষমতার সব স্বাধীন ভিত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। তাঁদের শাসনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে যেসব প্রতিষ্ঠান (যেমন আদালত, গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, এনজিওসহ অন্যান্য), সেগুলোর ওপর খড়্গ নেমে আসে।
তবে লোকরঞ্জনবাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি দিক হচ্ছে দেশের কোনো জটিল ইস্যুর সহজ সমাধানের পথ ধরা, সমস্যার গভীরতা বা ফলাফল শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে, তা বিবেচনায় না নেওয়া। তারা রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে ডান ও বাম দুই ধারার লোককেই নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে বা নিজেদের পক্ষে নিয়ে এসে একধরনের বিভ্রমের পরিস্থিতি তৈরি করে। ডান-বাম সব রাজনীতির ফসলই তারা ঘরে তুলতে চায়। এই শাসন জনগণকে দুই ভাগে ভাগ করে ‘নিজেদের’ বাইরের অংশকে কার্যত সবকিছু থেকে বাদ দিতে চায়। শেষ পর্যন্ত লোকরঞ্জনবাদী সরকার যে রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে, তা মূলত নির্বাচিত সরকারের কর্তৃত্ববাদ বা একক শাসন।
আমাদের দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক শাসনের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে বিবেচনায় নিলে শাসনের এই লক্ষণগুলোর সঙ্গে কি তা মিলে যায় না?
পঁচাত্তর–পরবর্তী বাংলাদেশে সেনাশাসক জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য যে কৌশল নেন, তার সঙ্গে রাজনীতির লোকরঞ্জনবাদী ধারার মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ, অস্থির ও সহিংস রাজনীতির বিস্তার, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সুশাসন নিশ্চিত করার ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতামূলক ভূমিকার কারণে এ দেশের রাজনীতিতে ‘ভারত ফ্যাক্টর’, সে সময়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির সরাসরি প্রভাব—এসব বিষয় ও এর প্রতিক্রিয়াগুলোকেই কাজে লাগিয়েছেন জিয়াউর রহমান। রাজনীতিতে ধর্মকে নিয়ে আসা, ভারত বিরোধিতার রাজনীতি শুরু করা, সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতায় থেকে দল গঠন এবং ইসলামপন্থী, স্বাধীনতাবিরোধী এবং চরম ডান ও বামপন্থীদের দলে শরিক করার কাজটি তিনি সাফল্যের সঙ্গেই এগিয়ে নেন।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সবুজ বিপ্লব, খাল কাটা, খেতের আইল তোলার উদ্যোগ, সব দোষ ‘রুশ-ভারতের দালালদের’ ওপর চাপানো বা সংবিধানে বিসমিল্লাহর সংযোজন—এ ধরনের নানা জগাখিচুড়ি বা দেশের নানা প্রান্তে গিয়ে মানুষজনকে অবাস্তব ও অসম্ভব উন্নয়নের স্বপ্ন দেখানোর কাজটি তিনি করে গেছেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। এই ধারা থেকে দেশ সরে এসেছে, এমন কোনো লক্ষণ আমরা পাই না। স্বৈরশাসক এরশাদও একই পথ ধরেছেন রাজনীতিতে জায়গা করে নিতে। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছেন, ভারত বিরোধিতার রাজনীতিকে মদদ দিয়েছেন। নির্বাচন করেছেন, ভোট ডাকাতি করেছেন। সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কঠোর হাতে দমন করেছেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করার কাজ করে গেছেন। এরপর আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও ডান-বাম—সবাই মিলে এরশাদকে হটালেও রাজনীতির এই লোকরঞ্জনবাদী ধাঁচ থেকে আমরা আর বের হতে পারিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ’৯১–এর নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে ৭–দলীয় জোটের জয় অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। এটাকেও রাজনীতির পপুলিস্ট ধারার মধ্যেই ফেলা যায়। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া যে ‘আপসহীন নেত্রীর’ তকমা পেয়েছেন, বলা যায় সেই পপুলিস্ট পরিচয় ’৯১–এর নির্বাচনে তাঁর জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
এরপর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে যে রাজনীতি করে গেছে, তার সঙ্গে লোকরঞ্জনবাদী ধরনের রাজনীতিরই মিল পাওয়া যাবে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জিতলে দেশের মসজিদে নামাজ পড়া যাবে না, দেশ ভারতের দখলে চলে যাবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অংশ থাকবে না—এসব প্রচার-প্রোপাগান্ডা আমরা বিএনপির তরফে শুনেছি। এর প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনার মাথায় হিজাব বা তাঁর মোনাজাত করার ছবির দৃশ্য আমরা আওয়ামী লীগের পোস্টারে দেখেছি। দেখেছি বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ কতটা ইসলামপ্রেমিক, তা প্রমাণ করতে দলটির মরিয়া চেষ্টা। আওয়ামী লীগ–খেলাফত মজলিশ নির্বাচনী সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা আমাদের স্মৃতিতে আছে। আমরা এখন মদিনা সনদের কথা শুনি, নারী নীতি বাস্তবায়ন থেকে আওয়ামী লীগের সরে আসা দেখি। একের পর এক ব্লগার খুন হওয়ার পরও আমরা সরকারের তরফে খুনিদের ধরার উদ্যোগের চেয়ে যাঁরা মুক্ত চিন্তা করেন, তাঁদের নসিহত করতেই সরকারের লোকজন এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে তৎপর দেখেছি। এখন হেফাজতের দাবির সঙ্গে মিল রেখে পাঠ্যপুস্তক বদলে যেতেও আমরা দেখলাম। সংখ্যালঘুদের নিপীড়ক হিসেবে বিএনপি-জামায়াতের দুর্নাম রয়েছে, ২০০১ সালে দলটির বিজয়ের পর তারা সে প্রমাণও রেখেছে। কিন্তু এখন জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিতে আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থানও দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
রাজনীতির এই লোকরঞ্জনবাদী ধারার আরও জোরালো একটি রূপ হচ্ছে মবোক্র্যাসি বা জনতাতন্ত্র। রাজনীতির এই ধারা একপর্যায়ে নির্বাচিত দলের একক শাসনে পরিণত হয় এবং নিজেদের বাইরের জনগোষ্ঠীকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কৌশল নেয়। আমাদের রাজনীতি কি তবে সেদিকেই এগোবে? আমরা দেখছি, এখন কেউ সরকারের কোনো কাজ বা উদ্যোগের সমালোচনা করলেই হয়ে যাচ্ছেন ‘উন্নয়নবিরোধী’, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত এমনকি জঙ্গিবাদের সমর্থক। প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষমতা সীমিত হয়ে আসছে, ক্ষমতার স্বাধীন ভিত্তিগুলো দুর্বল হয়ে আসছে, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ বা এনজিওগুলো শক্তি হারাচ্ছে। নির্বাচনব্যবস্থা নষ্ট হয়েছে। জটিল সমস্যাগুলোর সহজ সমাধানের পথ ধরা হচ্ছে। বিচার–প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’কে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনের কার্যকর পথ বিবেচনা করা হচ্ছে। এর সামাজিক ও রাজনৈতিক দিককে কার্যত বিবেচনার বাইরেই রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে বিএনপি বা তাদের সহযোগী জামায়াত বা ইসলামপন্থী দলগুলো যে রাজনীতি করে, তা সাধারণভাবে লোকরঞ্জনবাদী ধারার সঙ্গে বেশি যায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই পথ ধরায় এবং খুবই সফলভাবে তা কাজে লাগাতে পারায় বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। ‘৫ জানুয়ারির’ নির্বাচনের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আগামী নির্বাচনের জন্য যে সময় আছে, তা বছর দুয়েকের কম। কিন্তু একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় আসায় ‘নির্বাচন’ বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি বিএনপিকে আলোচনায় ডাকায় অনেকে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ লোকরঞ্জনবাদী ধারার যে কৌশল রাজনীতিতে নিয়েছে এবং এর যে ফল তারা পেয়েছে ও পাচ্ছে, তাতে সামান্যতম আশাবাদী হতেও মন সায় দেয় না।
লোকরঞ্জনবাদী ধারার শাসন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেয় না। আর আমাদের দেশের বড় বিপদ হচ্ছে, এখানে যারা সরকারে থাকে বা যারা বিরোধী দলে থাকে, দুই পক্ষের কৌশলের সঙ্গেই লোকরঞ্জনবাদী রাজনৈতিক ধারার মিল রয়েছে। আগেই বলেছি, লোকরঞ্জনবাদ নিজেদের সমর্থকদের বাইরের জনগণকে কার্যত ‘জনগণের’ খাতা থেকে বাদ দেয়। ফলে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যে আমাদের রাজনীতির এই ধারা থেকে মুক্তি দেবে, সে আশাও খুব করা যাচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে লোকরঞ্জনবাদের জোয়ার ও গণতন্ত্রের এই ভাটার সময়ে সব আশাবাদই এখন বড় অর্থহীন ঠেকে!
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com