ঢাকার একটি বহুতল ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল
ঢাকার একটি বহুতল ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল

মতামত

সৌরবিদ্যুৎ যেভাবে বাংলাদেশের জন্য বিরাট সম্ভাবনা

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার আন্তরিক ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে ২০৩০ সালের আগেই ১০ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়। সৌরবিদ্যুৎ কীভাবে বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট সম্ভাবনা, সেটা নিয়ে লিখেছেন মুহাম্মদ জামালুদ্দীন

দেশের তিন মাস বয়সী নতুন সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে একটি দুর্বল অর্থনীতি পেয়েছে। দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসন জেতা সরকারের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা থাকবে, সরকার দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করবে, দেশে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাবে, বেকারত্ব দূর হবে এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি আসবে। এসব আশা পূরণে গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার জোগান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এ পরিস্থিতিতে স্বল্প মেয়াদে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ও স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক কূপ খননের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরও উচ্চ মূল্যের জ্বালানি আমদানির চাপ অর্থনীতির ওপর বিরাট বোঝা হয়ে থাকবে।

এই চাপ মোকাবিলায় অন্যতম দূরদর্শী কৌশল হতে পারে জ্বালানি তেল এবং এলএনজি আমদানি ন্যূনতম পর্যায়ে রেখে সব জ্বালানি চাহিদা সফলভাবে জোগান দেওয়া। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ গ্রহণ সরকারের জন্য এ ক্ষেত্রে পরিত্রাণের সহজ উপায় হতে পারে।

মনে রাখতে হবে, প্রতিটি অতিরিক্ত কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ মানে সমপরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি সাশ্রয় এবং ভর্তুকির চাপ হ্রাস। নবায়নযোগ্য জ্বালানি তথা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত দুই দশকে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত ছিল। বিভিন্ন ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম ও ১৪টি সোলার পার্ক নিয়ে এ পর্যন্ত দেশের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪ গিগাওয়াট।

বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা

প্রতিবেশী দেশ ভারত ২০০৬ সালে মিনিস্ট্রি অব নিউ অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি (এমএনআরই) গঠন করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনে। পরবর্তী সময়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীন সোলার ইনস্টিটিউট ও সোলার এনার্জি করপোরেশন (২০১৪), বায়ু এনার্জি ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশের স্রেডার অনুরূপ ইরেডা (এটি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে) গঠন করে।

২০১৪ সালে ভারতের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল মাত্র ২ দশমিক ৮২ গিগাওয়াট। এর পর থেকে তাদের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ঈর্ষণীয় গতিতে প্রতিবছর পূর্ববর্তী বছরের প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে ৫৫ গিগাওয়াট এবং ২০২৩ সালে ৬৬ গিগাওয়াটে এসে দাঁড়ায়।

বাসাবাড়িতে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘পিএম সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন শুরু করে। ২০২৬ সালের মার্চে ভারতের মোট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৫০ দশমিক ২৬ গিগাওয়াট এবং কেবল ২০২৫ সালে ভারতের জাতীয় গ্রিডে ৪৪ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে।

পিএম সূর্যঘর প্রকল্পের আওতায় এক থেকে তিন বা ততোধিক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌর প্যানেল স্থাপনে যথাক্রমে ৩০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার রুপি প্রণোদনা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি পিএম কুসুম নামে আরেকটি প্রকল্পের অধীন বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় ৬০ শতাংশ অনুদানে ১৪ লাখ সৌরবিদ্যুৎ–চালিত কৃষি পাম্প স্থাপন, গ্রিডের অধিভুক্ত এলাকায় বিদ্যমান ৩৫ লাখ সেচপাম্পকে সৌরবিদ্যুৎ–চালিত পাম্পে রূপান্তর এবং দুই মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে সহজ শর্তে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাংকঋণ প্রদান করা হয়।

জার্মানি, জাপান, ভিয়েতনাম, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ফিড-ইন-ট্যারিফ (এফআইটি) পদ্ধতি ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে। এ ব্যবস্থায় সরকার দীর্ঘ মেয়াদে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ ক্রয়ের নিশ্চয়তা দেয়। ২০১৮ সালে ভিয়েতনামের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ছিল মাত্র ৮৬ মেগাওয়াট; ২০২৫ সালের শেষে তা প্রায় ১৯ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে পাকিস্তানের অভূতপূর্ব সাফল্যের কাহিনিটা কিছুটা ভিন্ন ধরনের। সেখানে একদিকে অর্থনীতির দ্রুত অবনতি এবং অন্যদিকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে। তিন বছরের ব্যবধানে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ে ১৫৫ শতাংশ। প্রথম ইউনিটের তুলনায় শেষ ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য বহুগুণ বেশি হয়ে যায়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি বিশেষ করে চাকরিজীবীদের বেতনের এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ বিলে চলে যাচ্ছিল। অনেকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৫০ হাজার রুপি ছাড়িয়ে যায়।

সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে করছাড় এবং নেট-মিটারিং’ সুবিধার কারণে বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। ২০২০ সালে প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ ভর্তুকিমুক্ত উচ্চহারে বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছিল, ২০২৪ সালে সংখ্যাটি মাত্র ১ শতাংশে নেমে যায়। একই সঙ্গে গ্রিডভুক্ত ও গ্রিডমুক্ত অধিকাংশ সেচপাম্প ও টিউবওয়েল সৌরবিদ্যুৎ–চালিত হয়ে যায়। ফলে কৃষি খাতে ২০২৪ সালে গ্রিড-বিদ্যুৎ চাহিদা ৩৪ শতাংশ কমে যায়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতি

২০০৩ সালে সরকার দেশের অফগ্রিড এলাকার প্রতিটি বাড়িতে ন্যূনতম বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। গ্রামবাসীর আর্থিক অবস্থাভেদে সর্বনিম্ন দুটি বাতি, একটি ফ্যান; সর্বোচ্চ একাধিক বাতি, একাধিক ফ্যান ও একটি টেলিভিশন চালানোর মতো সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে সক্ষম ২০ ওয়াট থেকে ৬০ ওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন শুরু করে। ইডকলের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয় এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৪১ লাখের অধিক সোলার হোম সিস্টেম’ স্থাপন সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে দেশের শতভাগ বাড়ি জাতীয় গ্রিডের অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে সোলার হোম সিস্টেমগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

২০২৫ সালের ২৬ জুন ‘ন্যাশনাল রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সব সরকারি ভবন, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের নির্দেশনা দেন। এর চার দিন পর ৩০ জুন কটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট দেশের সব আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের নির্দেশ প্রদান করেন এবং ছয় মাসের মধ্যে অগ্রগতি আদালতকে অবহিত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ, রাজউক ও স্রেডাকে ঢাকা শহরের প্রতিটি ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের লক্ষ্যে একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন।

২০২৫ সালের শেষের দিকে পিডিবি ঢাকা শহরের সব সরকারি ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং দেশের সব স্কুল-কলেজে সৌর রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করে। এ ব্যাপারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নিয়োজিত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান দরপত্র শিডিউল কিনলেও দরপত্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধের কোনো নিশ্চিত ব্যবস্থা না থাকায় আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা কেউই দরপত্র জমা দেয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে পরবর্তী সময়ে জানা যায়, ওই দরপত্র বাতিল করে নতুন করে আবার দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নিও বিভি ‘অ্যাসেসমেন্ট অব টেকনিক্যাল রুফটপ সোলার এনার্জি পটেনশিয়াল ফর ঢাকা অ্যান্ড গ্রেটার ঢাকা রিজিয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ শহর এলাকাকে কেন্দ্র করে ঢাকা সেন্টার অঞ্চলের প্রতিবেদন ২০২০ সালের অক্টোবর জমা দেয় এবং এই তিন শহরের আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের প্রতিবেদন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেশ করে। ঢাকা সেন্টারে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার ২৪৪ এবং বৃহত্তর ঢাকা এলাকায় ২ লাখ ১৪ হাজার ২৪২টি আবাসিক, বড় ও ছোট বাণিজ্যিক, শিল্পকারখানা ও সরকারি ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা সেন্টার এলাকার ভবনগুলোতে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করে ৬ হাজার ৯৫০ মেগাওয়াট এবং বৃহত্তর ঢাকা এলাকার ভবনগুলো থেকে ৩ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, অর্থাৎ কেবল ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে মোট ১০ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সব বাণিজ্যিক, শিল্পকারখানা, আবাসিক ভবন ২০ বছর মেয়াদ পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হবে না অনুমান করে ভবনের সম্ভাব্য আয়তন আনুমানিক অর্ধেকে নামিয়ে আনলেও ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ ঢাকা সেন্টার ও বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল থেকে উৎপাদন করা সম্ভব।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে সরকারের করণীয়

উল্লিখিত ঢাকা সেন্টার ও বৃহত্তর ঢাকা থেকে যদি ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, তাহলে সারা দেশের, বিশেষ করে বড় শহরগুলোর সব ভবন ও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে অনেক বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়েকটি দেশের অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এ দেশগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে মানুষকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আকর্ষণীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনে এগিয়ে এসেছে। সরকারগুলো প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি আবশ্যক সব প্রাতিষ্ঠানিক সেবা কঠোরভাবে নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জীবাশ্ম জ্বালানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবং বৃহৎ বিনিয়োগে প্রকল্প বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ। তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল নতুন এবং বৃহৎ এ কর্মযজ্ঞের জন্য প্রস্তুত নয়। এ ছাড়া কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে দুটির কার্যপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক সম্প্রসারণের জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অপরিহার্য। ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা কার্যকর হতে পারে।

এ লক্ষ্যে নিচের পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: ১. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন পৃথক নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগ গঠন; ২. নবায়নযোগ্য জ্বালানি করপোরেশন স্থাপন; ৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানি ইনস্টিটিউট স্থাপন; ৪. উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন (২৬ শতাংশ বা তার ওপর) সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা; ৫. ছোট-বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং আমদানির ক্ষেত্রে সততার স্বাক্ষর রাখা সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবশ্যক যন্ত্রপাতি আমদানির ব্যবস্থা করা; ৬. নেট-মিটারিং’ ব্যবস্থাকে সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব করা; ৭. সরকারি ও বেসরকারি ভবনে বাধ্যতামূলক রুফটপ সোলার নীতিমালা প্রণয়ন।

বাসাবাড়িতে যাঁরা ‘রুফটপ সোলার সিস্টেম’ স্থাপন করবেন, তাঁদের জন্য নিচের প্রণোদনা প্রস্তাবগুলো থেকে সরকার ও জনগণ উভয় পক্ষের সুবিধার দিকে লক্ষ্য রেখে বিবেচনা করা যেতে পারে: ১. দুই থেকে তিন বছরের জন্য সোলার যন্ত্রপাতি আমদানি করমুক্ত করা যেতে পারে। তবে করছাড়ের সুযোগ ভোক্তার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে; ২. নির্দিষ্ট মেয়াদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য আর্থিক প্রণোদনার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে; ৩.আবাসিক ভবনে রুফটপ সোলার স্থাপনের জন্য সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে (৯ শতাংশ বা তার কম) ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে; ৪. সোলার সিস্টেম স্থাপনকারীদের বিনিয়োগ আয়করমুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে; ৫. সৌরবিদ্যুৎ–চালিত সেচপাম্প স্থাপনকারীদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান নিশ্চিত করা যেতে পারে।

সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আন্তরিক ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে ২০৩০ সালের আগেই ১০ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়। এ ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য প্রথম পদক্ষেপ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন নতুন একটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বিভাগ স্থাপন।

সম্ভাব্য স্থাপনাস্থল: ১. আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ; ২. সরকারি ভবন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ; ৩. শিল্পকারখানার ছাদ; ৪. নদীভিত্তিক ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প; ৫. সেচপাম্প ও গভীর নলকূপ; ৬. মহাসড়ক ও রেলপথের দুই পাশ; ৭. চা-বাগান ও নির্বাচিত বনাঞ্চল।

  • মুহাম্মদ জামালুদ্দীন সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাপেক্স

  • মতামত লেখকের নিজস্ব