
ঢাকার একটি পোশাক কারখানার মালিক গত বছর হিসাব কষে দেখলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিল তাঁর উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ২২ শতাংশ। কয়েক বছর আগেও এটা ছিল ১৪ শতাংশের নিচে। চট্টগ্রামের একজন মাঝারি কৃষক বলছিলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় ধান চাষে খরচ এতটাই বেড়েছে যে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই দুটি গল্প আলাদা নয়—এটি একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। বাংলাদেশে জ্বালানি এখন উৎপাদন খরচের একটি প্রধান নির্ধারক হয়ে উঠেছে, যা সরাসরি প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আজ এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি। আমরা যে মডেলের ওপর দাঁড়িয়ে আছি, সেটি টেকসই নয়; এটা এখন আর তর্কের বিষয় নয়, বাস্তবতা। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে বা ডলারের ওপর চাপ বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ঘরে, শিল্পে, কৃষিতে।
সংখ্যাগুলোই সবচেয়ে বড় কথা বলে। দেশের গ্যাস উৎপাদন যেখানে ২ হাজার এমএমসিএফডির কিছু বেশি, সেখানে চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি ছাড়িয়েছে, প্রতিদিনই তাই একটি বিশাল ঘাটতি। এই ঘাটতি পূরণ হচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির মাধ্যমে, যা আবার নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজার, সমুদ্রপথ ও ভূরাজনীতির ওপর।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার—আগের বছরের চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি। সব মিলিয়ে মোট জ্বালানি আমদানির পেছনে বছরে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মতো খরচ হচ্ছে। ২০২৬ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানির বিল আরও ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ডলার-সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। ফলে জ্বালানি এখন শুধু বিদ্যুতের প্রশ্ন নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কেন্দ্রীয় ইস্যু।
তুলনার জন্য একটি তথ্য: বাংলাদেশ প্রতিবছর যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জ্বালানি আমদানিতে খরচ করে, তা দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো দুটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ করা সম্ভব।
আমরা অনেক সময় জ্বালানিসংকটকে লোডশেডিং দিয়ে মাপি। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব অনেক বিস্তৃত। জ্বালানির দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, পরিবহন খরচ বাড়ে, কৃষিতে সেচ ও সার ব্যয় বাড়ে; ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি চাপ তৈরি হয়। এটি একটি ‘ডমিনো ইফেক্ট’, যা পুরো অর্থনীতিকে ধাক্কা দেয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যয় আগের বছরের চেয়ে গড়ে ১৮ শতাংশ বেড়েছে। রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের অনেক কারখানা প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। একই সমস্যায় পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা, যাঁদের পক্ষে বাড়তি খরচ সামলানো আরও কঠিন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। চীন গত পাঁচ বছরে সৌরশক্তি উৎপাদনে যে বিনিয়োগ করেছে, তা বিশ্বের বাকি দেশগুলোর মোট বিনিয়োগের প্রায় সমান। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। ভিয়েতনাম মাত্র চার বছরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন শূন্য থেকে ১৭ গিগাওয়াটে নিয়ে গেছে।
আর বাংলাদেশ? দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২৮ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি, কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়নযোগ্য ক্ষমতা ১ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে সরকারি তথ্যে দেখা যায়, যা মোট বিদ্যুৎ ক্ষমতার মাত্র ৫ শতাংশের কাছাকাছি, যেখানে প্রতিবেশী ভারতের নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশ ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এই তফাতটা দেখলেই বোঝা যায়, আমরা কতটা পিছিয়ে আছি এবং সম্ভাবনাও কতটা বড়। এই ব্যবধান শুধু প্রযুক্তিগত নয়; এটি নীতি, বিনিয়োগ ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার ব্যবধান।
বাংলাদেশে গড়ে ৪ থেকে ৫ কিলোওয়াট আওয়ার প্রতি বর্গমিটার প্রতিদিন সৌর বিকিরণ রয়েছে, যা জার্মানির চেয়ে দ্বিগুণ। অথচ জার্মানি তার বিদ্যুতের ৬০ শতাংশেরও বেশি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাচ্ছে। এই একটি তথ্যই বলে দেয়, সূর্যের আলো আমাদের সম্পদ হওয়ার কথা, কিন্তু সেটা হয়ে উঠছে না।
দেশের নদী, হাওর, বিল এবং কোটি কোটি বাসা-বাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যা জমির স্বল্পতার অজুহাতকে অনেকাংশে মিথ্যা প্রমাণ করে। প্রয়োজন শুধু সঠিক নীতি ও সদিচ্ছা।
শিল্প, বাণিজ্যিক ভবন ও বাসাবাড়ির ছাদ ব্যবহার করে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই মডেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা—সরকারের বড় বিনিয়োগ লাগে না, বেসরকারি খাত নিজেই এগিয়ে আসে, এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় বিকেন্দ্রীভূতভাবে।
সম্প্রতি সরকারি ভবন, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। দ্রুত বাস্তবায়িত হলে এটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে অনুমোদনের জটিল প্রক্রিয়া, উচ্চ সুদে অর্থায়ন এবং সীমিত নীতিগত সহায়তা এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। যেখানে ভিয়েতনাম ও ভারত একই ধরনের প্রকল্পে ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে অনুমোদন সম্পন্ন করছে, সেখানে বাংলাদেশের দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।
দেশে প্রায় ১৫ লাখ ডিজেলচালিত সেচপাম্প রয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কৃষি খাতে শুধু সেচকাজেই বছরে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পোড়ে।
এই পাম্পগুলো ধাপে ধাপে সৌরচালিত করা হলে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন লিটার ডিজেল আমদানি কমানো সম্ভব, যা কয়েক শ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করবে। কৃষি উৎপাদন খরচ কমবে, খাদ্যনিরাপত্তা শক্তিশালী হবে এবং কার্বন নির্গমনও কমবে।
আইডিসিওএল ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ উদ্যোগে ইতিমধ্যে ১ লাখেরও বেশি সৌর সেচপাম্প স্থাপিত হয়েছে রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে।
এই কৃষকেরা জানাচ্ছেন, ডিজেলের তুলনায় তাঁদের সেচ ব্যয় গড়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেছে। এটি প্রমাণ করে, এই পথ বাস্তবায়নযোগ্য। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে আরও অনেকগুলো সৌর সেচপাম্প স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েছে, যা কৃষকদের ব্যয় ২০-৩০ শতাংশ কমাতে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশের বড় নদী ও হাওরগুলো শুধু পানি নয়, শক্তিরও উৎস হতে পারে। ভাসমান সৌর প্যানেলের মাধ্যমে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানির বাষ্পীভবন কমানো এবং জলজ পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব। এমনকি প্যানেলের নিচে মাছ চাষও করা যায়, যাকে বলা হচ্ছে ‘সোলার ফিশারি’ মডেল।
একটি পাইলট প্রকল্পে দেখা গেছে, ভাসমান সৌর প্যানেলের নিচে মাছের উৎপাদন ১৫ শতাংশ বেড়েছে— কারণ, অতিরিক্ত রোদ ও তাপ থেকে পানি সুরক্ষিত থাকছে। এটি একটি ‘মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’, একসঙ্গে বিদ্যুৎ, খাদ্য ও পরিবেশ তিনটি সমস্যার সমাধান।
সুউচ্চ দালান বা সরকারি উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারগুলোয় ছোট ছোট বায়ু টারবাইন পরীক্ষামূলকভাবে বসিয়ে দেখা যায়। ৩০ মিটার ওপরে বায়ুবিদ্যুৎ উপযোগী বাতাসের গতি থাকার কথা গবেষণায় দেখা গেলেও এখনো পরীক্ষামূলক কাজ দেখা যায়নি।
সরকার যদি জমি ও ট্রান্সমিশন অবকাঠামো নিশ্চিত করে, তাহলে বড় সৌর প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ৭ থেকে ৮ টাকা প্রতি ইউনিটে নামানো সম্ভব। এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, বর্তমানে অনেক তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যয় ইউনিটপ্রতি ২৮ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত। কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকায় বায়ুশক্তির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় গবেষণায় দেখা গেছে, এই এলাকায় গড় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫ মিটারের ওপর, যা বাণিজ্যিক টারবাইনের জন্য উপযুক্ত।
সৌরবিদ্যুতের বড় দুর্বলতা হলো, সূর্য না থাকলে বিদ্যুৎও নেই। এই জায়গায় ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিকভাবে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির দাম গত ১০ বছরে ৯০ শতাংশ কমেছে এবং এই হার অব্যাহত আছে। প্রতিবেশী ভারত ইতিমধ্যে ৪ গিগাওয়াটের বেশি ব্যাটারি স্টোরেজ প্রকল্প চালু করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও এখনই পাইলট প্রকল্প ও প্রণোদনার মাধ্যমে এই খাতে পা রাখার সময়।
প্রযুক্তি এখন সস্তা, বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী, সম্ভাবনাও অফুরন্ত; তবু পরিবর্তন ধীর। কারণটা প্রযুক্তিগত নয়, নীতিগত। নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে শুল্ক প্রত্যাহার, ৫ শতাংশের নিচে সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, দ্রুত অনুমোদনপ্রক্রিয়া (সর্বোচ্চ ৩০ দিন), বাধ্যতামূলক ছাদভিত্তিক সৌর সংযোগ, গ্রিড আধুনিকীকরণ এবং কার্যকর নেট মিটারিং—এসব নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো পরিবর্তনই টেকসই হবে না।
২০২৫ সালের খসড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের ইশতেহারেও আছে। এই লক্ষ্য পূরণে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রপ্রক্রিয়া এবং বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য সহজ পথ তৈরি করতে হবে। ভিয়েতনাম যেভাবে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আকর্ষণীয় ফিড-ইন ট্যারিফ নীতির মাধ্যমে সৌরশক্তিতে বিপ্লব এনেছে, বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটতে পারে।
বাংলাদেশ এখন দুটি ভিন্ন পথের সামনে দাঁড়িয়ে। প্রথম পথ: আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থা, ডলার চাপ, মূল্যস্ফীতি, অনিশ্চয়তা। দ্বিতীয় পথ: নিজস্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্থিতিশীলতা, কম খরচ, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা।
মরক্কো একসময় তারবিদ্যুতের ৯৭ শতাংশ আমদানি করত। আজ সেই দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আফ্রিকার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় এবং বিদ্যুৎ রপ্তানি করছে ইউরোপে। পরিবর্তন সম্ভব। দরকার শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস।
বাস্তবতা সস্তা জীবাশ্ম জ্বালানি দিন আগের মতো ব্যবহারের দিন শেষ। ইরান যুদ্ধ সেটার বাস্তব উদাহরণ। জ্বালানির বহুমুখীকরণ এবং জ্বালানিব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখনই বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করা এবং বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। নীতির ক্ষেত্রে সরকারি–বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সেই নীতির বাস্তবায়নে দরকার পেশাদার বাস্তবায়নকারী প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টিম।
বাংলাদেশের জ্বালানিসংকট আসলে একটি নীতিগত পরীক্ষার মুহূর্ত। আমরা কি স্বল্পমেয়াদি সমাধানের মধ্যে আটকে থাকব, নাকি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার পথে হাঁটব—এই সিদ্ধান্তই আগামী দশকের অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।
প্রশ্নটা তাই আর শুধু জ্বালানির নয়, এটি রাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতার প্রশ্ন।
মাশিদ রহমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক, র্যাংকন সোলার
সুবাইল বিন আলম ডিরেক্টর, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল ও রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন