বিশ্লেষণ

জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি যেভাবে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি

বর্তমানে আমরা বাংলাদেশে ডানপন্থী পপুলিজমের উত্থান দেখছি। এই পপুলিজমের দুই ধারা পাশাপাশি হাঁটছে, আবার নানা জায়গায় হাতও মেলাচ্ছে। জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি কীভাবে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, তা নিয়ে লিখেছেন আসিফ বিন আলী

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতার দখল নয়; বরং ভাষাবদলের চেষ্টাও লক্ষ করা যাচ্ছে। গত দেড় বছরে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পটভূমি রাজনীতিতে মুখ বদলেছে, নাকি রাজনীতির ভেতরের ভাষা আর মানসিকতা আগের মতোই রয়ে গেছে?

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, একধরনের কর্তৃত্ববাদ থেকে বেরিয়ে এসে দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির দিকে না হেঁটে আমরা ধীরে ধীরে পপুলিজমের (জনতুষ্টিবাদ) রাজনীতির দিকে হাঁটছি। এই রাজনীতিতে হুমকি বন্দুক নয়; বরং রাজনীতির ভাষা।

বাংলাদেশ বৈশ্বিক জনতুষ্টিবাদী ঢেউয়ের বাইরে নয়। টক শো, ওয়াজ মাহফিল, ভাইরাল ভিডিও—সব জায়গায় জনতুষ্টিবাদী ভাষা ঘুরেফিরে আসছে। তাই এই সময়কে বোঝার জন্য আমাদের নজর দিতে হবে প্রতিদিনের রাজনৈতিক যোগাযোগের ভাষায়।

কারা জনতা শব্দটি নিজের নামে লিখে নিচ্ছে? কাকে গাদ্দার বানানো হচ্ছে? কে কোন দলকে খতম করতে চায় আর রাজনীতি থেকে মুছে ফেলতে চায়? এই চাওয়াগুলো কারা রাজনীতিতে স্বাভাবিক করে তুলছে। সহজ করে বললে, যারা সব সময় দাবি করে, ‘আমিই আসল জনতার কণ্ঠ, বাকিরা সব ভুল’, পপুলিস্ট রাজনীতির মূল চেহারা তারাই।

২.

পপুলিস্ট রাজনীতি সাধারণত তিন ধাপে কাজ করে। এই ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে তৈরি হয় এক ‘পবিত্র জনতা শ্রেণি’। এই জনতা সব সময় সৎ, নির্যাতিত, ধর্মভীরু, শহীদের উত্তরসূরি, দেশপ্রেমিক, অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম।

দ্বিতীয় ধাপে এই জনতার বিপরীতে দাঁড় করানো হয় একদল ‘অভিজাত’ বা ‘গাদ্দার শ্রেণি’কে। এই শ্রেণিকে নানা নামে ডাকা হয়। কখনো বলা হয় বিদেশের দালাল, লুটেরা, মীরজাফর, ধর্মবিরোধী; আবার বলা হয় জাতিবিরোধী। একে আমরা সহজ করে ‘জনগণ বনাম দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাত শ্রেণি ফ্রেম’ বলতে পারি। 

তৃতীয় ধাপে আনা হয় কিছু শত্রু চরিত্র। এই শত্রু সময় ও প্রয়োজনমতো পরিবর্তন হয়। এই শত্রু কখনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, কখনো নারী আন্দোলন, কখনো সংখ্যালঘু, কখনো পশ্চিমা সংস্কৃতি, কখনো প্রতিবেশী কোনো দেশের প্রভাব। এই তিন স্তরের গল্প যত বেশি ওয়াজের ভাষায়, গানের লাইনে, ফেসবুক পোস্টে, মিমে, ভিডিওতে ঘোরে; তত বেশি মানুষের মনে গেঁথে যায়।

৩.

বর্তমানে আমরা বাংলাদেশে ডানপন্থী পপুলিজমের উত্থান দেখছি। এই পপুলিজমের দুই ধারা পাশাপাশি হাঁটছে, আবার নানা জায়গায় হাতও মেলাচ্ছে। এক ধারা সাম্প্রতিক কোনো আন্দোলন-অভ্যুত্থান আর শহীদদের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী ভাষা ব্যবহার করে। 

অন্য ধারা ধর্মীয় মঞ্চ, ধর্মীয় শিক্ষার নেটওয়ার্ক, ওয়াজের ভাষা দিয়ে জনতার প্রতিনিধি বলে নিজেদের দাবি করে। প্রাথমিকভাবে এদের এক দলকে ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী মনে হয়, আরেক পক্ষকে খোলাখুলি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী বলা যায়। কিন্তু ভেতরের কাঠামো দেখলে বোঝা যায়, এরা একই গ্রুপে রয়েছে—দলটা একই, জার্সি আলাদা।

যারা নিজেদের শহীদের কণ্ঠ আর জনতার প্রকৃত প্রতিনিধি বলে দাঁড় করিয়েছে, তাদের ভাষা একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবলে স্পষ্ট দেখা যায়, জনতা বলতে তারা ছাত্র, আন্দোলনকারী, শোকাহত পরিবার, সাধারণ মানুষকে ধরছে। এর মাধ্যমে তারা নৈতিকভাবে নিখুঁত ভিকটিম গোষ্ঠী নির্মাণ করেছে। বিপরীতে শত্রু হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে এক বা একাধিক রাজনৈতিক দলকে।

সেই রাজনৈতিক দলকে সন্ত্রাসী, খুনি, জাতির শত্রু হিসেবে ফ্রেম করা হচ্ছে। কিন্তু ফ্রেম সেখানেই থেমে থাকছে না। যে ব্যক্তি বা গ্রুপ এই ‘জনতার প্রতিনিধির’ বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে, এমনকি তাদের যদি আন্দোলন-অভ্যুত্থানে সরাসরি ভূমিকা থাকে, তবু তাদের ‘বিপ্লবের শত্রু’ বা ‘জাতির শত্রু’ ফ্রেমে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

৪.

এই জনতার প্রতিনিধিরা আবার গণতন্ত্রের কথা বলছে। আসলে তারা যে গণতন্ত্রের কথা বলছে, তা আসলে ‘মিলিট্যান্ট ডেমোক্রেসি’। ‘মিলিট্যান্ট ডেমোক্রেসি’তে গণতন্ত্রের কথা বলে রাজনৈতিক দল বক্তৃতায় কোনো সীমারেখা মানতে চায় না। তারা নিজেদের বয়ানে ও বক্তৃতায় আইনের ভেতর থেকে বের হয়ে দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে খতম করতে চায়। বিরোধীদের তালিকা তৈরি করে ও তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক বর্জনের ভাষায় ব্যবহার করে। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি আর শুধু ন্যায়বিচারের দাবি থাকে না, হয়ে যায় শত্রু নির্মূলের পপুলিস্ট ভাষা।

এই পপুলিস্ট ধারার নেতারা যখন বলেন, ‘অমুক’ দল বা ব্যক্তিকে রাজনীতির মাঠে থাকতে দেওয়া যাবে না, এদের বিচার না করলে দেশে শান্তি আসবে না, তখন তিনি শুধু জবাবদিহি চান না; তিনি ভবিষ্যতে সহিংসতা করার ও প্রতিশোধ নেওয়ার একধরনের নৈতিক লাইসেন্স তৈরি করেন। 

রাজনৈতিক চিন্তাবিদ জ্যান ভের্নার মিলার লিখেছেন, পপুলিস্টরা শুধু প্রতিপক্ষের নীতি নিয়ে তর্ক করে না, তারা প্রতিপক্ষকে নৈতিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করে, যেন ওই দলের বা ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকারই নেই। 

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভাষা সেই ধারার ভেতরেই পড়ে। এর সঙ্গে যখন ‘শহীদের শপথ’ বা ‘ইমানের প্রতীক’-এর মতো ভাষা মেশানো হয়, তখন তা জাতীয়তাবাদী ডানপন্থায় পরিণত হয়, যেখানে রাজনীতি আর মতবিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা ‘পবিত্র’ বনাম ‘অপবিত্র’-এর লড়াইয়ে পরিণত হয়।

ধর্মীয় পপুলিজম ও ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী পপুলিজমের পোশাক, মঞ্চ, স্লোগান আলাদা; কিন্তু তাদের মিলটা খুব স্পষ্ট। দুই দলই জনতার নামে কথা বলে। তারা উভয়েই এক বা একাধিক দলকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে। দুই দলই সংবিধান আর রাষ্ট্রকে নিজের ছাঁচে ঢালাই করতে চায়। আর দুই দলই মনে করে, তারা নৈতিকভাবে এমন উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাদের প্রশ্ন করার অধিকার আর কারও নেই। 

অন্যদিকে আছে ধর্মীয় ডানপন্থী পপুলিজমের ক্ষেত্রে ‘জনতা’ মানে মূলত ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। এই ক্ষেত্রে ধর্মীয় পপুলিজমপন্থীরা বলেন, ‘আমরাই এই দেশের আসল মালিক। রাষ্ট্র, আইন, সংবিধান—সব আমাদের একক বিশ্বাসের সঙ্গে চলতে হবে।’ এর বাইরে যে বা যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের ইসলামবিদ্বেষী, পশ্চিমের দালাল, নাস্তিক, ফিতনা সৃষ্টিকারী হিসেবে ট্যাগ দেওয়া হয়ে থাকে।

নারী ইস্যু, উত্তরাধিকার আইন ইস্যু, লিঙ্গীয় সমতার ইস্যু, সংবিধানে বহুত্ববাদের কথা—এ সবকিছুকেই ধর্মীয় পপুলিজমের সমর্থকেরা ‘পশ্চিমা এজেন্ডা’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় পরিচয়কে পুরো রাষ্ট্রের একমাত্র মাপকাঠি বানানোর চেষ্টা করেন। 

ধর্মীয় পপুলিজম ও ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী পপুলিজমের পোশাক, মঞ্চ, স্লোগান আলাদা; কিন্তু তাদের মিলটা খুব স্পষ্ট। দুই দলই জনতার নামে কথা বলে। তারা উভয়েই এক বা একাধিক দলকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে। দুই দলই সংবিধান আর রাষ্ট্রকে নিজের ছাঁচে ঢালাই করতে চায়। আর দুই দলই মনে করে, তারা নৈতিকভাবে এমন উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাদের প্রশ্ন করার অধিকার আর কারও নেই। 

৫.

এই পপুলিস্ট রাজনৈতিক যোগাযোগ কীভাবে কাজ করে, তা বোঝাও জরুরি। প্রথমত, এদের ভাষায় নীতি কিংবা যুক্তির পরিবর্তে ছোট ছোট আক্রমণাত্মক বাক্য থাকে। প্রতিপক্ষকে নিয়মিত তাচ্ছিল্য, গালাগালি করা হয়। ধর্মীয় উদ্ধৃতি দিয়ে কাউকে ‘সাবহিউম্যান’ বা ‘উনমানুষ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় ও তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের উসকানির শব্দ ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের ভাষার ব্যবহার দ্রুত আবেগ তৈরি করে। ফলে মানুষ তাড়াতাড়ি পক্ষ নেয়; তারা নেতাদের প্রশ্ন করতে শেখে না।

দ্বিতীয়ত, প্ল্যাটফর্ম। ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব, টিকটক, শর্টস, রিলস—এগুলোর ডিজাইনই এমনভাবে করা যে ছোট, নাটকীয়, বিভাজনমূলক কনটেন্ট বেশি ছড়ায়। ফলে নেতা সরাসরি মানুষের ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েন। তখন নেতা ও তাঁর শ্রোতার মধ্যে কোনো ‘গেটকিপার’ থাকে না। নেতার কথাই তখন একমাত্র সত্য বলে সাধারণ সমর্থকেরা গ্রহণ করেন।

তৃতীয়ত, ধর্মীয় মঞ্চ। ধর্মীয় ওয়াজে যখন রাষ্ট্র, নারী, আইন, সংবিধান সবকিছুকে ধর্মের ভাষায় সাজানো হয় বা ব্যাখ্যা করা হয়, তখন ভিন্নমত আর মত থাকে না, তা ধর্মবিরোধিতা হয়ে যায়। এতে ভয় আর অপরাধবোধ একসঙ্গে কাজ করে, মানুষ প্রশ্ন করতে সংকোচ বোধ করে।

৬.

এখন প্রশ্ন, এই সব মিলিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে? প্রথম বড় ঝুঁকি হলো বহুদলীয় রাজনীতির স্পেস কমে আসবে। আমরা যখন এক পক্ষের মুখে নিয়মিত শুনি ‘অমুক’ দলকে বা ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করতে হবে, ‘অমুক’কে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে, তখন আমরা অজান্তেই গৃহযুদ্ধের ভাষাকে রাজনীতিতে স্বাভাবিক করে ফেলি।

একবার দল নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতি শুরু হলে তা আর কারও একার হাতে থাকে না। আজ কোনো গোষ্ঠী যে দলকে নিষিদ্ধ করতে চায়, কাল অন্য কেউ একই যুক্তিতে আরেকটি দলকে নিষিদ্ধ করতে চাইবে। এটাই তখন রাজনীতির নীতিতে পরিণত হয়ে যাবে।

পাশাপাশি এ ধরনের রাজনীতির দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো সংখ্যালঘু আর ভিন্নমতের মানুষের নিরাপত্তা। যখন প্রতিদিনের ভাষায় শেখানো হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছাই আইন, ব্যক্তিগত ধর্মীয় ব্যাখ্যাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য, তখন এর মাধ্যমে ভিন্ন কথা বলা মানুষদের দেশদ্রোহী ও ধর্মদ্রোহী হিসেবে দেখানো হয়। এতে করে সমাজের সংখ্যালঘু, নারী, ধর্মান্তরিত মানুষ, নাস্তিক, ভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ সবাই একধরনের আতঙ্কে থাকে। 

তৃতীয় ঝুঁকি হলো, প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে যাওয়া। পপুলিস্ট ভাষা প্রায় সব সময়ই বলে, আদালত, নির্বাচন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়, সংবাদমাধ্যম কেউ নিরপেক্ষ নয়; সবাই শত্রু, সবাই দালাল। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোয় সমস্যা আছে। কিন্তু যখন পুরো প্রতিষ্ঠানকেই একসঙ্গে বাতিল করে দেওয়া হয়, তখন মানুষের নিয়মের ওপর আস্থা কমে, একক ব্যক্তির ওপর আস্থা বাড়ে। এতে পপুলিস্ট নেতা জনগণের কাছে ক্ষমতাবান হিসেবে বিবেচিত হন। 

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আজ কারও পছন্দের নেতা ভালো কাজ করতে পারে; কিন্তু যদি নিয়মটাই হয় যে জনতার নামে কথা বলা মানুষ আইনের ঊর্ধ্বে, তাহলে কাল অন্য কেউ এসে সেই একই নিয়ম বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করলেও কিছু বলার থাকে না।

বাংলাদেশের পপুলিস্ট রাজনীতির সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো সহিংসতাকে ‘রোমান্টিসাইজ’ করা। আমরা দেখছি, কিছু রাজনৈতিক দল ও এর নেতারা মিছিলে মিছিলে ফাঁসি চাচ্ছেন,‘জবাই কর’ ধরনের স্লোগানকে স্বাভাবিক করছেন। এর ফলে সমাজে মানুষ মনে করতে থাকে, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান মানেই কাউকে খতম করে দেওয়া।

৭.

গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুরোনো একনায়কতন্ত্র বিদায় নিয়েছে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্পেস তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভয়ের বিষয় হলো, যদি আমরা রাজনৈতিক যোগাযোগের ভাষায় পপুলিস্ট রেটরিক ব্যবহার করতে থাকি, তবে রাজনীতিতে মুখ বদলালেও বাংলাদেশের রাজনীতির চরিত্র বদলাবে না। যারা আজ জনতার নামে পুরোনো শাসককে গালি দিচ্ছে, কাল তারা চাইলে সেই একই জনতার নামে সব প্রতিষ্ঠান দখল করে নিতে পারে। 

যদি জনতার ইচ্ছা মানেই হয় নেতার ইচ্ছা, আর সেই ইচ্ছার সামনে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে, তাহলে নতুন একধরনের কর্তৃত্ববাদের মুখোমুখি হতে চলেছি আমরা। এই জায়গায় আমাদের প্রথম কাজ ভাষা নিয়ে একটু সতর্ক হওয়া। কাউকে কড়া সমালোচনা করা আর কাউকে মানুষের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এক কথা নয়। কারও বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত, বিচার দাবি করার সঙ্গে সঙ্গে এটাও বলা সম্ভব যে প্রত্যেক মানুষই ন্যায়বিচারের অধিকার রাখে।

আসিফ বিন আলী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ডক্টরাল ফেলো। 

ই-মেইল: abinali2@gsu.edu

*মতামত লেখকের নিজস্ব