
প্রতিবছর ২০-২২ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু শুধু পুরোনো কয়েকটি খাতের ওপর আর কত দিন? নতুন কাজ, ব্যবসা আর ডলার আনার রাস্তা খুঁজতে হবে। সেই রাস্তার একটি হতে পারে সিলভার ইকোনমি। সিলভার ইকোনমি কী? চীন, জাপান, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে কীভাবে এই অর্থনীতি কাজ করছে, তা নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার
বিশ্ব এখন অনিশ্চিত সময় পার করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের টানাটানির সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। ২০২৫ সালে আইইউ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রোলান্ড ব্রান্ডটিয়েন তাঁর ইকোস অব দ্য নাইনটিন থার্টিজ: আ সায়েন্টিফিক কমপারেটিভ অ্যানালাইসিস অব প্রি-ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু ডায়নামিকস অ্যান্ড কনটেমপোরারি জিওপলিটিকস গবেষণাপত্রে বর্তমান সময়ের সঙ্গে ১৯৩০-এর দশকের কিছু মিল দেখিয়েছেন। ২৪ মার্চ ২০২৬-এ ওয়্যার্ড ম্যাগাজিনের ‘টেক সাপোর্ট’ প্রশ্নোত্তরে সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘অস্বস্তিকর রকম কাছাকাছি’। তবে বড় যুদ্ধ হবেই—এটা নিশ্চিত নয়।
এই বদলে যাওয়া বিশ্বে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রতিবছর ২০-২২ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের ‘স্কিলিং আপ বাংলাদেশের ইয়ুথ ফর আ চেঞ্জিং জব মার্কেট’ এবং আইএলওর ২০২১ সালের ‘আ বুস্ট টু স্কিলস ট্রেনিং ইন বাংলাদেশ’—দুই লেখাতেই প্রায় একই হিসাব এসেছে।
তাহলে এত মানুষের কাজ আসবে কোথা থেকে? তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয়, চামড়া—এগুলো থাকবে। কিন্তু শুধু পুরোনো কয়েকটি খাতের ওপর আর কত দিন? নতুন কাজ, ব্যবসা আর ডলার আনার রাস্তা খুঁজতে হবে। সেই রাস্তার একটি হতে পারে সিলভার ইকোনমি।
নামটা শুনতে কঠিন, কিন্তু বিষয়টা সহজ। ধরুন, একজন মানুষের বয়স ৭০ বছর। তাঁর ডাক্তার, ওষুধ, নার্স বা কেয়ারগিভার লাগতে পারে। হাঁটার জন্য হুইলচেয়ার কিংবা নিরাপদে চলাফেরার ব্যবস্থাও দরকার হতে পারে।
কিন্তু তিনি শুধু রোগী নন। তিনি খাবার কেনেন, ব্যাংকে টাকা রাখেন, বিমা করেন, বেড়াতে যান, মোবাইল বা স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে এসব চাহিদা ঘিরে যে পণ্য, সেবা, প্রযুক্তি আর ব্যবসা গড়ে ওঠে, সহজ কথায় সেটাই সিলভার ইকোনমি।
এর মানে শুধু নার্স বা কেয়ারগিভার নয়। হোম কেয়ার, হাসপাতাল, রিহ্যাবিলিটেশন, বয়স্কদের উপযোগী বাড়ি, বিমা, পেনশন, পর্যটন, পরিবহন, হুইলচেয়ার, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, টেলিমেডিসিন, স্মার্ট হোম, পড়ে গেলে খবর দেওয়ার সেন্সর, এমনকি এআই দিয়ে স্বাস্থ্য দেখাশোনা ও কেয়ার রোবটও এর অংশ।
কারণটা সোজা—মানুষ বেশি দিন বাঁচছে, কিন্তু অনেক দেশে সন্তান হচ্ছে কম। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ বলছে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশে একজন নারী গড়ে ২ দশমিক ১টির কম সন্তান জন্ম দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মানুষের আয়ুও দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে একদিকে মানুষ দীর্ঘ জীবন পাচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম তুলনামূলক ছোট হচ্ছে। তাই তাঁদের দেখাশোনা এবং অর্থনীতির কাজ চালানোর লোক পাওয়া অনেক দেশে কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের ২০২১ সালে প্রকাশিত গবেষণা ‘গ্রিন পেপার অন এজিং’ বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতি পাঁচজনের প্রায় একজনের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। ২০৭০ সালের দিকে তা প্রায় প্রতি তিনজনে একজন হতে পারে। তখন একজন ৬৫ বছরের বেশি মানুষের বিপরীতে কাজ করার বয়সী মানুষ থাকবে দুজনের কম।
এর সঙ্গে আছে ‘বেবি বুমার’ প্রজন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ, আমেরিকাসহ অনেক দেশে একসঙ্গে অনেক শিশুর জন্ম হয়েছিল। সেই প্রজন্ম এখন অবসরের বয়সে পৌঁছাচ্ছে। জার্মানির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা ডেস্টাটিস বলছে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে তাঁদের বড় অংশ চাকরির বাজার ছাড়বেন। অথচ জায়গা পূরণের মতো নতুন প্রজন্ম তুলনামূলক ছোট।
তাই একদিকে সেবা নেওয়ার মানুষ বাড়ছে, অন্যদিকে তা দেওয়ার লোক পাওয়া কঠিন হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবহন, বিমা ও প্রযুক্তিতে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২৬ আগস্ট ২০২৬-এর ‘হাউ এজিং কনজ্যুমারস আর রিশেপিং দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ লেখায় ওয়ার্ল্ড ডেটা ল্যাবের তথ্য দিয়ে বলেছে, বয়সী মানুষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পণ্য ও সেবার বিশ্ববাজার এখন প্রায় ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি বছরে প্রায় ৭ শতাংশ হারে বড় হচ্ছে। একই সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ১৫ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। অথচ ২০২৬ সালে মোট ভোক্তা খরচের প্রায় ২৭ শতাংশ বা ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার তাঁদের হাত থেকে আসবে।
দুটো হিসাব আবার এক নয়। ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার হলো ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মোট কেনাকাটা ও খরচ। আর ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার হলো তাঁদের বিশেষ চাহিদা ঘিরে তৈরি পণ্য ও সেবার বাজার। অর্থাৎ তাঁরা শুধু চিকিৎসা বা পরিচর্যা নেওয়ার মানুষ নন; বড় এক ক্রেতাগোষ্ঠীও।
ইউরোপিয়ান কমিশনের ২০২১ সালের ‘সিলভার ইকোনমি’ পেজে এর আকার প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ইউরো বলা হয়েছে। আবার কমিশনের ‘ইউরোপিয়ান কেয়ার স্ট্র্যাটেজি’ বলছে, বর্তমান দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ধরে রাখতেই ২০৫০ সালের মধ্যে আরও ১৬ লাখের বেশি কর্মী যোগ করতে হবে।
জার্মানিতে ২০৪৯ সালে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার কেয়ার কর্মী দরকার হতে পারে। ডেস্টাটিসের ২০২৪ সালের হিসাবে, তারপরও ২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৯০ হাজার লোকের ঘাটতি থাকতে পারে।
আমেরিকায় ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস বা বিএলএস-এর প্রক্ষেপণেও হোম হেলথ ও পার্সোনাল কেয়ার এইড পেশায় প্রতিবছর কয়েক লাখ কাজের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। এর সবই নতুন পদ নয়; অবসর, চাকরি ছাড়া ও নতুন কাজ মিলিয়ে এই সংখ্যা।
জাপানের মিনিস্ট্রি অব হেলথ, লেবার অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ২০২৪ সালে জানিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার কেয়ার কর্মী ছিলেন। ২০২৬ সালে লাগবে প্রায় ২৪ লাখ, আর ২০৪০ সালে ২৭ লাখ ২০ হাজার। অর্থাৎ আরও প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার জন লাগবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট–কেডিআইয়ের গবেষক জংহিউন কওন ২০২৬ সালের ‘এল্ডারকেয়ার ওয়ার্কফোর্স: প্রজেকশনস অ্যান্ড পলিসি ইমপ্লিকেশনস’ গবেষণায় দেখিয়েছেন, এখনকার কাজের চাপ একই রাখতে ২০৩৩ সালে আরও প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার, আর ২০৪৩ সালে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার কর্মী লাগতে পারে। কেডিআই বিদেশি কর্মী আনার পথ সহজ করার পাশাপাশি কেয়ার রোবট ব্যবহারের কথাও বলছে।
এই পরিবর্তন দেখে বিভিন্ন দেশ শুধু কর্মীর ঘাটতি মেটানোর কথা ভাবছে না; নতুন ব্যবসাও ধরতে চাইছে। সবচেয়ে ভালো উদাহরণ চীন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চীনের স্টেট কাউন্সিল ‘ডেভেলপিং দ্য সিলভার ইকোনমি অ্যান্ড ইমপ্রুভিং দ্য ওয়েল-বিয়িং অব দ্য এলডারলি’ নামে একটি জাতীয় নীতিপত্র প্রকাশ করে। সেখানে সিলভার ইকোনমিকে বড় সম্ভাবনার শিল্প হিসেবে দেখা হয়েছে।
চীন কী করতে চাইছে, সেটাই আসলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা বয়স্কদের উপযোগী পোশাক ও জুতা, খাবার, স্মার্ট হোম, স্মার্ট ঘড়ি ও পরিধানযোগ্য যন্ত্র, কেয়ার রোবট, স্মার্ট হুইলচেয়ার, পুনর্বাসন সরঞ্জাম তৈরির কথা বলছে। এর সঙ্গে বিমা ও আর্থিক সেবা, হোটেল-মোটেল এবং প্রবীণবান্ধব পর্যটনও রয়েছে। অর্থাৎ এখানে শুধু চাকরি নয়—কারখানা আছে, প্রযুক্তি আছে, রপ্তানি আছে, পর্যটন আছে, নতুন ধরনের সেবাও আছে।
অন্যদিকে ভারত প্রশিক্ষিত জেরিয়াট্রিক কেয়ারগিভার তৈরির জন্য সরকারি কর্মসূচি নিয়েছে। দেশটির মিনিস্ট্রি অব সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্টের ‘ট্রেনিং অব জেরিয়াট্রিক কেয়ারগিভার্স’ কর্মসূচির উদ্দেশ্যই হলো বাড়তে থাকা চাহিদার বিপরীতে পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত কর্মীর ঘাটতি কমানো।
কেউ দক্ষ মানুষ তৈরি করছে, কেউ নতুন পণ্য বানাচ্ছে, কেউ প্রযুক্তিতে ঢুকছে, কেউ পর্যটন ও সেবা গড়ে তুলছে। অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতি ধরার রাস্তা একটাই নয়। মানুষ পাঠানো তার একটি পথ; পণ্য, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও সেবা নিয়ে ঢোকাও আরেকটি বড় পথ।
ফিলিপাইনও অনেক আগে থেকেই জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট ব্যবহার করে নার্স ও কেয়ারগিভার তৈরি ও পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। সেখানে শুধু প্রশিক্ষণ নয়; জাপানি ভাষা শেখানো এবং গন্তব্য দেশের পেশাগত পরীক্ষার জন্যও কর্মীদের প্রস্তুত করা হয়।
এই উদাহরণগুলোর মধ্যে একটা মিল আছে। কেউ দক্ষ মানুষ তৈরি করছে, কেউ নতুন পণ্য বানাচ্ছে, কেউ প্রযুক্তিতে ঢুকছে, কেউ পর্যটন ও সেবা গড়ে তুলছে। অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতি ধরার রাস্তা একটাই নয়। মানুষ পাঠানো তার একটি পথ; পণ্য, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও সেবা নিয়ে ঢোকাও আরেকটি বড় পথ।
বাংলাদেশকে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) আছে, নার্সিং শিক্ষা আছে, বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানও আছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–এনএসডিএর অধীনে বয়স্কদের কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণও হচ্ছে। সমস্যা হলো, এগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে; সিলভার ইকোনমিকে সামনে রেখে এক পরিকল্পনায় আনা হয়নি।
প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি জাতীয় টাস্কফোর্স। প্রবাসীকল্যাণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, শিল্প ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, এনএসডিএ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে বসাতে হবে। কোন দেশে কী ধরনের কর্মী, পণ্য ও সেবার চাহিদা আছে, সেটা দেখে একটি জাতীয় পরিকল্পনা করতে হবে।
নতুন প্রতিষ্ঠান বানানোরও দরকার নেই। বিদ্যমান কয়েকটি টিটিসিকে বিশেষায়িত কেয়ারগিভিং একাডেমিতে রূপান্তর করা যায়। সেখানে কেয়ারগিভিংয়ের সঙ্গে জাপানি, জার্মান, কোরীয়সহ প্রয়োজনীয় ভাষা ও গন্তব্য দেশের কাজের নিয়ম শেখাতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব করে তাদের কারিকুলাম, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মান যুক্ত করতে হবে, যাতে এখানকার সনদ বিদেশেও সহজে গ্রহণযোগ্য হয়।
ভালো প্রশিক্ষক ও ভাষাশিক্ষকের ঘাটতি আছে। রাতারাতি তা পূরণ হবে না। বিদেশে থাকা দক্ষ বাংলাদেশিদের অনলাইনে যুক্ত করা যেতে পারে। যাঁরা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও কাজের পরিবেশ জানেন, সরকার তাঁদের সম্মানী দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ক্লাস নিতে পারে। এতে ভাষা শেখানোর পাশাপাশি বিদেশের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতাও দেশে আসবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানে জেরিয়াট্রিক কেয়ার, এল্ডার কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ও রিহ্যাবিলিটেশনে অনার্স, মাস্টার্স, ডিপ্লোমা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের সুযোগ বাড়াতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বাধা ও বিভিন্ন অংশীজনের স্বার্থে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অবকাঠামো পুরোপুরি কাজে লাগছে না। প্রয়োজনীয় মান ও নিয়ন্ত্রণ রেখে এই সুযোগ উন্মুক্ত করার সময় এসেছে।
তবে পরিকল্পনাটা শুধু লোক পাঠানোয় আটকে থাকলে চলবে না। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের কারখানা, দক্ষতা ও বিদেশি ক্রেতার যোগাযোগ আগে থেকেই আছে। এগুলো কাজে লাগিয়ে বয়স্কদের উপযোগী পোশাক, বিশেষ জুতা ও ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করা যায়। পাশাপাশি ওষুধ, হালকা চিকিৎসা সরঞ্জাম, সহায়ক যন্ত্র, সফটওয়্যার ও ডিজিটাল সেবার বাজারও খুঁজতে হবে। প্রবীণবান্ধব পর্যটন, ওয়েলনেস ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবার সুযোগও যাচাই করা যেতে পারে।
তাই কাজটা দুই পথে একসঙ্গে করতে হবে—আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানুষ তৈরি করে বিদেশে পাঠানো এবং বিদ্যমান শিল্পের শক্তি কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য ও সেবা নিয়ে এই বাজারে ঢোকা। সরকারের কাজ হবে দেশভিত্তিক চুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সনদের স্বীকৃতি, বিদেশি অংশীদার আনা এবং ব্যবসার পথ সহজ করা। অর্থাৎ সিলভার ইকোনমিকে শুধু শ্রমবাজার নয়; মানুষ, পণ্য ও সেবা মিলিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।
মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব