
চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে কিছু কাজ হয়েছে। এখন অর্থনীতির সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়েও আলাপ জরুরি। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ছাড়া কেবল রাজনৈতিক সংস্কার দেশে শান্তি আনবে না। অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে দুই পর্বে লিখেছেন আলতাফ পারভেজ। আজ প্রকাশিত হলো শেষ পর্ব
এই লেখার গত কিস্তিতে বলা হয়েছিল, সমাজে ধনবৈষম্য ও আয়বৈষম্য দ্রুত না কমালে বাংলাদেশের জন্য ‘লাল জুলাইয়ে’র আরও ঝুঁকি আছে। আবার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন-বিনিয়োগের স্বার্থে এখানে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের সুযোগ আছে।
২০২৪ সালের এক হিসাবে দেখা যায়, এখানে টিআইএনধারী আছেন ১ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার জন; যদিও ওই বছর রিটার্ন দাখিল করেন কমবেশি মাত্র ৩৬ লাখ টিআইএনধারী। রিটার্ন দাখিলকারীরা সবাই কর দেন না। যাঁরা প্রকৃতই কর দেন, তাঁদের মধ্যে সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা বেশি।
অর্থনৈতিক ভাষ্যকারদের অনেকের দাবি, প্রকৃতই কিছু কর দেন এমন রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা বাংলাদেশে ১৮ লাখ বা এর কাছাকাছি। এই করদাতাদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীর সংখ্যা অর্ধেকের মতো। তাঁদের বাদ দিলে বাংলাদেশে আয়কর দেওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮-১০ লাখ মাত্র। অথচ দেশের জনসংখ্যার ৫ শতাংশও কর দেওয়ার যোগ্য হলে ৮০-৯০ লাখ মানুষের কর দেওয়ার কথা।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি দাবি করেছে, ‘দেশে ধনী ও উচ্চমধ্যবিত্তদের ৮৭ শতাংশই আয়কর দেন না।’ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির অনেকে লাইসেন্স বা নিবন্ধন না নিয়ে করের আওতার বাইরে থাকতে পারছে। অথচ ওই দিকে বিশাল অর্থনৈতিক জগৎ আছে।
আবার ইতিমধ্যে রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থা যেভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে, তারও শ্রেণিগত যৌক্তিকীকরণ প্রয়োজন। প্রতীকীভাবে বললে, এসি রেস্তোরাঁ ও নন-এসি রেস্তোরাঁর ভোক্তা সামাজিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির মানুষ। ফলে তাতে ভ্যাট হার ভিন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশকে এমন পদ্ধতি খুঁজতে হবে, যাতে যাঁদের আয় কম তাঁদের ওপর কম কর ধার্য হবে এবং যাঁদের আয় যত বেশি, তাঁদের ওপর তত বেশি কর ধার্য হবে। এ রকম মডেল একদিকে যেমন যৌক্তিক, অন্যদিকে তার মাধ্যমেই কেবল বৈষম্যবিরোধী উন্নয়নকাজের জন্য বাড়তি তহবিল জোগাড় সম্ভব। গড় ব্যবস্থায় সবার ওপর একই হারে ভ্যাট আরোপের বিকল্প দরকার।
আয়ের স্তর বিবেচনায় না নিয়ে গড়ে একই হারে রাজস্ব দাবি ধার্য হলে তাতে কম আয়ের মানুষের আয়ের যতটুকু অংশ কর হিসেবে চলে যায়, ধনাঢ্যদের যায় তার চেয়ে বহু কম অংশ। কর ধার্য হওয়া উচিত আয়ের স্তর বিবেচনায় নিয়ে। অনেক স্তরে এবং নিচের দিকে করছাড় দিয়ে ওপরের দিকে হার বাড়ানো দরকার।
সম্পদকর এবং বিলাসী জিনিসপত্রের ওপর বিশেষ করব্যবস্থাও ‘প্রগ্রেসিভ ট্যাক্স সিস্টেমের’ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বর্তমানে নিট সম্পদ (স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে) মূল্য চার কোটি টাকা অতিক্রম করলে আয়করের ওপর বাড়তি সারচার্জ আছে।
এ ক্ষেত্রে সরাসরি করারোপের বিষয়ও বিবেচনা করা যায়। আবার সারচার্জ যে সম্পদের আয়কে ঘিরে হচ্ছে, তার হিসাব করবর্ষের বাজার দরে হচ্ছে না। আট হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটের ওপর সারচার্জ আছে। এ রকম ফ্ল্যাটের দরবিবরণী হচ্ছে বহু যুগ আগের ক্রয়কালীন হিসাবে। কারও একাধিক গাড়ি থাকলে সারচার্জ ধার্য হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অনেকেই দ্বিতীয় গাড়ি পরিবারের অপর কারও নামে নথিভুক্ত করেন।
সারচার্জ বিধানের সংস্কারের মতোই আরেকটি কর্মসূচি হতে পারে উত্তরাধিকারে পাওয়া সম্পদে করারোপ। যেখানে পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত আয়ে কর দিতে হচ্ছে, সেখানে বিনা পরিশ্রমে মৃত পূর্বপুরুষ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদে কর না থাকা অসাম্য। এটা সম্পদ অর্জনে মেধা ও পরিশ্রমের ভূমিকাকে নিরুৎসাহিত করে। এ রকম করের হারে আত্মীয়তার ধরন অনুযায়ী রকমফের রাখা যায়; যিনি যত দূরবর্তী আত্মীয়, তাঁর বেলায় করহার অধিক থাকা বাঞ্ছনীয়। বিশ্বের বহু দেশে এই কর রয়েছে।
বর্তমান আয়কর নিয়মের শেষ স্তর ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পেরোলে পরবর্তী আয়ে যে কাউকে ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। এ রকম ক্ষেত্রে একজন লোক যদি বছরে ৪০ লাখ টাকা আয় করেন এবং অপরজন ৪০ কোটি টাকা আয় করেন, তাঁদের উভয়কে যদি সমান ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়, তাহলে প্রথমজনের ২৮ লাখ টাকা অবশিষ্ট থাকবে, আর দ্বিতীয়জনের থাকবে ২৮ কোটি। একই নিয়ম ও একই হার বহাল থাকলে তাঁদের উভয়ের আয় ও সম্পদবৈষম্যের এই ব্যবধান পরেও বহাল থাকবে এবং বাড়বে। কিন্তু যদি প্রথম জনের জন্য আয়কর ৩০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় জনের করহার ৪০ বা ৫০ শতাংশ করা হয়, তাহলে সামান্য হলেও কিছুটা আয়সমতা আসতে শুরু করবে।
এ রকম বিবিধ উপায়ে কর সংস্কার ও সেখান থেকে প্রাপ্ত সম্পদ দুভাবে সমাজে বৈষম্য কমায়। প্রথমত, কর আদায় প্রক্রিয়াই সেখানে একধরনের সমতামুখিতা অবস্থা তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, বাড়তি কর বিনিয়োগে সমাজে বৈষম্য কমার মাধ্যমে নতুন পুঁজি ও নতুন ক্রেতাগোষ্ঠী তৈরি হয়। নতুন ক্রেতা-ভোক্তা গোষ্ঠী সমাজে পণ্য চাহিদা ও ভোগ বাড়ায়। তাতে অর্থনীতিতে বাড়তি গতি আসে এবং বাড়তি কর আহরণের জায়গা তৈরি হয়।
কিন্তু এ রকম না ঘটে যদি বৈষম্যই চলতে থাকে এবং বাড়তে থাকে, তাহলে কী অবস্থা তৈরি হয়, তার নজির ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কা, ২০২৪ সালের বাংলাদেশ এবং ২০২৫ সালের নেপাল। এসব অভ্যুত্থান সমাজে ধনবৈষম্য কমানোর জোরালো তাগিদ দিচ্ছে। সেই তাগিদ অগ্রাহ্য করা কি ঠিক হবে?
অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এটাও মনে রাখা জরুরিÑকরব্যবস্থার সংস্কার হলে এবং সংস্কার হয়ে বাড়তি রাজস্ব এলেই সমাজে বৈষম্য কমে না। জবরদস্তিমূলকভাবেও কর সংস্কার করা যায় না। বাংলাদেশে এবং একই রকম বৈষম্যপীড়িত ও অপর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধার দেশগুলোতে মানুষ যে কর দিতে নিরুৎসাহী সেটা এ কারণে যে, কর ক্রমে বাড়লেও সমাজের মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও বিত্তহীনেরা তা থেকে প্রত্যাশিত কোনো সুফল পাচ্ছে না, সহায়তা পাচ্ছে না।
তা ছাড়া নাগরিকদের যদি পণ্য চলাচলে ও সেবাধর্মী কাজে বর্তমানের মতো ব্যাপক চাঁদা ও ঘুষ দিয়ে যেতে হয়, তাহলে বাড়তি কর, সারচার্জ কোথা থেকে দেবেন বা কেন দেবেন তাঁরা? কিংবা যে উৎপাদনমুখী কারখানা নিয়মিত গ্যাসই পাচ্ছে না, তার উদ্যোক্তা কীভাবে কর দেবেন?
তার মানে, প্রগ্রেসিভ ট্যাক্স রিফর্মের সঙ্গে সঙ্গে সুশাসন ও প্রগ্রেসিভ ব্যয়নীতি লাগবে। কেবল আয় বা দেশজ সম্পদ বাড়লেই অর্থনীতি সুষম চেহারা নেয় না। সম্পদশালীদের ওপর করের হার বাড়লেই সম্পদ পুনর্বণ্টিত হয় না। যেমন সরকার অর্থ অধ্যাদেশে সংশোধনী এনে যাঁদের একাধিক গাড়ি রয়েছে, তাঁদের দ্বিতীয় গাড়ির জন্য ২৫ হাজার টাকা পরিবেশ সারচার্জ ধরেছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়নের পক্ষে প্রভাবশালীদের পক্ষপাত এত তীব্র থাকে যে প্রগ্রেসিভ ব্যয়নীতি গুরুত্ব পায় কম। ফলে দেখা যাচ্ছে, মেট্রোরেল ছাড়াও এক্সপ্রেসওয়ে, নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল ইত্যাদি বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ প্রকল্প হচ্ছে মূলত শহরাঞ্চলে। এ রকম অনেক প্রকল্পের সম্ভাব্য লাভ–লোকসানের হিসাবও প্রভাবশালীদের প্রভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে না।
রাজস্ব আহরণের জন্য এটা ভালো উদ্যোগ হলেও প্রশ্ন তোলা যায়, এই রাজস্ব কীভাবে এবং কোথায় খরচ হবে? পরিবেশ সারচার্জ হিসেবে পাওয়া অর্থ পরিবেশ সুরক্ষাধর্মী কোনো কাজে খরচ হবে কি না? ধরা যাক, যারা পরিবেশসম্মত কৃষি করছে তাদের ওই অর্থ দিয়ে প্রণোদনা দেওয়া হবে কি না? ‘প্রগ্রেসিভ ট্যাক্স রিফর্ম’ এভাবেই প্রগ্রেসিভ বিনিয়োগ প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত।
বাংলাদেশে সরকার ক্রমে কর আওতা বাড়লেও প্রগ্রেসিভ ব্যয়নীতির বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় না। প্রগ্রেসিভ ট্যাক্স সিস্টেমের মাধ্যমে প্রাপ্ত বাড়তি রাজস্বকে সঠিকভাবে খরচ করার বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা করতে হবে জাতীয় নীতিনির্ধারকদের। প্রগ্রেসিভ ট্যাক্স সিস্টেমের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ করে সেটা ঢাকার গুলশান-বনানী-বারিধারার মানুষদের জন্য আরও কয়েকটি ফ্লাইওভার তৈরিতে বা অনুরূপ ধাঁচের ধনীমুখী প্রকল্পে ব্যয় করলে তাতে দেশের এখনকার সামাজিক বৈষম্য কমবে না।
বাড়তি রাজস্ব ব্যয়ের অগ্রাধিকার নতুন করে ঠিক করতে হবে বাংলাদেশকে। সম্ভাব্য এই ব্যয়নীতির মূলে থাকবে এমন সব কাঠামোগত উদ্যোগ, যা দেশব্যাপী গরিব ও সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে সম্পদের স্থানান্তর ও পুর্নবণ্টন ঘটাবে। ইতিমধ্যে সমাজের যেসব শ্রেণি উন্নয়ন উদ্যোগগুলো থেকে সুবিধা নিয়েছে, নতুন ব্যয়নীতির অভিমুখ সে দিক থেকে বদল করতে হবে। বিবেচনা করতে হবে, ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে কেবল সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়াব, নাকি তার একাংশ কৃষিজীবীদেরও দেব?
ঢাকায় যে মেট্রোরেল হলো, তাতে খরচ হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এই অর্থে দেশের সবার হিস্যা আছে। এই প্রকল্পে অবশ্যই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়বে। সম্পদ সৃষ্টি হবে। কিন্তু তার সুবিধাভোগী মূলত ঢাকার মানুষ। এ রকম অধিকাংশ প্রকল্প ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় বড় শহরকেন্দ্রিক হলে প্রান্তিক জেলাগুলোতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ করার সম্পদ আসবে কোথা থেকে?
ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়নের পক্ষে প্রভাবশালীদের পক্ষপাত এত তীব্র থাকে যে প্রগ্রেসিভ ব্যয়নীতি গুরুত্ব পায় কম। ফলে দেখা যাচ্ছে, মেট্রোরেল ছাড়াও এক্সপ্রেসওয়ে, নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল ইত্যাদি বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ প্রকল্প হচ্ছে মূলত শহরাঞ্চলে। এ রকম অনেক প্রকল্পের সম্ভাব্য লাভ–লোকসানের হিসাবও প্রভাবশালীদের প্রভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। এই ধারা বদলিয়ে প্রান্তিক জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রয়োজন এখন। তাতে গ্রাম-শহর উন্নয়ন বঞ্চনা কিছুটা কমবে, যেটা বর্তমানে অবিশ্বাস্য রকমে তীব্র।
গ্রামমুখী নতুন ব্যয়নীতিতে থাকতে পারে প্রান্তিক জনপদে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো, ভূমি সংস্কার ও ভূমি পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থাপনা গড়া, সমাজকল্যাণধর্মী কর্মসূচি বাড়ানো, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জৈব কৃষিকে প্রণোদনা ইত্যাদি। এ রকম পদক্ষেপসমূহের বড় এক লক্ষ্য হতে পারে চরাঞ্চল, দলিত সম্প্রদায় ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী।
দরিদ্র এলাকামুখী স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রগ্রেসিভ ব্যয়নীতির একটি নজরকাড়া উদাহরণ তৈরি করেছিল দিল্লিতে আম-আদমি পার্টি। ক্ষমতায় থাকাকালে তারা দরিদ্র এলাকাগুলোতে প্রাথমিক কিছু স্বাস্থ্যসেবার জন্য একধরনের ক্লিনিক চালু করে, যাকে তারা বলছিল মহল্লা ক্লিনিক। ডায়রিয়া, জ্বর ইত্যাদি বিষয়ে চিকিৎসা এবং নিত্যদিনের হরেক দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হতো এসব ক্লিনিকে। এগুলো শহুরে দরিদ্রদের চিকিৎসা খরচ অনেক কমিয়ে ফেলে, যা পরোক্ষে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো করে।
মহল্লা ক্লিনিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বিনা মূল্যে ছিল, সে কারণে মানুষ ঘন ঘন তাতে যেত। এতে কারও স্বাস্থ্য সমস্যা হলে প্রাথমিক পর্যায়েই সেটা জানা যেত এবং তারা অল্প চিকিৎসায় রোগমুক্ত থাকত। একপর্যায়ে দিল্লিজুড়ে ৪৯০টি মহল্লা ক্লিনিক পরিচালনা করছিল এএপি সরকার। এই রাজ্য সরকার বাছাই করা কিছু ক্লিনিকে দরিদ্রদের জন্য প্রায় ২০০ ধরনের ডায়াগনস্টিক টেস্টেরও ব্যবস্থা করে। এটা ছিল তাদের স্বাস্থ্য সংস্কারের প্রথম স্তর।
দ্বিতীয় স্তরে তারা একধরনের পলিক্লিনিক খোলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের কাছে দরিদ্র মানুষের পরামর্শের জন্য। একই ধরনের জনগোষ্ঠীর জন্য তাদের আরেকটা সংস্কার ছিল রাষ্ট্রীয় হাসপাতাল থেকে সুপারিশকৃত রোগীদের সরকারি খরচে প্রাইভেট হাসপাতালে অপারেশন করার ব্যবস্থা। এই কর্মসূচিতে ৪১টি প্রাইভেট হাসপাতালকে যুক্ত করেছিল তারা। এই খাতে তারা ব্যাপক বিনিয়োগ করে।
আম আদমি পার্টি স্বাস্থ্য খাতের মতো দিল্লির সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোতে অনেক উদ্যোগ নেয়। তাতে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা অনেকখানি নিশ্চিত হয়।
বলা বাহুল্য, সম্পদ স্থানান্তর বা সম্পদ পুনর্বণ্টনের যেকোনো উদ্যোগ অর্থনৈতিক শ্রেণিযুদ্ধের মতো। এ রকম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে এর পক্ষে মানুষের সমাবেশীকরণ লাগবে। প্রগ্রেসিভ ট্যাক্স রিফর্ম এবং প্রগ্রেসিভ সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট উভয়ের জন্য সমাজে নতুন ধারার রাজনৈতিক শক্তি সমাবেশ দরকার।
এ ধরনের কর সংস্কার যেমন বাধা পাবে, তেমনি আহরিত সম্পদের নতুন ধারার বিনিয়োগের জন্য ব্যাপক জনতার চাপ প্রয়োজন। কোটিপতি রাজনীতিবিদেরা সেই রাজনৈতিক-অর্থনীতির পক্ষে জনতাকে সমবেত করতে চাইবেন বলে ভরসা পাওয়া যায় না। সে রকম কোনো জোরালো অঙ্গীকার দেখা যায়নি তাঁদের দলগুলোর ভেতর থেকে। ফলে এখনকার জরুরি অর্থনৈতিক সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক শক্তির সমাবেশ প্রয়োজন।
আলতাফ পারভেজ গবেষক
ই–মেইল: altafparvez@yahoo.com
মতামত লেখকের নিজস্ব