ছবি: শিক্ষক বাতায়নের ওয়েবসাইট থেকে
ছবি: শিক্ষক বাতায়নের ওয়েবসাইট থেকে

অভিমত–বিশ্লেষণ

শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে বিএনপির সামনে যে সুযোগ

শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ নানাভাবে অনেক পিছিয়ে। সেখানে সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের। এদিকে প্রযুক্তির প্রসারের ফলে বিশ্বব্যাপী শিক্ষাপদ্ধতিতেও পরিবর্তন চলে এসেছে। ফলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তরও জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় বিএনপি সরকার শিক্ষাখাতে পরিবর্তনে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে এ বিশ্লেষণ লিখেছেন এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ  

এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ

সরকারকে শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে না। দেশে ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রযুক্তির অবকাঠামো আছে। সেগুলো ব্যবহারের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অপচয় ও সুশাসনের ব্যর্থতার তথ্যও রয়েছে। ২০২৫ সালে তৈরি আইসিটি শ্বেতপত্রে প্রকল্পের পরিকল্পনা, কেনাকাটা, বাস্তবায়ন ও তদারকির বিভিন্ন পর্যায়ের অনিয়ম নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকার নতুন বিনিয়োগকে আরও কার্যকর করতে পারে।

দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই শিক্ষা সংস্কারে বিএনপি সরকার যে গুরুত্ব দিচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। শিক্ষক-সংকটের ব্যাপ্তি নিরূপণ ও পাঠ্যক্রম পরিমার্জন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বহুল আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর। এ-সংক্রান্ত সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’। আরও আছে বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ে এআই ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা।

সরকারের প্রস্তাবিত দুটি শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর প্রকল্পে প্রায় ২১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বড় প্রকল্পটির ব্যয় ১৮ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এতে এক লাখ শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল প্যানেলসহ প্রযুক্তিসুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার নেক্সটজেন প্রকল্পে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসককে প্রশিক্ষণ এবং ১ হাজার ৫০টি বিদ্যালয়ে ২ হাজার ১০০টি আইসিটি ও এআই ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প দুটির সম্ভাব্য বাস্তবায়নকাল ২০২৭-৩১। বড় প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে; নেক্সটজেন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।

তাই প্রকল্পের নকশা পর্যালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ এখনো আছে। এ পর্যায়েই প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন—উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়, বরং বিপুল সরকারি বিনিয়োগের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই শিক্ষা খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগকে শিখনঘাটতি পূরণের একটি টেকসই ও বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখায় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে বিএনপির একটি বড় সুবিধা আছে। সরকারকে শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে না। দেশে ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রযুক্তির অবকাঠামো আছে। সেগুলো ব্যবহারের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অপচয় ও সুশাসনের ব্যর্থতার তথ্যও রয়েছে। আমার নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সের তৈরি ২০২৫ সালের আইসিটি শ্বেতপত্রে প্রকল্পের পরিকল্পনা, কেনাকাটা, বাস্তবায়ন ও তদারকির বিভিন্ন পর্যায়ের অনিয়ম নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকার নতুন বিনিয়োগকে আরও কার্যকর করতে পারে।

ল্যাব আছে কিন্তু শিক্ষার্থীরা কী শিখছে

২০২৫ সালের আইসিটি শ্বেতপত্রের জন্য শিক্ষা খাতে প্রামাণিক তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা বিগত ১০ বছরে স্থাপিত ৯ হাজারের বেশি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ‘স্কুল অব ফিউচার’ উদ্যোগ পরীক্ষা করেছিলাম।

মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রকল্পের বাইরের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক বিচার করা হয়েছিল। এককথায় আমাদের তদন্তের উপসংহার ছিল ‘ল্যাব উইদাউট লার্নিং’। অর্থাৎ বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ল্যাব আছে কিন্তু শিক্ষার ফলাফলে তার দৃশ্যমান প্রভাব নেই। কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পে অনুমোদিত যন্ত্রপাতি পৌঁছালেও প্রশিক্ষিত আইসিটি শিক্ষক নেই। কোথাও লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার কার্যকর নয়, কোথাও রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ব্যবহার অনিশ্চিত।

আমাদের গবেষণা ও তদন্তে প্রশাসনিক শিক্ষাতথ্য বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তির প্রাপ্যতা ও ব্যবহারে উন্নতি পাওয়া গেলেও ২০২১-২৩ সময়ে এসএসসির পাসের হার বা জিপিএ-৫ অর্জনে পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ উন্নতি শনাক্ত হয়নি। অবশ্য এসব সূচক প্রযুক্তির সব সুফল পরিমাপ করতে সক্ষম নয়। শ্বেতপত্রের গবেষণা ও তদন্ত থেকে এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে ডিজিটাল প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।

তবে আমাদের মূল বার্তা ছিল, অতীতের একই ব্যবস্থাপনা কাঠামো বহাল রেখে কেবল ডিজিটাল যন্ত্রপাতি বসালেই শিক্ষার মান বাড়বে—এই অনুমানের ওপর বড় বিনিয়োগের যৌক্তিকতা দাঁড় করানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

আগের ডিজিটাল ল্যাব প্রকল্পের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা শুধু আইসিটি বিভাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাউশির (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) আগের নিজস্ব প্রকল্প নিয়ে আইএমইডির মূল্যায়ন প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, জরিপভুক্ত শিক্ষকদের ২৪ শতাংশের ল্যাপটপ ছিল ব্যবহার-অনুপযোগী। আবার ৫৬ শতাংশ শিক্ষকের ক্ষেত্রে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরির প্রশিক্ষণ যথেষ্ট ছিল না। প্রকল্পের মেয়াদ চারবার বাড়ানোর পরও ২০২৬ সালের জুনের সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে তা শেষ হয়নি।

প্রশিক্ষণ থেকে শ্রেণিকক্ষে

ডিজিটাল প্যানেল, ট্যাবলেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক সরঞ্জামে বিনিয়োগের মূল্য নির্ভর করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সেগুলো দিয়ে কী করতে পারেন, তার ওপর। একজন দক্ষ শিক্ষক ডিজিটাল প্যানেলে জটিল বিষয় সহজ করে উপস্থাপন করতে পারেন। আবার একই প্যানেলে এমন বিষয়বস্তুও দেখানো সম্ভব, যা শিক্ষার্থীরা বুঝতেই পারছে না। শিক্ষার্থীর হাতে ট্যাবলেট থাকা আর তার ভুল বুঝে সেই অনুযায়ী পাঠদানপদ্ধতি বদলাতে পারা একধরনের সক্ষমতা নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সুফল পেতে বাংলাদেশকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ‘সর্বজনীন কার্যকর সাক্ষরতা’ নিশ্চিত করতে হবে। পড়া ও বোঝা, গণনা, যুক্তি প্রয়োগ এবং তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা ছাড়া একজন শিক্ষার্থী এআই থেকে উত্তর পেতে পারে, অথচ বিষয়টি বোঝার সুযোগ হারাতে পারে। শিক্ষকেরও বিষয়জ্ঞান, পাঠদানের দক্ষতা এবং এআই ব্যবহারের যথাযথ সক্ষমতা প্রয়োজন। প্রযুক্তি মৌলিক শিখনঘাটতি পূরণে কতটা সহায়তা করছে, তা-ও যাচাই করতে হবে।

প্রশিক্ষণ তখনই কাজে আসে, যখন তা গ্রহণের সক্ষমতা, প্রয়োগের সুযোগ ও আচরণ পরিবর্তনের প্রণোদনা থাকে। আইসিটি শিক্ষকের পদ খালি থাকলে অন্য কাউকে কর্মশালায় পাঠিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা যায় না। প্রশিক্ষণ হতে হবে বিষয় ও শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন অনুযায়ী। এরপর পাঠদান পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ ও সমস্যা সমাধানে সহায়তার ব্যবস্থা থাকতে হবে। শিক্ষকের অনুপস্থিতি কিংবা প্রধান শিক্ষকের দুর্বল তদারকি বহাল থাকলে প্রশিক্ষণের সনদ শিক্ষার্থীর শেখার নিশ্চয়তা
দেবে না।

কোন শিক্ষক আগে কী শিখেছেন, নতুন প্রকল্পে একই প্রশিক্ষণ আবার পাচ্ছেন কি না এবং অর্জিত দক্ষতা প্রয়োগ করছেন কি না—তারও স্বচ্ছ হিসাব ও জবাবদিহি থাকা দরকার। প্রশিক্ষণের অগ্রগতি মাপতে হবে শিক্ষকের প্রদর্শিত সক্ষমতা ও পাঠদানে পরিবর্তনের ভিত্তিতে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এর বিকল্প হতে পারে না।

দরিদ্র ও দূরবর্তী বিদ্যালয়কে শুধু যন্ত্রপাতি দিয়েই সমান সুযোগ তৈরি করা যায় না। সেখানে জনবল, বিদ্যুৎ, সংযোগ ও কারিগরি সহায়তায় বাড়তি বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। শুধু দ্রুত সরঞ্জাম গ্রহণে প্রস্তুত বিদ্যালয় বেছে নিলে সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, এমন শিক্ষার্থীরা আবারও পিছিয়ে পড়বে।

ডিজিটাল প্রকল্পের ডিজিটাল জবাবদিহি

হার্ডওয়্যারমুখী স্লোগান রাজনৈতিক প্রচারে বেশি দৃশ্যমান। নতুন ডিজিটাল প্যানেল উদ্বোধন ও ট্যাবলেট বিতরণের ছবি দেখিয়ে সাফল্য দাবি করা অপেক্ষাকৃত সহজ। সেই তুলনায় শিক্ষার্থীর বোঝার সক্ষমতার উন্নতি প্রমাণ করা এবং নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করা কঠিন। ফলে প্রকল্পের সাফল্য নির্ধারণের সূচক সহজেই ‘শিখনফল’ বা ‘শিখনঘাটতি’ থেকে সরে গিয়ে কেনাকাটা ও বিতরণের পরিসংখ্যানের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সংস্কার তখন হয়ে ওঠে প্রদর্শনমূলক; ব্যয় বাড়লেও মূল সমস্যার সমাধান অনিশ্চিত থেকে যায়।

শ্বেতপত্রে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও জবাবদিহির ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছিল। মূল বার্তা ছিল, নাম বদলে বিদ্যমান বা পুরোনো কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি কিংবা নতুন সরঞ্জাম দিয়েই পুরোনো শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা কাটানো যায় না। প্রয়োজন তিন ক্ষেত্রে পরিবর্তন—প্রকল্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যাচাইপ্রক্রিয়া ও মূল্যায়ন কাঠামোয়।

আমাদের পরীক্ষিত এসআরডিএল উদ্যোগে তদারকি ও প্রভাব মূল্যায়নের দায়িত্ব একই প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার নজির ছিল। সরবরাহ বা বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষ যদি কাজ যাচাই ও সাফল্য মূল্যায়নেও প্রভাব রাখে, তাহলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়। নতুন প্রকল্পে এসব দায়িত্বের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

ডিজিটাল প্রকল্পের আওতায় কেনা সম্পদের নিবন্ধনও জরুরি। কোন যন্ত্র কোথায় আছে, তা সচল কি না, ওয়ারেন্টির মেয়াদ কত দিন এবং মেরামতের দায়িত্ব কার—এসবের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিটি সম্পদের আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর, গ্রহণ ও মান যাচাইয়ের রেকর্ড এবং মেরামতের ইতিহাস রাখা সম্ভব। প্রযুক্তির জন্য কেনা সম্পদ প্রযুক্তি দিয়েই তদারক করা উচিত।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ই-জিপির মাধ্যমে কেনাকাটা, বাজারদরের সঙ্গে মূল্য যাচাই, স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ এবং সরঞ্জামের স্বাধীন মান যাচাই নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ইন্টারনেট সংযোগ, সফটওয়্যার, মেরামত ও প্রতিস্থাপনের ব্যয়ও শুরুতেই নির্ধারণ করতে হবে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এসব ব্যয় কে বহন করবে, তা প্রকল্পের চুক্তিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি।

শেখার ফলের ভিত্তিতে সম্প্রসারণ

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ইতিমধ্যে চাহিদা যাচাই, ডিজিটাল বিষয়বস্তু, সংযোগ, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ট্যাবলেট উদ্যোগ চালু এবং পরে ধাপে ধাপে তা সম্প্রসারণের কথা বলেছেন। এটি উৎসাহব্যঞ্জক। এখন এসব প্রতিশ্রুতিকে প্রকল্প অনুমোদন, বাজেট, চুক্তি ও অর্থ ছাড়ের কার্যকর শর্তে রূপ দিতে হবে।

এর ভিত্তি হতে পারে ২০২৫ সালের আইসিটি শ্বেতপত্র অনুসরণে একটি প্রকাশ্য সুশাসন নির্দেশিকা। আগের প্রকল্পে কী সমস্যা হয়েছিল, নতুন ব্যবস্থায় তা কীভাবে ঠেকানো হবে, কে দায়িত্ব নেবেন এবং ব্যর্থতার জবাব কে দেবেন—এসব স্পষ্ট করতে হবে। সরকারের আগ্রহের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হবে এই নির্দেশিকার কার্যকর বাস্তবায়ন।

বিদ্যালয় নির্বাচনের মানদণ্ডও প্রকাশ করা দরকার। দরিদ্র ও দূরবর্তী বিদ্যালয়কে শুধু যন্ত্রপাতি দিয়েই সমান সুযোগ তৈরি করা যায় না। সেখানে জনবল, বিদ্যুৎ, সংযোগ ও কারিগরি সহায়তায় বাড়তি বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। শুধু দ্রুত সরঞ্জাম গ্রহণে প্রস্তুত বিদ্যালয় বেছে নিলে সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, এমন শিক্ষার্থীরা আবারও পিছিয়ে পড়বে।

পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের শেখার অবস্থা ও শিখনঘাটতি পরিমাপ করতে হবে। পরে স্বাধীন মূল্যায়নের মাধ্যমে দেখতে হবে, শিক্ষার্থীদের বোঝার সক্ষমতা, গণনা ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় কতটা পরিবর্তন এসেছে। বিকল্প ব্যবস্থা—যেমন শিখনঘাটতি পূরণে পাঠদান এবং শিক্ষকদের নিয়মিত সহায়তা—এর সঙ্গে ব্যয় ও ফলাফলের তুলনা করতে হবে। ফলাফলের ভিত্তিতেই সম্প্রসারণ হবে; প্রয়োজন হলে নকশা বদলাতে হবে। কিন্তু স্বাধীন মূল্যায়নের বিধান না থাকলে প্রকল্প কর্মকর্তা ও ঠিকাদার—উভয়ের ক্ষেত্রেই জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

বিএনপির সামনে সুযোগটি তাই দ্বিমুখী: বিদ্যমান ভৌত অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানো এবং অতীতের ব্যর্থতার তথ্য কাজে লাগিয়ে নতুন বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সাফল্যের আসল পরীক্ষা হবে শিশুরা কতটা শিখল এবং পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা কতটা এগোল। অতীতের ব্যর্থতার একটি তালিকা আমাদের হাতে আছে। আশা করব, সেটিই পরবর্তী ব্যর্থতা ঠেকানোর নির্দেশিকা হয়ে উঠবে।

● এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং ২০২৫ সালের আইসিটি শ্বেতপত্র টাস্কফোর্সের প্রধান। ই–মেইল: mniaz.asadullah@gmail.com

মতামত লেখকের নিজস্ব