ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সারকথা ছিল তিনটি।
প্রথমত, রিবা বা সুদ ইসলামে নিষিদ্ধ; কিন্তু ইসলামি ব্যাংকিং নামে যে ব্যবস্থা চলছে, তা প্রকৃত অর্থে সুদমুক্ত নয়। দ্বিতীয়ত, ইসলামি ব্যাংক অর্থায়নের সময় নিজেকে বিনিয়োগকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। অথচ প্রকৃত বিনিয়োগকারীকে যেখানে মুনাফার পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকিও বহন করতে হয়, সেখানে গ্রাহকের ব্যবসায় লোকসান হলে ইসলামি ব্যাংক তার অংশীদার হয় না। প্রচলিত ব্যাংকের মতোই ইসলামি ব্যাংকও নির্ধারিত হারে ‘মুনাফা’ দাবি করে।
তৃতীয়ত, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের বহুল আলোচিত একটি মামলার রায়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি ইসলামি ব্যাংকিংয়ে কাগজে-কলমে কেনাবেচার কথা বলেন।
১৪ নভেম্বর ১৯৯১-এ পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়ত আদালত বিভিন্ন আইনের সুদসংক্রান্ত বিধানকে শরিয়াহবিরোধী ঘোষণা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্টের চার সদস্যের শরিয়ত আপিল বেঞ্চ ২৩ ডিসেম্বর ১৯৯৯-এ মূল সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। রায়ে তিনটি পৃথক মতামতের একটি লেখেন প্রখ্যাত শরিয়াহবিশেষজ্ঞ বিচারপতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী।
বিশ্বের বহু দেশে ইসলামি ব্যাংকের উপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি উসমানী ইসলামি ব্যাংকিংকে নিছক তত্ত্ব নয়, প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা হিসেবে দেখেছেন। রায়ে উদ্ধৃত তৎকালীন উপাত্ত অনুযায়ী বৈশ্বিক আর্থিক সেবা খাতের তুলনায় ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রবৃদ্ধি বেশি ছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, খাতটির সীমাবদ্ধতা ও অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে।
একই সঙ্গে বিচারপতি উসমানী মুরাবাহার ওপর অতিনির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মুরাবাহা একটি বিক্রয়চুক্তি; ইসলামি ব্যাংকের মুরাবাহা অর্থায়নে ব্যাংক ক্রয়মূল্য প্রকাশ করে তাতে সম্মত মুনাফা যোগ করে পণ্যটি গ্রাহকের কাছে বাকিতে বিক্রি করে। প্রচলিত চর্চায় এ মুনাফা বাজারের সুদহারকে মানদণ্ড ধরে নির্ধারিত হয়। তাঁর অবস্থান ছিল, মুরাবাহা বৈধ; তবে যেহেতু এটি একটি ক্রয়-বিক্রয়, তাই বিক্রয়ের সব শর্ত এতে পূরণ হতে হবে।
অর্থাৎ গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে কোনো পণ্য কিনতে চাইলেই কেবল এটি প্রযোজ্য; ব্যাংককে নিজে বা নিযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে পণ্যটি বাস্তবে কিনে এর মালিকানা এবং প্রকৃত বা গঠনমূলক দখল নিতে হবে; দখলে থাকা অবস্থায় পণ্যের ঝুঁকি বহন করতে হবে।
বিচারপতি উসমানী মুরাবাহাকে এমন একটি লেনদেন বলেছেন, যার সঙ্গে সুদভিত্তিক ঋণের পার্থক্যের সীমারেখাটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। এটি অনুমোদিত হলেও এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে; এটি আদর্শ পদ্ধতি নয় এবং কেবল সেসব ক্ষেত্রেই ব্যবহার্য, যেখানে মুশারাকা ও মুদারাবা প্রযোজ্য নয়। কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজি (পাকিস্তানের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান) ১৯৮০ সালে সতর্ক করেছিল যে এর ব্যাপক ও নির্বিচার ব্যবহার সুদের দরজা খুলে দেবে। তাঁর মন্তব্য ছিল, সেই সতর্কবাণী বাস্তবে আমলে নেওয়া হয়নি।
বিচারপতি উসমানীর পর্যবেক্ষণ ছিল, তৎকালীন পাকিস্তানের মার্কআপ ব্যবস্থায় মুরাবাহার শর্তগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে কোনো পণ্যই থাকত না; পণ্য থাকলেও ব্যাংক তা প্রকৃত অর্থে কেনাবেচা করত না। কিছু লেনদেনে পুনঃক্রয় ব্যবস্থা ব্যবহার করা হতো, যেখানে গ্রাহক নিজের পণ্য ব্যাংকের কাছে বিক্রি করে একই মুহূর্তে বেশি দামে তা ফেরত কিনে নিত। তিনি বলেছেন, এটি মুরাবাহার মূল ধারণাকে ‘তামাশায়’ পরিণত করেছে।
পরিচালন ব্যয়, বেতন ও বিল পরিশোধের মতো পণ্যহীন ক্ষেত্রেও এ কৌশল নির্বিচার প্রয়োগ করা হতো। তাঁর মত ছিল, এতে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের সুদভিত্তিক চরিত্রে অর্থবহ কোনো পরিবর্তন ঘটেনি; সুদের বিরুদ্ধে সব আপত্তি তখনকার মার্কআপ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
একই সঙ্গে বিচারপতি উসমানী ইসলামি ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত বাধাও স্বীকার করেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, এসব ব্যাংক সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যাপ্ত সহায়তা ছাড়াই সুদভিত্তিক ঋণের জন্য নির্মিত আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোয় প্রচলিত ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছিল। আর বেঞ্চের চূড়ান্ত আদেশে বলা হয়, পাকিস্তানে ব্যাংকিং কোম্পানিজ অরডিন্যান্স, ১৯৬২-এর ৯ ধারার নিষেধাজ্ঞা প্রকৃত মুরাবাহা এবং ইজারা, ভাড়া-ক্রয়, মুশারাকা ও মুদারাবার কার্যক্রম ব্যাহত করছিল।
লাভ-লোকসান বণ্টনভিত্তিক পদ্ধতির বাস্তব প্রয়োগের সীমাবদ্ধতাও বিচারপতি উসমানী স্বীকার করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবেশে অসৎ গ্রাহকদের মুনাফা গোপনের আশঙ্কাকে তিনি যথার্থ বলে মনে করেছেন। তবে এর সমাধান হিসেবে বাধ্যতামূলক ঋণমান নির্ধারণ, কঠোর নিরীক্ষা এবং অসদাচরণ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
রায়ে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো গড়ে তোলারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পণ্য ও পদ্ধতি যাচাইয়ের জন্য স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের একটি শরিয়াহ বোর্ড, হিসাব ও নিরীক্ষা পেশায় শরিয়াহসম্মত সক্ষমতা, ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা, সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান এবং ইসলামি আর্থিক দলিলের সেকেন্ডারি বাজার গড়ে তুলতে সহায়ক প্রতিষ্ঠান।
সব মিলিয়ে রায়টি ইসলামি ব্যাংকিংয়ের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেনি; বরং তৎকালীন পাকিস্তানে এর প্রয়োগগত ত্রুটি এবং আইনগত, নিয়ন্ত্রক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়ক কাঠামোর ঘাটতি চিহ্নিত করেছিল।
২৪ জুন ২০০২-এ পুনর্বিবেচনা আবেদনে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরিয়ত আপিল বেঞ্চ ১৯৯১ সালের ফেডারেল শরিয়ত আদালতের রায় এবং ১৯৯৯ সালের আপিল রায়—উভয়টিই রদ করে মামলাগুলো নতুন করে বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ফেডারেল শরিয়ত আদালতে ফেরত পাঠান।
ওই আদালত ২৮ এপ্রিল ২০২২-এ পাকিস্তানের অর্থনীতি থেকে রিবা সম্পূর্ণ বিলোপের জন্য ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭-কে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করেন। ২০২৪ সালের ২৬তম সংবিধান সংশোধনীতে অনুচ্ছেদ ৩৮(ফ) সংশোধন করে ১ জানুয়ারি ২০২৮-এর আগে রিবা সম্পূর্ণ বিলোপের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে পাকিস্তান ওই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনগত, নিয়ন্ত্রক ও আর্থিক অবকাঠামো রূপান্তরের কাজ করছে।
এই বিচারিক বিশ্লেষণের আলোকে বাংলাদেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, আইনমন্ত্রী যে সমস্যার কথা বলেছেন, তা নতুন নয়। মুরাবাহা ও একই ধরনের অন্যান্য দায় সৃষ্টিকারী মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমালোচিত।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত প্রতিকূল সময় পার করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর এ খাতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে বর্তমান সংসদেও কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, যা এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের আগ্রহের প্রতিফলন। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকেও এ খাতের বিদ্যমান চর্চার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা যেতে পারে।
তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এক প্রতিকূল অধ্যায় পার করেছে; এর পরিণতি শরিয়াহ লঙ্ঘনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আর্থিক খাতেও বড় ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
কয়েকটি ইসলামি ব্যাংক থেকে বিনিয়োগের নামে বিপুল অর্থ সরানো হয়েছে; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত, ফরেনসিক নিরীক্ষা ও পরবর্তী সমাধানপ্রক্রিয়ায় তা স্পষ্ট হয়েছে। এর বড় অংশ গেছে কাগুজে ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে, যেগুলোর প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা পণ্য ছিল না।
অর্থাৎ পণ্যের প্রকৃত ক্রয়, মালিকানা ও দখলের শর্ত মানা হয়নি, তদারকিও তা ধরতে পারেনি; এসব লেনদেন বিচারপতি উসমানীর ভাষায় ‘নিছক কাগজে-কলমে’ লেনদেন। প্রকৃত চাহিদাভিত্তিক পণ্য সত্যিই কেনাবেচা হলে এবং কার্যকর যাচাই থাকলে এভাবে অর্থ সরিয়ে নেওয়া অনেক কঠিন হতো এবং জালিয়াতি শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ত।
লোকসানের অংশীদার হওয়া নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য খেয়াল রাখা দরকার। লোকসান বণ্টন সব ধরনের ইসলামি অর্থায়নের শর্ত নয়। মুশারাকায় স্বাভাবিক ব্যবসায়িক লোকসান মূলধনের অনুপাতে বণ্টিত হয় আর মুদারাবায় আর্থিক লোকসান বহন করেন মূলধনদাতা। তবে উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পক্ষের অবহেলা, অসদাচরণ বা চুক্তিভঙ্গের কারণে ক্ষতি হলে তা সংশ্লিষ্ট দায়ী পক্ষকেই বহন করতে হয়।
অন্যদিকে মুরাবাহায় ব্যাংক বিক্রেতা, ব্যবসায় অংশীদার নয়; ফলে গ্রাহকের ব্যবসায়িক লোকসানের ভাগ নেওয়া তার দায়িত্ব নয়। মুরাবাহায় ব্যাংকের পণ্য-মালিকানাজনিত ঝুঁকি থাকে পণ্যটি গ্রাহকের কাছে বিক্রির আগে, যখন তা ব্যাংকের মালিকানা ও দখলে থাকে।
মুরাবাহার মতো দায়ভিত্তিক অর্থায়নে গ্রাহক ব্যবসায়িক লোকসানে পড়লেও বকেয়া দায় বহাল থাকে; পরিশোধে ব্যর্থ হলে ইসলামি ব্যাংকও জামানত কার্যকর করে এবং সম্পদ নিলামে তোলে।
ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান চর্চায় অংশীদারিভিত্তিক বিনিয়োগ অত্যন্ত সীমিত; অধিকাংশ বিনিয়োগ মুরাবাহা ও সমজাতীয় দায় সৃষ্টিকারী পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। তাই এখানে যে দুটি প্রশ্ন বরং বেশি প্রাসঙ্গিক: লাভ-লোকসান বণ্টনভিত্তিক পদ্ধতির ব্যবহার এত সীমিত কেন এবং মুরাবাহায় পণ্য বিক্রির আগে ব্যাংক মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি বাস্তবে গ্রহণ করছে কি না।
লোকসান বণ্টনের আরেকটি দিক হলো মুদারাবাভিত্তিক আমানত। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থার আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলো আমানত হিসাব ও বিনিয়োগ হিসাবের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হিসাবের কথা উল্লেখ করলেও সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও আমানত সুরক্ষাব্যবস্থায় বাংলাদেশে মুদারাবা হিসাব সুরক্ষিত আমানত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
এগুলো সত্যিকার অর্থে বিনিয়োগ হিসাব হলে তথ্য প্রকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা আরও প্রাসঙ্গিক ও বিস্তৃত হওয়া দরকার হবে। এর প্রভাব পড়বে ইসলামি ব্যাংকগুলোর মূলধনের বাধ্যবাধকতা, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপরও। বিদ্যমান আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মকানুন অনুযায়ী ইসলামি ব্যাংকগুলো মূলত সাধারণ ব্যাংকিং কাঠামোর অধীনেই পরিচালিত হয়। পৃথক নিয়ন্ত্রক ও প্রুডেনশিয়াল কাঠামো ছাড়া চাইলেও ইসলামি ব্যাংকগুলোর পক্ষে স্বতন্ত্র ব্যবস্থা চালু করা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব।
এসব বিবেচনায় ইসলামি ব্যাংকিংয়ে শরিয়াহ নির্ধারিত শর্ত মানা হচ্ছে কি না, এ প্রশ্ন তোলা ইসলামি ব্যাংকিংয়ের বিরোধিতা নয়; বরং সেসব শর্তকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া যায়। অনেকে এমন প্রশ্ন তুলেছেন; তাঁদের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রবক্তা ও শীর্ষ বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত প্রতিকূল সময় পার করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর এ খাতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে বর্তমান সংসদেও কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, যা এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের আগ্রহের প্রতিফলন। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকেও এ খাতের বিদ্যমান চর্চার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা যেতে পারে। এখন স্বাভাবিক পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকিং খাতকে সঠিক পথে আনতে প্রথমত রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও বাংলাদেশ ব্যাংক—উভয় পর্যায়ে দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে, যাতে খাতটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায়। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংককে শরিয়াহর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দেশনা প্রণয়ন করতে হবে, যাতে এ খাতের স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রক চাহিদা পূরণ হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদে এসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ইসলামি অর্থব্যবস্থাবিষয়ক গবেষক। ই-মেইল: mezbah.u.ahmed@gmail.com
মতামত লেখকের নিজস্ব