মতামত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ওয়েল-বিয়িং ক্লাব’: সুস্থ প্রজন্ম গড়ার প্রয়াস

আমরা কি শিক্ষাব্যবস্থাকে পরীক্ষার ফলাফলের কারখানা হিসেবেই রেখে দেব, নাকি মানুষের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলব? যদি আমাদের লক্ষ্য হয় একটি মানবিক, নৈতিক ও সুস্থ বাংলাদেশ, তবে সেই স্বপ্নের ভিত্তি গড়তে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই। ‘ওয়েল-বিয়িং’ ক্লাব সেই ভিত্তি নির্মাণের একটি নীরব, কিন্তু শক্তিশালী পথ। লিখেছেন সৈয়দ আব্দুল হামিদ

একটি গভীর ও বহুমাত্রিক সংকট আজ আমাদের জাতিকে গ্রাস করে ফেলেছে—আর তা হলো মানবিকতার সংকট। ধীরে ধীরে আমাদের ভেতর থেকে মানবিক গুণাবলি ক্ষয়ে যাচ্ছে; সহমর্মিতা, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। আমরা নিজেরাই ভালো ও নৈতিক মানুষ হয়ে ওঠার চর্চা যথাযথভাবে করতে পারিনি, ফলে সেই মূল্যবোধ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব হয়নি।

এর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আমাদের শিশু ও কিশোরদের জীবনে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক সুস্থতার দিকে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিইনি। পড়াশোনার ফলাফল, পরীক্ষার নম্বর কিংবা প্রতিযোগিতামূলক সাফল্যকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি।

কিন্তু মানুষ হিসেবে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যে মূল্যবোধ, আবেগগত ভারসাম্য, সামাজিক আচরণ ও নৈতিক শিক্ষা প্রয়োজন—সেগুলোকে উপেক্ষা করেছি। এর ফলেই আজ একটি প্রজন্ম গড়ে উঠছে, যারা তথ্যসমৃদ্ধ হলেও মূল্যবোধে দুর্বল, প্রযুক্তিতে দক্ষ হলেও মানবিকতায় শূন্যতার মুখে দাঁড়িয়ে।

এই সংকটের শিকড় অনুসন্ধান করলে আমাদের ফিরে তাকাতে হয় বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের কিছু মজ্জাগত চারিত্রিক দুর্বলতার দিকে। অযৌক্তিক হুজুগ, একে অপরের পা টেনে ধরার আত্মঘাতী মানসিকতা, কর্মবিমুখ আলস্য এবং কূপমণ্ডূকতা—এই বৈশিষ্ট্যগুলো যুগে যুগে আমাদের জাতিগত বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থায় এই চারিত্রিক ত্রুটিগুলো সংশোধনের কোনো রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা তো ছিলই না, বরং শাসকেরা চেয়েছিল আমরা যেন মানসিকভাবে পরাধীন ও আত্মবিশ্বাসহীনই থেকে যাই।

২.

রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছিল—নিজেদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নীতিব্যবস্থার মাধ্যমে একটি বলিষ্ঠ, নৈতিক ও মানবিক জাতি গড়ে তোলার সুযোগ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সুযোগ আমরা কাজে লাগাতে পারিনি।

দেশি ও বিদেশি নানা চক্রান্ত, অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ এবং ক্ষমতা ও সম্পদের লোভ আমাদের জাতীয় চারিত্রিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরেই ব্যাহত করেছে। দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও জনস্বার্থের জায়গায় জায়গা করে নিয়েছে চাটুকারিতা, সুবিধাবাদিতা এবং ব্যক্তিগত লাভের সংস্কৃতি।

এর ফল হিসেবে সমাজে মানুষ ক্রমে ‘মানুষ’ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ছে। এর ধারাবাহিকতা জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও অব্যাহত রয়েছে।

এই অবক্ষয়ের পেছনে একটি গভীর কাঠামোগত সংকট কাজ করছে—মানুষ গড়ার তিনটি মৌলিক প্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আদর্শিক চ্যুতি। জন্মগতভাবে একটি শিশু নিষ্কলুষ হলেও এই তিন স্তরে বিকৃত মূল্যবোধের সংস্পর্শে এসে তার মানবিক সত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

একসময় পরিবার ছিল নৈতিকতার শ্রেষ্ঠ পাঠশালা। মা-বাবার কাছ থেকেই শিশু শিখত সততা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ। আজ সেই পরিবারগুলো পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সন্তানকে শেখানো হচ্ছে কীভাবে অন্যের চেয়ে এগিয়ে যেতে হবে, কীভাবে বেশি নম্বর বা বেশি সম্পদ অর্জন করতে হবে। সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ বা মানবিকতার চর্চা সেখানে ক্রমেই গৌণ হয়ে উঠছে।

সমাজের অবস্থাও ভিন্ন নয়। একসময় পাড়া-প্রতিবেশীর বিপদে এগিয়ে আসা বা সমষ্টিগত কল্যাণের চিন্তা ছিল আমাদের সামাজিক সংস্কৃতির অংশ। আজ সেখানে স্থান করে নিয়েছে হিংসা, রেষারেষি এবং অন্যের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হওয়ার প্রবণতা। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সমবেত চেতনা দুর্বল হয়ে পড়ায় সমাজ আর মানুষ গড়ার সহায়ক পরিবেশ হিসেবে কাজ করতে পারছে না।

৩.

এই দুই স্তরের ব্যর্থতার চূড়ান্ত প্রতিফলন দেখা যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ছিল বিবেকবান মানুষ গড়ে তোলা, সেগুলো আজ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রূপান্তরিত হয়েছে স্রেফ সার্টিফিকেট উৎপাদনের কারখানায়।

পরীক্ষাকেন্দ্রিক ও ফলাফলনির্ভর এই শিক্ষাব্যবস্থায় চরিত্র গঠন, নৈতিক চর্চা বা মানসিক সুস্থতার কোনো কার্যকর অবকাশ নেই। শিক্ষকেরা আদর্শিক পথপ্রদর্শকের বদলে অনেক সময় তথ্য সরবরাহকারীতে পরিণত হচ্ছেন, আর শিক্ষার্থীরা মানুষ হওয়ার আগেই ‘প্রতিযোগিতার যন্ত্র’ হয়ে উঠছে।

এর ফলাফল আমরা সমাজের সর্বত্র দেখছি। এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বড় হয়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা যখন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আমলা বা রাজনীতিবিদ হচ্ছেন, তখন অনেকের মধ্যেই জনসেবার চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার প্রবণতা বেশি প্রকট হচ্ছে। এভাবেই একটি তথাকথিত ‘শিক্ষিত’ কিন্তু নৈতিকভাবে দুর্বল সমাজ গড়ে উঠেছে, যার প্রতিটি রন্ধ্রে দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে।

ফলে আজ দেশপ্রেম ক্রমেই তুচ্ছ হয়ে পড়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ, সামষ্টিক কল্যাণ বা পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভাবার অবকাশ যেন আর নেই। এই মানসিকতার সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রকাশ ঘটছে তখনই, যখন বৈধ অথবা অবৈধ যেকোনো উপায়ে অর্জিত অর্থ দেশের বাইরে পাচার করে বিদেশে বাড়ি বানানো, ফ্ল্যাট কেনা ও স্থায়ী বিনিয়োগ করাকে তারা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রতীক মনে করছে। তাই রাষ্ট্রের ভেতরটাই ধীরে ধীরে ফাঁপা হয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠে—আমরা কি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেবল ভালো পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চাই, নাকি সত্যিকার অর্থে সুস্থ, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ গড়ে তুলতে চাই? এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তরের সন্ধানেই ‘ওয়েল-বিয়িং ফার্স্ট ইনিশিয়েটিভ, বাংলাদেশ’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ওয়েল-বিয়িং ক্লাব’ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

৪.

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সুস্থ, সচেতন, সহমর্মিতাপূর্ণ ও নৈতিক জীবনবোধ গড়ে তোলা। এটি কেবল পাঠ্যভিত্তিক বা তাত্ত্বিক কোনো কর্মসূচি নয়; বরং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন, মানসিক ভারসাম্য, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যতে একজন ইতিবাচক নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করার একটি সমন্বিত প্রয়াস।

শৈশব ও কৈশোরেই যদি একজন শিক্ষার্থী পুষ্টি, মানসিক প্রশান্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক আচরণের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে, তবে সে ভবিষ্যতে নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ়, আচরণে সংযত এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে, যা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ক্লাবের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য এর গঠনকে সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক করা হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক—এই তিন স্তরের মধ্যে একটি কার্যকর সহযোগিতা বজায় রাখা হয়। তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই ক্লাবের মূল অংশগ্রহণকারী, যেখানে প্রতি শ্রেণি থেকে নেতৃত্বদানে সক্ষম কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

শিক্ষকেরা উপদেষ্টা হিসেবে দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান করেন, যাতে কার্যক্রমগুলো শিক্ষাবান্ধব ও বয়সোপযোগী হয়। পাশাপাশি অভিভাবক ও সমাজের প্রতিনিধিরা পরামর্শ ও নৈতিক সহায়তার মাধ্যমে ক্লাবকে সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত রাখেন।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় ওয়েল-বিয়িং ফার্স্ট ইনিশিয়েটিভ, বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, গাইডলাইন ও মনিটরিং সহায়তা প্রদান করে, যাতে ক্লাবের মান ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

ক্লাবের কার্যক্রমগুলো এমনভাবে পরিকল্পিত, যাতে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। ভালো অভ্যাস গঠনের ক্ষেত্রে শুধু তত্ত্ব নয়; বরং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সময় ব্যবস্থাপনার চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নিয়মিত সভা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে নাটিকা, পোস্টার প্রদর্শনী ও ভিডিও সেশনের আয়োজন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়ায় এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দময় করে তোলে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও সমাজবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস, বৃক্ষরোপণ ও পানি সাশ্রয়ের মতো কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

এই ক্লাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সহমর্মিতা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের বিকাশ। সহপাঠীর প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো, দুর্বল বা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা এবং মানবিক আচরণের চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা হয়।

ক্লাব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তারা দলগতভাবে কাজ করা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা সমাধান এবং নেতৃত্ব দেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে। একই সঙ্গে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও ইতিবাচক মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্য নৈতিক উদ্বুদ্ধকরণমূলক কর্মসূচিও পরিচালিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের আচরণে স্থায়ী ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করে।

ওয়েল-বিয়িং ক্লাবের প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া, ইতিবাচক চিন্তা বজায় রাখা, অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্মান প্রদর্শন এবং বিদ্যালয়, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করে। এই প্রতিজ্ঞা কেবল আনুষ্ঠানিক শপথ নয়; বরং এটি তাদের দৈনন্দিন আচরণ ও সিদ্ধান্তে নৈতিক দিকনির্দেশনা দেয়।

একইভাবে আচরণবিধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচকতা, আত্মোন্নয়ন, দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা উৎসাহিত করা হয়। এতে তারা সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের সুযোগ পায়।

এই উদ্যোগের প্রত্যাশিত ফলাফল হলো প্রতিটি বিদ্যালয়কে ধীরে ধীরে একটি কার্যকর ‘ওয়েল-বিয়িং হাব’-এ রূপান্তর করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল পাঠ্যজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মানসিকভাবে সুস্থ, সামাজিকভাবে সচেতন এবং নৈতিকভাবে দৃঢ় হয়ে উঠবে।

বিদ্যালয়ের পরিবেশ হবে আরও সহযোগিতামূলক, নিরাপদ ও মানবিক। এই ক্লাবকে টেকসই করার জন্য বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরিকল্পনায় একে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজের আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এটি একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়।৫.

সবশেষে বলা যায়, ওয়েল-বিয়িং ক্লাব কোনো সাধারণ সহশিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি একটি জীবনমুখী ও সমাজমুখী আন্দোলন। স্বাস্থ্য, মন ও নৈতিকতার সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই মডেল বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু দক্ষ নয়, বরং মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে—যা একটি সত্যিকারের সুস্থ বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করবে।

এখন সিদ্ধান্ত আমাদের। আমরা কি শিক্ষাব্যবস্থাকে পরীক্ষার ফলাফলের কারখানা হিসেবেই রেখে দেব, নাকি মানুষের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলব? যদি আমাদের লক্ষ্য হয় একটি মানবিক, নৈতিক ও সুস্থ বাংলাদেশ, তবে সেই স্বপ্নের ভিত্তি গড়তে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই। ওয়েল-বিয়িং ক্লাব সেই ভিত্তি নির্মাণের একটি নীরব, কিন্তু শক্তিশালী পথ।

  • ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আহ্বায়ক, ওয়েল-বিয়িং-ফাস্ট ইনিশিয়েটিভ, বাংলাদেশ।

    মতামত লেখকের নিজস্ব