জাপানের দৈনিক সংবাদপত্র ইওমিউরি শিম্বুন
জাপানের দৈনিক সংবাদপত্র ইওমিউরি শিম্বুন

মতামত

সংবাদমাধ্যম বনাম এআই কোম্পানি: কপিরাইট, ফ্রি রাইডিং ও নতুন সংকট

বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত বিষয় হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান—অনেকেই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো কি সব সময় আইন ও নৈতিকতা মেনে পরিচালিত হচ্ছে—এখন এই প্রশ্ন সামনে এসেছে। একটি বহুল ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান কীভাবে সংবাদমাধ্যমের কপিরাইট লঙ্ঘন করেছে, তা নিয়ে লিখেছেন জান্নাতুল রুহী

সপ্তাহখানেক আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরে চোখ আটকে গিয়েছিল। সংবাদটি ছিল, জাপানের দৈনিক সংবাদপত্র ইওমিউরি শিম্বুন বিনা মূল্যে তাদের কনটেন্ট ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান পারপ্লেক্সিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

ইওমিউরি শিম্বুন কর্তৃপক্ষের মূল উদ্বেগের জায়গা হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্টগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করেছে, যেটাকে এআইয়ের ফিচার অনুসারে ‘এআই ওভারভিউ’ বলা হচ্ছে।

এতে পাঠক পুরো সংবাদটি পড়তে আর সংবাদের মূল উৎসে ক্লিক করছেন না। ফলে সংবাদপত্রের ট্রাফিক কমে গেছে। পাঠক কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপনও কমে গেছে। সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের মূল অভিযোগ এটাই।

প্রচারসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংবাদপত্রগুলোর অন্যতম জাপানের এই সংবাদপত্রের আরও একটি অভিযোগ ছিল—যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া বিনা মূল্যে তাদের ১ লাখ ২০ হাজার কনটেন্ট ব্যবহার করেছে।

পত্রিকা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া কনটেন্ট ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করছে। এ কারণে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কনটেন্ট ব্যবহার বন্ধ করার সঙ্গে ২২০ কোটি ইয়েন বা ১৪ লাখ ৭০ হাজার ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

জাপানের দৈনিক  ইওমিউরি শিম্বুন–এর করা এ মামলার আগেও সংবাদপত্রগুলোর পক্ষ থেকে একই ধরনের আরও মামলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে ২০২৪ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক ম্যাগাজিন ফোর্বস ও চ্যানেল সিএনবিসির মামলা; একই বছরের অক্টোবরে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউইয়র্ক পোস্টের মামলা।

এসব মামলার কারণগুলো পড়লে বোঝা যায়, তথ্য তথা সংবাদকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান পারপ্লেক্সিটি এবং সংবাদ প্রকাশনার মধ্যকার মূল ঝামেলা হলো:

১. সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশনাকে না জানিয়ে তাদের উৎপাদিত তথ্যের ব্যবহার;

২. উৎপাদিত তথ্য বিনা মূল্যে ব্যবহার; এবং

৩. ব্যবহৃত তথ্যের সারাংশ উল্লেখ।

সংবাদমাধ্যমগুলো কেন আওয়াজ তুলছে

আমরা যাঁরা সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করেছি কিংবা সংবাদমাধ্যমে কর্মরত রয়েছি, তাঁদের প্রত্যেকেই বিষয়টা জানি যে সংবাদ আসলে ‘সংবাদ উৎপাদন কারখানা’র উৎপাদিত একটি পণ্য।

একজন চিফ রিপোর্টার (প্রধান প্রতিবেদক) কিংবা একজন অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর যখন কোনো সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিকল্পনা করেন, তখন প্রথমেই তিনি চিন্তা করেন যে নির্দিষ্ট বিষয়টি কাভার করার জন্য তাঁর কারখানায় কতজন সাংবাদিক ও ফটোসাংবাদিক আছেন; এর পেছনে কতটা সময় ও শ্রম ব্যয় হতে পারে এবং সংগৃহীত তথ্যগুলোকে সংবাদে রূপান্তরিত করতে যথার্থ (সহ)সম্পাদক তাঁর প্রতিষ্ঠানে আছেন কি না। এগুলো ঠিকঠাক থাকলে নানা কারিগরি ধাপ পেরিয়ে সংবাদটি প্রচার বা প্রকাশিত হয়।

ওপরের প্রতিটি ধাপের সঙ্গে অর্থের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। চিফ রিপোর্টার কিংবা একজন অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর থেকে শুরু করে সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার—প্রত্যেকেই এখানে বেতনভুক্ত কর্মী।

জাপানের দৈনিক সংবাদপত্র ইওমিউরি শিম্বুন এ প্রক্রিয়ার কথাই শুধু তুলে ধরেছে। তাদের ভাষ্যে, ‘সংবাদ সংগ্রহ ও কনটেন্ট তৈরিতে অনেক শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়েছে।’

ইওমিউরি শিম্বুন তাদের প্রতিটি কনটেন্টের জন্য ১৬ হাজার ৫০০ ইয়েন বা বাংলাদেশি টাকায় ১১ হাজার ৫৮২ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।

পত্রিকাটি পারপ্লেক্সিটির এই কাজকে ‘ফ্রি রাইডিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, ‘এ ধরনের ঘটনা নির্ভুল সাংবাদিকতার ধ্যানধারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে গণতন্ত্রের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিতে পারে।’

খুব সহজ ভাষায় বলা যায়, কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই জনগণের জন্য উৎপাদিত কোনো পণ্য ব্যবহার করাই হলো ‘ফ্রি রাইডিং’। বিনা খরচে কোনো ধরনের শ্রম ছাড়াই তৈরি থাকা একটি পণ্য যখন কেউ অনায়াসে ব্যবহার করে, তখন খুব স্বাভাবিকভাবে যিনি পণ্যটি তৈরি করছেন, তিনি তাঁর কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। আর এটা তথ্য উৎপাদনপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ঘটলে গণতন্ত্র যে সংকটের মধ্যে পড়বে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশ্ন হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান পারপ্লেক্সিটি কি তবে ফ্রি রাইডিংকে বৈধতা দিতে চায়?

জাপানের ওই সংবাদপত্রের করা এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পারপ্লেক্সিটি দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, প্রকাশক ও সাংবাদিকেরা উপকৃত হবেন, এ ধরনের একটা ব্যবসায়িক মডেল নিয়েই তারা চিন্তা করছে। কিন্তু তারা আসলে পুরো বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে, তা তাদেরই কিছু বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বুঝতে হবে।

অনুমতি ছাড়া কনটেন্ট ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করছে, এমনটিই অভিযোগ পারপ্লেক্সিটির বিরুদ্ধে

শুধু সূত্রের উল্লেখই কি যথেষ্ট

ওপেনএআইয়ের সাবেক গবেষণাবিজ্ঞানী অরবিন্দ শ্রীনিবাস ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর কৃত্রিম বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যাটবট পারপ্লেক্সিটি উদ্বোধন করেন। পারপ্লেক্সিটির মূল আকর্ষণের জায়গা হলো এর প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিন। এটা কিছু কি-ওয়ার্ডের ভিত্তিতে শুধু তথ্যের লিংক দেওয়ার পরিবর্তে ইন্টারনেটের তথ্যগুলোকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করে ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে।

পারপ্লেক্সিটি কোনো এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেয় না, বরং বাজারে আগে থেকেই বিদ্যমান থাকা মডেল বা বাণিজ্যিকভাবে কেনা কোনো মডেলকে ব্যবহার করে। এরপর ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা তথ্য ওই মডেলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করে সরাসরি উত্তর বানিয়ে দেয় ব্যবহারকারীর জন্য। এর সঙ্গে সূত্র উল্লেখ করে দেয়, কোন তথ্য কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে।

মূল বিপদটা এখানেই। তাদের করা সংক্ষিপ্ত তথ্যগুলো মূলত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। বিভিন্ন সংবাদপত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা ব্যবহারকারীদের করা প্রশ্নের একটা উত্তর উপস্থাপন করে। অথচ এটার জন্য তারা সংবাদমাধ্যমের কোনো অনুমতি নেয় না।

এসব কারণেই গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউইয়র্ক পোস্ট পারপ্লেক্সিটির বিরুদ্ধে মামলা করে। তারা অভিযোগ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রশ্নোত্তর ফলের কনটেন্ট ব্যবহার করেছে, একাডেমিক ভাষায় যাকে বলা হয় ‘চৌর্যবৃত্তি’। তারা পারপ্লেক্সিটিকে নোটিশ পাঠায়, যেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি তাদের সংবাদপত্রের কনটেন্ট ব্যবহার না করে।

কিন্তু পারপ্লেক্সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রীনিবাস একে ‘চৌর্যবৃত্তি’ বলতে নারাজ। তিনি এর ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁরা কখনোই কোনো কনটেন্টের মালিকানা দাবি করেননি। প্রতিটি তথ্যের জন্য ফুটনোট, সূত্রের উল্লেখ আছে।

শ্রীনিবাস বলেন, ‘এটা শুধু ওয়েব থেকে কনটেন্ট তুলে আনে, এরপর সেগুলো এমনভাবে সংক্ষেপ করে যেন ব্যবহারকারী সহজে অনুধাবন করতে পারেন এবং শেষে আপনাকে এটাও জানায় যে এসব তথ্য সে আসলে কোথা থেকে পেয়েছে।’

তাঁর (শ্রীনিবাস) মতে, একজন সাংবাদিক, গবেষক কিংবা একজন শিক্ষার্থী যেভাবে কাজ করেন, তাঁরাও ঠিক তেমনটাই করেছেন। তাঁদের দাবি, এটা কোনোভাবেই চৌর্যবৃত্তি নয়। তাঁদের মতে, এর মাধ্যমে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন হচ্ছে—এটা কোনোভাবেই বলা যাবে না।

উৎপাদন হচ্ছে এক কারখানায়, মুনাফা যাচ্ছে আরেক জায়গায়

জাপানের দৈনিক সংবাদপত্র ইওমিউরি শিম্বুন জানিয়েছে, তাদের প্রতিটি ‘পেওয়ালড’ কনটেন্টের জন্য ১৬ হাজার ৫০০ ইয়েন বা বাংলাদেশি টাকায় ১১ হাজার ৫৮২ টাকা খরচ হয়। পেওয়ালড কনটেন্টগুলো পড়তে পাঠককে সাবস্ক্রিপশন নিতে হয় বা অর্থ খরচ করতে হয়।

অথচ পারপ্লেক্সিটি কোনো ধরনের বিনিয়োগ ও শ্রম ছাড়া, বিনা মূল্যে, বিনা অনুমতিতে তাদের প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিনে এসব তথ্য বা সংবাদ ওভারভিউ করে উপস্থাপন করছে।

এসব তথ্য বা সংবাদের অডিয়েন্স বা ভোক্তা একই। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা পারপ্লেক্সিটির তথ্যগুলোর দিকেই ঝুঁকবেন। এর কারণ দুটি:

প্রথমত, ইন্টারনেট অ্যাকসেস থাকলেই সে তথ্যগুলো পড়তে পারছে। অর্থাৎ শুধু ওই তথ্যের জন্য তাকে আলাদা করে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে না।

দ্বিতীয়ত, ওভারভিউয়ের কারণে সংবাদের মূল বক্তব্য সে খুব অল্প সময়েই জেনে যাচ্ছে।

বলা বাহুল্য, সংবাদকে কাঠামোবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অডিয়েন্স বা পাঠকের সময়কেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য সংবাদের ইন্ট্রোতে (সূচনা) কয়েক শব্দে সংবাদের মূল বক্তব্য বোঝানো হয়ে থাকে। পারপ্লেক্সিটি সেই বিষয়টাকে আরও দ্রুত করেছে।

পারপ্লেক্সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রীনিবাস বলেছেন, পারপ্লেক্সিটিতে কেউ দৈনন্দিন খবর পড়ার জন্য আসে না, বরং নির্দিষ্ট সংবাদটি ব্যক্তি মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সেটা বোঝার জন্য এটা ব্যবহার করে। সংবাদ সৃষ্টির আদি তাগিদটাও ছিল এটাই। মানুষ আজীবনই সেই সংবাদের অনুসন্ধানই করে, যেটা তার জন্য প্রয়োজন।

মূল বক্তব্য হলো, তথ্য একই, অডিয়েন্সও একই। শুধু ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই পারপ্লেক্সিটি নির্দিষ্ট অডিয়েন্সকে তার প্রয়োজন অনুসারে তথ্য প্রদান করছে। সুতরাং অর্থ খরচ করে, শ্রম দিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনো তথ্য বা সংবাদ বিস্তারিতভাবে পড়ার প্রয়োজন আর থাকছে না।

এ রকম অবস্থায় সংবাদমাধ্যমের ভোক্তারা খুব স্বাভাবিকভাবেই পারপ্লেক্সিটির দিকেই ছুটছে। এর ফলে যা হচ্ছে, তথ্য উৎপাদন করছে সংবাদমাধ্যমগুলো আর এর মুনাফা যাচ্ছে বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান পারপ্লেক্সিটির কাছে।

পারপ্লেক্সিটির ‘স্বপ্ন’: তথ্য হবে উন্মুক্ত

ওপরের আলোচনা থেকে বোঝা গেল—অনুমতিহীন তথ্যের মালিকানা দাবি না করে শুধু সূত্রের উল্লেখ করাকেই পারপ্লেক্সিটি যথেষ্ট মনে করছে এবং সংবাদ প্রকাশনার বিনিয়োগকৃত তথ্য দিয়ে মুনাফা অর্জনকে বৈধ হিসেবে দাবি করছে।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি আসলে কী চায়? তারা কি তবে ‘ফ্রি রাইডিং’কে বৈধতা দিতে চাইছে?

প্রযুক্তির সংবাদসংক্রান্ত ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের বার্ষিক কনফারেন্স টেকক্রাঞ্চ ডিসরাপ্টে গত বছর এক সাক্ষাৎকারে শ্রীনিবাস বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, তথ্য সবার মধ্যে সর্বজনীনভাবে বিতরণ হওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা এমন একটা পৃথিবী, যেখানে বিজ্ঞানীরা কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের মালিকানা দাবি করেন আর অন্যরা সেটি বলতে পারে না—এমনটা তাঁরা চান না।’

তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, তথ্য কারও একক মালিকানাধীন নয়, এটা সবার অধিকার।

এখন প্রশ্ন হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি কি শুধু ‘তথ্য’ প্রদান করছে, নাকি তারা ফ্রি রাইডিংয়ের মতো করে প্রকাশিত সংবাদের ওভারভিউ উপস্থাপন করছে, অর্থাৎ বিভিন্ন তথ্যের সমন্বয়ে তৈরি একটি কনটেন্টকেই তারা ব্যবহার করছে?

নিঃসন্দেহে এটি কপিরাইট আইনের পরিপন্থী। ‘তথ্য’ অবশ্যই সর্বজনীন, কিন্তু সংবাদপত্রের নিজস্ব ‘কনটেন্ট’ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ। নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া এর যেকোনো ধরনের ব্যবহারই কপিরাইট আইন ভঙ্গ করার শামিল।

  • জান্নাতুল রুহী সাংবাদিক ও লেখক

  • মতামত লেখকের নিজস্ব