পোস্টারের জন্য দেয়াল আর তোরণের জন্য সড়ক! মাস বা বছর পার হয় কিন্তু তোরণ থেকে যায়। খুঁটি পুঁতে সড়কের ক্ষতিসাধন, নগরের সৌন্দর্যহানি, অর্থের অপচয় কি চলছেই চলবে? বিলবোর্ডে ভারাক্রান্ত নগরের আকাশরেখা—তোরণ, ব্যানার আর পোস্টারের কুদৃশ্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
মোগল সম্রাট বাবরের যুদ্ধবিজয় কিংবা সম্রাট আকবরের অভিষেকে অজস্র রাজকীয় তোরণের কথা ইতিহাসে সুবিদিত। সেই সম্রাটরা আর নেই, কিন্তু ক্ষমতার দম্ভ আর তোষামোদের যোগসাজশে তোরণ–সংস্কৃতি অক্ষয় হয়ে গেছে বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি—কার নামে তোরণ নেই? যানজটে অচল সড়কগুলো এমনিতেই মরণাপন্ন, তোরণের জঞ্জাল সেখানে মূর্তিমান যন্ত্রণা। নেতা-নেত্রীর বন্দনা, সরকারের কৃতিত্ব প্রচার আর পাতিনেতাদের আত্মপ্রচারের জন্য নাগরিক জীবনকে বিড়ম্বিত করা মেনে নেওয়া যায় না।
স্বয়ং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পর্যন্ত তোরণের উৎপাতের বিরুদ্ধে বলেছেন। সোমবারের প্রথম আলোয় দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে তোরণ নির্মাণের সমালোচনা করেছেন। তাঁরা দলের হর্তাকর্তা, চাইলেই এক নির্দেশেই তাঁরা তোরণের উপদ্রব বন্ধ করতে পারেন। এসব তোরণে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষিত হয় না বরং দৃশ্য-সন্ত্রাসে মানুষ বিরক্ত হয়। তোরণ নির্মাণের জন্য যে চাঁদাবাজি হয়, তাতে দলের ভাবমূর্তিও আরও অন্ধকারাচ্ছন্নই হয়। প্রচারণার এই মধ্যযুগীয় ও নির্লজ্জ কৌশল বাতিল হওয়া দরকার।
কেবল ঢাকায় নয়, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে, জেলা শহরেও তোরণের বাড়াবাড়ি চলছে। দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিতে হবে। পুলিশের অপরাধ দমন ও ট্রাফিক বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন যদি দেখেও না দেখে, তাহলে তাদের থাকারই দরকার কী? তোষামোদের তোরণ নেতাদের প্রশ্রয়েই দাঁড়ায়, আবার ক্ষমতার দম্ভের জায়গায় শুভবোধ জাগ্রহ হলেই তা উবেও যায়। এমন তুঘলকি ডাঁট আর যেন দেখতে না হয়।