পুনর্বাসনের অপেক্ষায় ৫ হাজার মানুষ

নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙন

পদ্মাপারের মানুষগুলোর কান্না ছাড়া উপায় নেই। এক বছর পদ্মার এপার ভাঙে তো পরের বছর ওপার। এভাবেই পদ্মার দুই পারের মানুষের অতিকষ্টে দিন কাটছে। অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সরকার কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও তাঁদের সহায়তায় সেভাবে এগিয়ে আসেনি।

প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়া উপজেলার যে ৫ হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছিল, তারা এখনো অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠঁাই পেলেও জীবিকার পথ বন্ধ। কেননা এই এলাকার মানুষের কৃষিই ছিল প্রধান পেশা। পদ্মার ভাঙনে তাঁরা হারিয়েছেন বসতবাটি, দোকানপাট ও শস্যখেত। কৃষিজমি হারিয়ে বেশির ভাগই দিনমজুরি খাটেন। কিন্তু করোনাকালে কাজের সুযোগ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এর আগে ১৯৯২ সালেও তাঁরা একবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছিলেন।

নড়িয়া উপজেলা প্রশাসনের হিসাবে, ২০১৮ সালে নড়িয়া পৌরসভা এবং নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, মোক্তারের চর ও ঘড়িষাড় ইউনিয়নের ৫ হাজার ১৯টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়। পদ্মায় পুরো বিলীন হয়েছে আটটি গ্রাম—চর নড়িয়া, বসাকের চর, চর জুজিরা, বাঁশতলা, ওয়াপদা, সাধুর বাজার, শেহের আলী মাদবরকান্দি ও ঈশ্বরকাঠি। ৮০ শতাংশ নিশ্চিহ্ন হয়েছে কেদারপুর ও পূর্ব নড়িয়া গ্রাম দুটি। এই তালিকা ধরে ২০১৯ সালের জুনে মাঠপর্যায়ে জরিপ করে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি)। গত অক্টোবরে প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারগুলোর অর্ধেকের বেশি উদ্বাস্তু হয়েছে। তারা কাজ হারিয়েছে। সে সময় তারা সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেয়েছিল, কিন্তু স্থায়ী পুনর্বাসন হয়নি।

ভাঙনের শিকার হওয়া পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প, দুর্যোগসহনীয় ঘর তৈরি করে দেওয়াসহ কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়। দুই শতাধিক পরিবার এর সুযোগ পেয়েছে। ৫ হাজারের মধ্যে মাত্র ২০০ পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে অন্যান্য স্থানেও সরকার অনুরূপ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সে ক্ষেত্রে নদীভাঙা মানুষগুলোর পুনর্বাসনে আলাদা কোনো উদ্যোগ নেই। বাকিরা কোথায় যাবে?

তবে সরকার ভাঙন ঠেকাতে ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার ডান তীরে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় ভাঙন থামানো গেছে। এতে হয়তো এলাকার মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে, কিন্তু ইতিমধ্যে যাঁরা ভাঙনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের পুনর্বাসন জরুরি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে নয়, নড়িয়ার নদীভাঙা মানুষের পুনর্বাসনে আলাদা কর্মসূচি নিতে হবে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।