
চট্টগ্রাম নগরী আর অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, যেন সমার্থক শব্দ। বর্ষায় তো থই থই পানিতে তলিয়ে যায় নগরী। প্রতিবার সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিই থাকে জলাবদ্ধতা নিরসন। একের পর এক মেয়র এলেও সমাধানের কোনো দেখা নেই। বরং আরও বেশি নদীদূষণ, খাল দখল ও ভরাট, নির্বিচার পাহাড় কাটার ফলে প্রকট আকার ধারণ করেছে জলাবদ্ধতার সমস্যা। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকায় নগরজুড়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে রীতিমতো জগাখিচুড়িও লেগে গেছে। এর মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও কোনো সুফল মেলেনি। নগর তদারকি সংস্থাগুলোর অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে বছরের পর বছর ধরে ভুগতে হচ্ছে মানুষকে। যার সর্বশেষ নমুনা হলো জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রকল্পের কাজ মাঝপথে ফেলে রেখে টাকা তুলে পালিয়েছেন ঠিকাদারেরা। কয়েক দফা সময় নিয়েও প্রকল্পগুলো শেষ করতে পারেননি তাঁরা। যথাসময়ে সম্পন্ন হলে এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতায় নাকানিচুবানি খেতে হতো না নগরবাসীকে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, আটটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ মাঝপথে ফেলে চলে গেছেন তিন ঠিকাদার। সম্পন্ন কাজের জন্য ৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকাও তুলে নিয়ে গেছেন তাঁরা। কাজ শেষ করতে দফায় দফায় নোটিশ দিয়ে, সময় বাড়িয়েও তাঁদের সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। মোট ২৩২ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৭টি সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কার, একটি খালের পাশে প্রতিরোধ দেয়াল ও ফুটপাত নির্মাণ। যাতায়াতের দুর্ভোগ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছিল। বাকি কাজ শেষ করতে এখন নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে। এর ফলে প্রকল্পগুলোর ব্যয়ও বেড়ে যাবে, সময়ও বেড়ে যাবে আর নগরবাসীর ভোগান্তি তো বাড়বেই।
একক ও যৌথভাবে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিলেও প্রকল্পের কাজগুলো করছিলেন তিনজন ঠিকাদার। এর মধ্যে দুজনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের মেয়াদে প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ হয়। বোঝাই যাচ্ছে এর পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করেছে। এর চূড়ান্ত পরিণতি হলো মাত্র ৪ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত কাজ করেই ঠিকাদারদের পালানো। নগরবাসীর জন্য উন্নয়নের বদলে কিছু লোকের পকেট ভারী করা ছিলই যেন মুখ্য।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত ও জরিমানাও করা হবে। এরা ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কোনো কাজ করতে পারবে না।’ সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।