সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

টাঙ্গাইলের ধান চাষের সাফল্য ছড়িয়ে দিন

মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ

দেশে কৃষি গবেষণায় নানা সাফল্য আমরা দেখতে পাই। কৃষিকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার সমাধান দেয় সেসব গবেষণা, যাতে উপকৃত হন কৃষকেরাই। তেমনই এক গবেষণা প্রকল্পের অর্থায়নে জমি চাষ করে লাভবান হয়েছেন টাঙ্গাইলের একজন কৃষক। সুষম মাত্রায় সারের প্রায়োগিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ধানের আবাদে তাঁর ফলন বেড়েছে ২৫ ভাগ। এখন তাঁকে দেখে অন্য কৃষকেরাও মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। এতে যেমন সারের অপচয় রোধ হবে, বাড়বে ফলনও। কৃষকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সুখবর এটি।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মৃত্তিকা গবেষণা ও গবেষণা সুবিধা জোরদারকরণ প্রকল্পের অর্থায়নে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ভাতকুড়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেনের দুই বিঘা জমি নেওয়া হয় সুষম মাত্রায় সারের প্রায়োগিক পরীক্ষার জন্য। সেখানে ৩৩ শতাংশ জমিতে কৃষক সার প্রয়োগ করেন তাঁর নিজের মতো করে। বাকি ৩৩ শতাংশ জমিতে মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করা হয় সুষম মাত্রায়। সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা সেই জমির ধান কর্তন এবং মাড়াই শেষে পরিমাপ করে দেখা যায়, ফলন বেশি হয়েছে অন্তত ২৫ ভাগ। দেখা যাচ্ছে, যাঁরা নিজেদের মতো করে জমিতে সার দিয়েছেন, তাঁদের জমিতে ফলন হয়েছে অনেক কম।

মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করলে ধানের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। এ ছাড়া হেক্টরপ্রতি ফলন বাড়ে অন্তত এক মেট্রিক টন। কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের থেকে এমনটি আমরা জানতে পারছি। আনোয়ারের সেই জমি পরিদর্শনে যান মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. কামারুজ্জামান। তিনি জানান, মাটির উর্বরতার মান সব জায়গায় একরকম নয়। তাই মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করলে ফলন ভালো হয়। তাঁদের এই প্রদর্শনীই তার বাস্তব প্রমাণ। এই বার্তা সারা দেশের কৃষকদের মধ্যে পৌঁছে দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

মাটি পরীক্ষা করে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগের ফলে উৎপাদন খরচ কমবে। ফলনও পাওয়া যাবে আশানুরূপ। এর মাধ্যমে কৃষকেরা সারের সঠিক প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে পারবে। সরকারিভাবে নামমাত্র খরচে মাটি পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। কৃষকেরা চাইলে সে সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। তবে বিষয়টি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে প্রচারণা চালানো দরকার। এর মাধ্যমে চাষাবাদ হলে মাত্রাতিরিক্ত সার প্রয়োগও রোধ হবে। বিষয়টি মাটিসহ পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক। আমরা এমন গবেষণার জন্য মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটকে সাধুবাদ জানাই। আশা করি, কৃষকদের কাছে এ বিষয়টি পৌঁছে দিতে কৃষি বিভাগও এগিয়ে আসবে।