বাছাই পরীক্ষায়ও ইসিকে পাস করতে হবে

সিটি করপোরেশন নির্বাচন

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে সরগরম আলোচনা, তখন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা রংপুরবাসীর তো বটেই, সারা দেশের মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। প্রথমত, এটি বর্তমান ইসির অধীনে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এর আগে তাদের অধীনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে, যা মোটামুটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশন ছাড়াও আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আরও পাঁচটি যথাক্রমে গাজীপুর, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত এই পাঁচটি সিটিতেই বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। অন্যদিকে রংপুরে জিতেছিলেন আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রার্থী।

অস্বীকার করার উপায় নেই যে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনেরই। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও দলের সহযোগিতা ছাড়াও তাদের পক্ষে সেই কাজটি করা সম্ভব নয়। আগে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ভিত্তিতে হতো। সংশোধিত আইনে সকল পর্যায়ের নির্বাচনই দলীয় ভিত্তিতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বও বেড়েছে। তাদের এমন কোনো কাজ করা উচিত হবে না, যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

রংপুরসহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো বর্তমান নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি পরীক্ষাও বটে। জাতীয় নির্বাচন যদি তাদের জন্য চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়ে থাকে, সিটি নির্বাচন বাছাই পরীক্ষা হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ইসির প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়বে। সেটি করতে না পারলে জাতীয় নির্বাচন করা তাদের জন্য আরও কঠিন হবে। অতএব সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ইসিকে পাস করতে হবে।