উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসাস্থল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অথচ সামান্য ভারী বৃষ্টি হলেই এই ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের এলাকা ও প্রধান ফটকসংলগ্ন সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়েও বৃষ্টিতে একাধিকবার জলাবদ্ধতার দৃশ্য আবার প্রমাণ করে—হাসপাতালের মতো একটি অত্যন্ত জরুরি সেবামূলক অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা কতটা অবহেলিত। জরুরি সেবা নিতে আসা মুমূর্ষু রোগী, তাঁদের স্বজন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাপড়ে কাদাপানি মেখে, পিছলে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা কেবল ভোগান্তির নয়, অত্যন্ত লজ্জা ও উদ্বেগের বিষয়।
বিস্ময়কর হলো, এ সমস্যা বহু বছরের পুরোনো হলেও এ পর্যন্ত যত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা কোনো সুফল দেয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে হাসপাতালের সামনের সড়কটি দুই থেকে তিনবার উঁচু করা হয়েছে। কিন্তু আসল গোড়াতে হাত না দিয়ে কেবল সড়ক উঁচু করে সমাধান খোঁজা যে সম্পূর্ণ ব্যর্থ একটি কৌশল, তা হাতেনাতে প্রমাণিত। নর্দমা বা ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের মূল সীমাবদ্ধতা দূর না করে সড়ক উঁচু করলে তা আশপাশের নিচু এলাকা ও হাসপাতালের ভেতর পানি আটকে রাখার পথ আরও প্রশস্ত করে দেয়।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও ফুটপাতের দোকানপাটের পলিথিন ফেলাকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি হয়তো আংশিক সত্যি, কিন্তু কোনো অজুহাতেই একটি আধুনিক সিটি করপোরেশন ও স্পেশালাইজড হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দুই থেকে তিন ঘণ্টা হাঁটুপানি জমে থাকাকে যুক্তিযুক্ত করা যায় না। রাজশাহী শহর যেখানে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে একটি মডেল হিসেবে পরিচিত, সেখানে মেডিকেলের ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের এই দুর্বলতা পুরো প্রশাসনিক সদিচ্ছার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তোলে।
হাসপাতালের নিজস্ব ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত সমন্বয় ছাড়া এ সংকটের স্থায়ী নিরসন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ড্রেনেজ লাইনগুলো পলিথিন ও পলিমুক্ত রাখতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। শুধু ‘সড়ক আরও উঁচু করা হবে’ জাতীয় প্রচলিত বয়ান বাদ দিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে যৌথ ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের এমন দুর্ভোগ আর এক দিনও মেনে নেওয়া যায় না।