পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নাড়ির টানে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। বরাবরের মতো এবারও আলোচনায় উঠে এসেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথখ্যাত ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাস ও প্রস্তুতির কথা শোনানো হলেও সরেজমিনে সড়কের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা সাধারণ যাত্রীদের কপালে উদ্বেগের ভাঁজ ফেলতে বাধ্য।
বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, ঢাকা থেকে বের হওয়ার মুখেই আশুলিয়া-বাইপাইল সড়কটি যাত্রীদের ধৈর্যের চরম পরীক্ষা নেয়। এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য বর্তমানে যে ৩০ মিনিটের পথ দেড় ঘণ্টায় পার হতে হচ্ছে, তা ঈদযাত্রার মহাস্রোতে কতটা চরম পর্যায় ধারণ করতে পারে, তা না বোঝার কোনো কারণ নেই। যদিও প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কিছু লেন খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন, কিন্তু খানাখন্দ আর ধুলাবালুর ভোগান্তি রাতারাতি দূর করা অসম্ভব। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে না পারলে এই সরু অংশটিই হয়ে উঠবে ঈদযাত্রার প্রধান বাধা।
গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকাটি যুগ যুগ ধরে উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য এক আতঙ্ক। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মিলনস্থল হওয়া সত্ত্বেও এখানে উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে মহাসড়কটি হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিকল হওয়া এবং অবৈধ পার্কিং। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হলেও চন্দ্রা মোড়কে ঘিরে বহুমুখী পরিকল্পনা জরুরি। নয়তো উত্তরবঙ্গবাসীর ঈদযাত্রা শুরুতেই ধাক্কা খাবে।
সবচেয়ে বড় শঙ্কাটি যমুনা সেতুকে ঘিরে। ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার বা ছয় লেনের সুবিধা পাওয়া গেলেও যমুনা সেতুতে গিয়ে তা হঠাৎ দুই লেনে পর্যবসিত হয়। তখন ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়। টোল প্লাজায় বুথ বাড়ানো হলেও যদি ফিটনেসবিহীন গাড়ি সেতুর ওপর বিকল হয়ে যায়, তবে পুরো মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়তে পারে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে উড়ালসড়কের কাজ চলমান থাকায় সেখানেও ভোগান্তির শঙ্কা কম নয়। জেলা প্রশাসন কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও চারদিকের যানবাহনের চাপ সামলানো সেখানকার জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে, দুই-তিন দিনে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে। এই বিশাল জনস্রোতের জন্য কেবল পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কঠোর শৃঙ্খলা। ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে নামতে না দেওয়া, হাইওয়েতে ধীরগতির যান চলাচল বন্ধ করা এবং শিল্পকারখানার ছুটির ক্ষেত্রে সমন্বয় করা জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের প্রস্তুতি যেন কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের হাসি যেন ধুলাবালু আর অন্তহীন যানজটে ফিকে হয়ে না যায়।