সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীর জামিন

গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রাম নগরে একের পর এক খুন, চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা নতুন নয়। বিদেশে পলাতক ‘বড় সাজ্জাদ’ নামে শীর্ষ সন্ত্রাসীর দুই দুর্ধর্ষ সহযোগীর আদালত থেকে জামিন পাওয়ার ঘটনা সম্প্রতি জনমনে আরও বিস্ময় ও শঙ্কা তৈরি করেছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তারা এই দুজনকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল; অথচ পুলিশ তাঁদের খুঁজে পায় না। প্রশ্ন উঠেছে, এই ঘটনা কি কেবলই গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতা; নাকি অপরাধী-পুলিশ-আইনজীবী চক্রের কোনো গভীর যোগসাজশ?

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত বছরের ৩০ মার্চ নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের এজাহারভুক্ত আসামি মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ও বোরহান উদ্দিন। শুধু তা–ই নয়, পতেঙ্গা সৈকতে প্রকাশ্যে হত্যা থেকে শুরু করে সংসদ সদস্যের জনসংযোগে গুলিবর্ষণ—প্রতিটি বড় অপরাধেই এই দুজনের নাম ঘুরেফিরে এসেছে। এমনকি কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুই দফা গুলি চালানোর ঘটনায়ও তাঁদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যাঁদের সংগ্রহে ১৫-২০টি করে অবৈধ অস্ত্র থাকে এবং যাঁরা প্রকাশ্যে জনপদে ত্রাস সৃষ্টি করেন, তাঁরা কোন জাদুবলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যান?

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তারের বক্তব্য, এটি পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির চরম ব্যর্থতা। একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী যখন মাসের পর মাস পলাতক থাকে, তখন পুলিশের দায়িত্ব থাকে তার গতিবিধি ও সম্ভাব্য আত্মসমর্পণের ওপর নজর রাখা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র, আদালত জামিন দেওয়ার প্রায় দুই মাস পর পুলিশ জানতে পারছে যে এই দুই আসামি জামিনে আছে। এই দীর্ঘসূত্রতা এবং তথ্যের সমন্বয়হীনতা অপরাধীদের আরও দুঃসাহসী করে তুলছে।

বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর মতো সন্ত্রাসীরা যখন দেখে, তাদের সহযোগীরা দেশীয় আইনি ফাঁকফোকর গলে সহজেই বেরিয়ে আসতে পারছে, তখন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে এবং চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এই ‘লুকোচুরি’ খেলা বন্ধ হওয়া জরুরি। রাষ্ট্রপক্ষের এখন উচিত অবিলম্বে উচ্চ আদালতে এই জামিন বাতিলের আবেদন করা এবং পুলিশের উচিত কেন এই দুর্ধর্ষ আসামিদের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হলো না, তার অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা। অপরাধীরা যদি আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে পার পেয়ে যায়, তবে সমাজ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করা কঠিন হয়ে যায়।