দেশের নদীগুলো ভালো নেই। দখল-বেদখলের পাশাপাশি বালু ব্যবসায়ীদের গ্রাস তো আছেই। তবে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে দূষণ। এর পেছনে মূলত দায়ী শিল্পকারখানাগুলো।
এ নিয়ে নানা আইন থাকলেও সেসব মানা হয় না। নামকাওয়াস্তে জরিমানা দিয়ে কারখানাগুলো নদীদূষণে মেতে থাকে। প্রশাসনের দুর্বলতা, পরিবেশ অধিদপ্তরের নমনীয়তা আর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কারখানামালিকদের কোনোভাবেই রোখা যাচ্ছে না।
নদীগুলোকেও দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত দূষণমুক্ত নদী আছে হাতে গোনা, যার মধ্যে একটি গাজীপুরের শ্রীপুরের বাউনি গ্রামের পারুলি নদী। শান্ত, স্নিগ্ধ ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এ নদীটিও এখন দূষণের মুখে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের ক্ষতিকর বর্জ্য প্রাকৃতিক খাল হয়ে নদীতে ফেলার জন্য ব্যবস্থা করছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্যের কারণে এলাকাটি বিপর্যস্ত। তিন বছর ধরে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকেরা লাগাতার আন্দোলন করে আসছিলেন।
এরপর শিল্পবর্জ্য খাল ও নদীতে ফেলার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছে প্যারাগন। প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে। যদিও এই দৈর্ঘ্যের প্রায় অর্ধেকজুড়েই আছে বন বিভাগের জমি।
পারুলি নদী মিঠাপানির আধার হিসেবে পরিচিত। এত দিন পর্যন্ত শ্রীপুরের শিল্পাঞ্চলের দূষণের বাইরে ছিল এ নদী। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নদীতে বর্জ্যে ফেললে সেখানকার মাছ ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে। যা অসংখ্য মানুষের জীবিকায়ও প্রভাব ফেলবে।
যদিও প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শিল্পবর্জ্য যাতে খাল ও নদীর জলজ প্রাণীর ক্ষতি না করে, সে জন্য ইটিপির মাধ্যমে তরল পরিশোধন করার ব্যবস্থা করা হবে। তবে আমরা তাদের এ বক্তব্য নিয়ে সন্দিহান। কারণ, ইটিপি চালানোর কথা বলা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর ব্যত্যয় ঘটে।
প্যারাগন যেভাবে বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করছে, তা আইনবিরুদ্ধ। পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর কার্যালয় জানাচ্ছে, খাল বা নদীতে কোনো ধরনের বর্জ্য অপসারণের সুযোগ নেই।
এ ধরনের কাজ অবৈধ। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য, খাল বা নদীতে বর্জ্য ফেলা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন বিভাগ বলছে, জমির ভেতর দিয়ে নালা তৈরি করতে দেওয়া হবে না। এতগুলো কর্তৃপক্ষের এমন দৃঢ় অবস্থানের পরও সেরার খাল ও পারুলি নদী দূষণের আয়োজন চলে কীভাবে? কেন তারা শিল্পপ্রতিষ্ঠানটিকে থামাচ্ছেন না?