নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা
নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা

বিশেষ সাক্ষাৎকার: নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা

নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

ইউএন উইমেনের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ফর নরমেটিভ সাপোর্ট, ইউএন সিস্টেম কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড প্রোগ্রাম রেজাল্টসের দায়িত্বে থাকা নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা ১৬ মে থেকে ২১ মে বাংলাদেশ সফর করেন। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লিঙ্গসমতাবিষয়ক নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আয়েশা কবির

প্রশ্ন

বাংলাদেশে আপনাকে স্বাগত। এখানে আপনার সফর বেশ ব্যস্ত সময়সূচির মধ্য দিয়ে গেছে। এই সফর থেকে আপনার কী অভিজ্ঞতা বা উপলব্ধি হয়েছে?

নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা: বাংলাদেশে জাতিসংঘ নারী সংস্থার কার্যক্রম বোঝা এবং তা সমর্থন করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালকসহ আমরা এখানে এসেছি। এখানে রাষ্ট্র, সরকার এবং নাগরিক সমাজকে সহায়তা করতে এসেছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ পেয়েছি। এসব বৈঠক থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি, নির্বাচনের তিন মাস পর দেশ কোন অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যারা নারীর অধিকার অগ্রগতির জন্য বহু আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও চুক্তি অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ কনভেনশন (সিডও) রয়েছে। তবে এখনো কিছু কাজ বাকি আছে, যেমন এই কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ২ ও ১৬ থেকে আপত্তি প্রত্যাহার করা। দেশটির নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাস্তবায়ন।

সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনায় মূল জোর ছিল বিদ্যমান নীতির বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে কিছু উদ্ভাবনী উদ্যোগ—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড—এসবকে আরও বিস্তৃত করা। এ ছাড়া এটি স্বীকৃত যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো সন্তোষজনক নয়—নির্বাচনে যে সংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়েছেন, সেই পরিসংখ্যানও পর্যাপ্ত নয়। নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। সরাসরি নির্বাচিত নারী আছেন মাত্র সাতজন, আর সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে আছেন ৫০ জন।

আমরা এই দেশের নারীদের সঙ্গে, নারী অধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে, বিস্তৃত নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সঙ্গে, তরুণ নারীদের সঙ্গে, প্রতিবন্ধী নারীদের সঙ্গে এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছি। সেখানে আমরা যে বিষয়গুলো শুনেছি, সেগুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক। সেবার সুযোগ-সুবিধায় প্রবেশাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক রীতিনীতির পরিবর্তনও জরুরি, যাতে লিঙ্গবৈষম্য কমানো যায়, নারীদের ক্ষমতায়ন করা যায় এবং তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে দেশের বৈচিত্র্য বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন আদিবাসী নারী বা গ্রামীণ নারীদের সঙ্গে দেখা করেছি, তখন দেখেছি তাঁদের অনেক সমস্যাই অন্যদের মতো হলেও কিছু অতিরিক্ত সমস্যা রয়েছেযেমন ভূমি অধিকার–সংক্রান্ত বিষয়। তাই দারিদ্র্যের মাত্রা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা—এসব বিষয় নিয়ে আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

প্রশ্ন

বাংলাদেশ লিঙ্গসমতায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে, কিন্তু আপনার মতে এখন সবচেয়ে জরুরি কোন কোন ঘাটতি ও অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেগুলোর দিকে তাৎক্ষণিকভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন?

নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা: সামাজিক রীতিনীতি বা প্রথার প্রশ্নটি স্পষ্ট ও সাহসীভাবে মোকাবিলা করা জরুরি। নেতিবাচক সামাজিক রীতিনীতি নারীদের নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে রাখতে পারে এবং একধরনের ‘সুরক্ষামূলক আচরণ’ তৈরি করে, যা তাদের স্বাধীনতাকে সীমিত করে। সামাজিক রীতিনীতি নির্ধারণ করে আমরা কীভাবে জনসমক্ষে ও ব্যক্তিগত পরিসরে নিজেদের উপস্থাপন করব। একই সঙ্গে ইতিবাচক সামাজিক রীতিনীতির পরিবর্তন প্রয়োজন।

পাশাপাশি এটিও বলতে হবে যে আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতির ভিত্তি হলো ভালোবাসা ও মানবিকতার স্বীকৃতি। আমরা ধর্ম বা সংস্কৃতি বাদ দিতে বলছি না। বরং জাতিসংঘের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক সনদও আছে, যেখানে সংস্কৃতিকে সম্মান করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সংস্কৃতির প্রতি সম্মান কখনোই নারীর ওপর নিপীড়নকে বৈধতা দিতে পারে না বা শিশুধর্ষণকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।

যখন ১০ বছরের একটি মেয়েকে ৪০ বা ৫০ বছরের কোনো পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়, সেটি আসলে ধর্ষণ। তাই সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান যেন নারীর অধিকার লঙ্ঘনকে বৈধতা না দেয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের ধর্মীয় ও সম্প্রদায়ভিত্তিক নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে পরিবর্তনটি প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকেই আসে এবং নেতৃত্বের মাধ্যমেই ঘটে। আরেকটি বিষয় হলো—শুধু নীতিমালায় বলা যে ছেলে ও মেয়েদের সমান শিক্ষার সুযোগ থাকবে, সেটি যথেষ্ট নয়। বাস্তবে এমন স্কুল থাকতে হবে, যা মেয়েদের জন্য সহজে পৌঁছানো যায়, যাতে তারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে গিয়ে নির্যাতনের ঝুঁকিতে না পড়ে।

প্রশ্ন

কোন কোন অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র বাংলাদেশে লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে?

নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা: যদি আমরা বাস্তবায়ন ও রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে চাই, তাহলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, সরকারের সদিচ্ছা বা অঙ্গীকার। এই সরকার মাত্র তিন মাস হলো দায়িত্বে এসেছে। তাই নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গসমতাকে সরকারের কেন্দ্রীয়ভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কারণ, এটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে একটি স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়—তাদের কী করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে হলে কমিউনিটি পর্যায়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য বেসরকারি খাত ও বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীরা জমির মালিকানা চান, উৎপাদনের পথে থাকা বাধা মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে চান।

আমরা আলোচনায় দেখেছি, আঞ্চলিক সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাব নারী কৃষকদের ওপর পড়ছে, যারা উৎপাদন চালিয়ে যেতে বাধ্য। জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। তাই নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে পর্যাপ্ত সম্পদ বিনিয়োগ করা জরুরি। নারী সংগঠন ও নেটওয়ার্কগুলোকে সমর্থন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন নারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে দেখা করেছি, তখন স্পষ্ট হয়েছে যে তাদের জন্য সম্পদ কম, তবে তারা হাল ছাড়ছে না।

প্রশ্ন

বাংলাদেশের নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে কোন কোন সহায়ক শর্ত ও সংস্কার প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা: প্রথমত, রাজনৈতিক পরিবেশটি নির্বাচন–সংক্রান্ত আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই এই নির্বাচন আইনগুলো এমন হতে হবে, যাতে নারীদের অংশগ্রহণকে সহজতর করা যায়। এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার। 

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ আইন ও নীতিমালা। অনেক দেশেই, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও নারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন; কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সংগঠনগত সহায়তার পুরো কাঠামো থাকে। একজন ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে আপনি নির্বাচন করতে পারেন, কিন্তু রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জন্য থাকে পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো ও সহায়তা ব্যবস্থা। অনেক সময় বৈষম্য, বঞ্চনা ও বহিষ্কারের ঘটনা রাজনৈতিক দলের ভেতরেই ঘটে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এটি একধরনের বৈপরীত্য যে নারীদের সামাজিক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ সব সময় সরাসরি রাজনৈতিক সংখ্যায় প্রতিফলিত হয় না। এখানেই হতাশার জায়গা তৈরি হয়। আমরা আরও মনে করি, নারীদের জন্য অর্থায়ন প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয়বহুল। নারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণে সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের তরুণ নারীদেরও প্রয়োজন। তরুণ নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে তাঁদের সামনে থাকা বাস্তব বাধাগুলো বুঝতে হবেযেমন প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা, অনলাইন হয়রানি, শরীরকে কেন্দ্র করে অপমান বা বডি শেমিং। তাই আমাদের বহুমাত্রিক হস্তক্ষেপ দরকার। শুধু আইন থাকলেই হবে না; সামাজিক মনোভাব বা সামাজিক রীতিনীতির পরিবর্তন এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।

প্রশ্ন

নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসর নিশ্চিত করতে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সুরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ কীভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে?

নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা: যৌন হয়রানিবিরোধী আইন অবশ্যই পাস করতে হবে। এটি বহু আগেই হওয়া উচিত ছিল। নারীরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। আপনি চান না যে বাসে বসে থাকাকালে আপনার পাশের ব্যক্তি আপনাকে স্পর্শ করুক। জাতিসংঘ নারী সংস্থা (ইউএন উইমেন) নিরাপদ শহর কর্মসূচিতে অন্যান্য সংস্থা যেমন ইউএন হ্যাবিট্যাটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

তবে বাংলাদেশকে অবশ্যই এই আইন পাস করতে হবে, কারণ এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১৯০ নম্বর সুপারিশের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা কর্মক্ষেত্রে হয়রানির বিষয়টি মোকাবিলা করে। বেসরকারি খাতে আচরণবিধি রয়েছে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের নীতিমালাও আছে। ইউএন উইমেন হিসেবে আমরা চাই, বেসরকারি খাত এসব নীতিমালার সঙ্গে যুক্ত হোক এবং এগুলো গ্রহণ করুক।

জাতিসংঘ সনদে বলা হয়েছে, মানুষ জন্মগতভাবেই অন্তর্নিহিত মর্যাদা ও অধিকারের অধিকারী। মর্যাদা মানে হলো জনপরিসরে নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে বসবাস করা। মর্যাদা মানে হলো প্রতিটি পরিবেশে আপনি সম্মান পাবেন, এই নিশ্চয়তা থাকা। তাই আমাদের জন্য, অর্থাৎ ইউএন উইমেনের জন্য, এ বিষয়টি একটি সনদ-সম্পর্কিত বা চার্টার-সংক্রান্ত বিষয়।

এটি জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির সঙ্গে যুক্ত, বিশেষ করে জনপরিসরে যৌন হয়রানির বিষয়টির সঙ্গে। কারণ, এটি নারীদের শুধু জনপরিসরে অংশগ্রহণই সীমিত করে না, বরং সরকারি দায়িত্ব বা পদে অংশগ্রহণ এবং সাধারণ সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে। তাই এটি অত্যন্ত জরুরি দাবি যে বাংলাদেশ যৌন হয়রানি–বিরোধী ধারা বা ক্লজটি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন করে।

প্রশ্ন

যখন কর্মক্ষেত্র কারও নিজস্ব বাড়ি হয়, তখন আপনি কীভাবে বাস্তবে যৌন হয়রানি–বিরোধী নীতি প্রয়োগ করবেন? গৃহকর্মীর মতো অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীদের কর্মস্থলে যৌন হয়রানি থেকে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়?

নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা: আমরা এই বিষয়টি তিন দিন আগে এখানে নারীদের সঙ্গে একটি বৈঠকে আলোচনা করেছি, যেখানে একই সমস্যা তাঁরা তুলে ধরেছেন—এর মধ্যে অভিবাসী নারী, অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা নারী এবং গৃহের ভেতরে নির্যাতনের শিকার নারীরাও ছিলেন। অনেক সময় নারীরা নীরব থাকেন, কারণ তাঁরা চাকরি হারানোর ঝুঁকি নিতে চান না। তাঁরা অভিযোগ করার চেয়ে চাকরি রক্ষাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এই কারণেই সচেতনতামূলক প্রচারণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গোপনীয়তা ও নীরবতা সহিংসতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

যদি এমন একটি প্রচারণা চালানো যায়, যা নারীদের কথা বলার সাহস ও আত্মবিশ্বাস দেয়, তাহলে তাঁরা বুঝতে পারবেন—তাঁরা যত বেশি কথা বলবেন, তত বেশি পরবর্তী সময়ে একই বাড়িতে বা কর্মস্থলে কাজ করতে আসা অন্য নারীকে তাঁরা সুরক্ষা দিতে পারবেন; সেই পরবর্তী নারী হয়তো আর নির্যাতনের শিকার হবেন না। এ ছাড়া আমাদের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও মোকাবিলা করতে হবে এবং নারীদের আবার ভুক্তভোগী হওয়ার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে হবে। কারণ, তাঁদের সবচেয়ে বড় ভয় হলো প্রতিশোধের শিকার হওয়া এবং চাকরি হারানো।

প্রশ্ন

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

নাইরেতজাই গুম্বোনজভান্ডা: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।