অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইরিন ট্রেসি
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইরিন ট্রেসি

অক্সফোর্ড উপাচার্য আইরিন ট্রেসির বিশেষ সাক্ষাৎকার

নেতৃত্ব দিতে নারীকে পুরুষ হয়ে ওঠার দরকার নেই

আইরিন ট্রেসি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং অ্যানেসথেটিক নিউরোসায়েন্সের অধ্যাপক। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের দ্বাদশ সমাবর্তনে যোগ দিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন আইরিন ট্রেসি। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আয়েশা কবির

প্রশ্ন

আপনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সমাবর্তনে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছেন। আজকের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার প্রেক্ষাপটে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন–এর মতো একটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব আপনি কীভাবে দেখেন?

আইরিন ট্রেসি: নিশ্চয়ই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শূন্যতা পূরণ করছে এবং বাংলাদেশে আসার আগেই আমি এটা নিয়ে সচেতন ছিলাম। তবে এখানে এসে ক্যাম্পাস ঘুরে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে আমি আরও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছি। জায়গাটি কতটা অনন্য, তা এখন আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি।

বিশ্বজুড়ে এর মতো আর কোনো প্রতিষ্ঠান সত্যিই নেই। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এমন কিছু করছে, যা অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ জন্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বাংলাদেশে প্রথম সফর আমাকে সত্যিই অভিভূত করেছে। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও সৌজন্য আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। এই দেশে এসে আমি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছি।

প্রশ্ন

অক্সফোর্ড বিশ্বের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। আর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রান্তিক ও সংঘাতপীড়িত জনগোষ্ঠীর নারীদের শিক্ষিত করার লক্ষ্যে। আপনার বক্তব্যে আপনি এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু মিলের কথা বলেছেন। অক্সফোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন–এর কাছ থেকে কী শিখতে পারে আর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনই–বা অক্সফোর্ডের কাছ থেকে কী শিখতে পারে?

আইরিন ট্রেসি: এটি সত্যিই একটি খুব ভালো প্রশ্ন। আমি তুলনাটি টেনেছিলাম এই অর্থে যে আমরা অত্যন্ত প্রাচীন একটি প্রতিষ্ঠান আর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন খুবই নবীন। তবু আমাদের মধ্যে কিছু মৌলিক মিল রয়েছে। অক্সফোর্ড প্রায় এক হাজার বছর ধরে টিকে আছে এবং ইতিহাসের নানা বাঁক প্রত্যক্ষ করেছে। তবু আমাদের মূল লক্ষ্য একই। সত্যের অনুসন্ধান করা, সেই জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা সংরক্ষণ করা।

মানুষ হিসেবে আমরা কে, আমাদের গ্রহ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন গবেষণা ও উপলব্ধি অর্জন করাও আমাদের কাজ। শত শত বছর ধরে, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, মহামারি ও অতিমারির মধ্য দিয়েও একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই কাজই করে এসেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে। আমি আশা করি, এই ইতিহাস এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনকে আত্মবিশ্বাস দেবে যে কঠিন সময় এলেও তারা তা অতিক্রম করতে পারবে এবং শিক্ষা ও গবেষণার মূল লক্ষ্য ধরে রেখে সমাজকে রূপান্তরিত করার পথে এগিয়ে যেতে পারবে।

অন্যদিকে আমরাও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের কাছ থেকে শিখতে পারি। কারণ, এটি একটি নতুন ও তুলনামূলকভাবে ছোট প্রতিষ্ঠান। ফলে এটি আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং নতুন নতুন ধারণা নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করতে পারে। বড় ও প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি অনেক সময় সহজ হয় না। বাস্তুচ্যুত ও প্রান্তিক পটভূমি থেকে আসা নারী ও কিশোরীদের লক্ষ্য করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন যে কাঠামো তৈরি করেছে, তা আমাদের জন্য সত্যিই পর্যবেক্ষণযোগ্য ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

যুক্তরাজ্যে অক্সফোর্ড বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি, যারা ‘স্যাংকচুয়ারি স্ট্যাটাস’ পেয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এবং গ্রিসের দুর্ভিক্ষকাল থেকে শুরু করে আমরা দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া, শিক্ষা দেওয়া ও দেখভালের কাজ করে আসছি। এ বিষয়ে আমাদেরও একটি দীর্ঘ
ঐতিহ্য রয়েছে।

তবে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এই কাজ খুবই লক্ষ্যভিত্তিক ও সুনির্দিষ্টভাবে করছে। ভিন্ন ভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও ভাষাভাষী নারীরা এখানে এসে একে অপরের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন, বন্ধুত্ব গড়ে তুলছেন এবং বিকশিত হচ্ছেন। আমি আশা করি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সঙ্গে একটি সত্যিকারের দ্বিমুখী ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে।

প্রশ্ন

শিক্ষাঙ্গন, বিজ্ঞান ও জনজীবনে অগ্রগতি সত্ত্বেও নেতৃত্বের পর্যায়ে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনো কম। আপনার দৃষ্টিতে কোন কোন কাঠামোগত বাধা সবচেয়ে বেশি নারীদের বাধাগ্রস্ত করে?

আইরিন ট্রেসি: এটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ব্রিটেন ও পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আমরা এখনো এসব সমস্যার মুখোমুখি। এটি কোনো সমাধান হয়ে যাওয়া বিষয় নয়। এখনো লিঙ্গভিত্তিক মজুরিবৈষম্য রয়েছে। এখনো গ্লাস সিলিং বা কাচের ছাদ আছে (বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অদৃশ্য, তবে শক্ত প্রাচীর) বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হলেও বেসরকারি খাতের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাগুলোয় নারীদের উপস্থিতি সেই অনুপাতে নেই।

আমি সব সময় মানুষকে মনে করিয়ে দিই, নারীদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে কাজ এখনো শেষ হয়নি। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ প্রায় সমান হলেও কর্মজীবনের পথে এগোতে এগোতে সেই সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যায়। আমরা চেষ্টা করি সেই জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে, যেখানে নারীরা ঝরে পড়ছেন।

এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই যে কর্মজীবন গড়ে তোলার সময়টাই প্রায়ই পরিবার গঠন ও সন্তান নেওয়ার সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। সমাজ এখনো এই বাস্তবতার সঙ্গে ঠিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি এবং এই দায়টা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারীদের ওপরই পড়ে। এর সমাধান সম্ভব কেবল তখনই, যখন চাকরি ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আমাদের চিন্তায় আরও ন্যায্যতা আসবে, আরও নমনীয়তা থাকবে। যেন নারীরা প্রয়োজনীয় সময় নিতে পারেন এবং পরে আবার কাজে ফিরতে পারেন, যেন এমন না হয় যে একবার গেলে আর ফেরা যাবে না।

আপনি যদি বছরের পর বছর কাউকে প্রশিক্ষণ দেন, আর তিনি পরিবার গঠনের জন্য কিছু সময় নিতে চান এবং সপ্তাহে চার দিন পরিবারকে আর এক দিন কাজকে দিতে চান, তাহলে আমি বরং চাইব, শূন্য দিন থাকার চেয়ে এক দিন হলেও তিনি থাকুন। যেখানে তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা এত মূল্যবান, সেখানে আমি কেন একটু নমনীয় হব না। এমনকি আধা দিন কাজ করলেও তা গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত। এই প্রতিভাগুলো আমরা কাজে লাগাতে পারি। এ ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের দিক থেকেই আরও নমনীয়তা দরকার।

আমরা অনেক নারী সমাবেশ করি। এখন প্রয়োজন পুরুষদেরও বোঝা, এই পথে তাদের দায়িত্ব কী। কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তার পক্ষে কথা বলার জন্য পুরুষদেরও সক্রিয় সমর্থক হতে হবে। কোটাব্যবস্থা অনেক সময় জটিল হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বা ব্রিটেনে আমরা কখনো সেই পথে যাইনি। বরং আপনাকে একটু বেশি পরিশ্রম করে নারীদের খুঁজে বের করতে হবে। কারণ, নারীরা অনেক সময় কম দৃশ্যমান থাকেন। নেতৃত্বে থাকা মানুষের দায়িত্ব হলো এটা বলা যে আমরা নারীদের খুঁজে বের করব। একটু বেশি চেষ্টা করলেই তাঁদের পাওয়া যায়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইরিন ট্রেসি
প্রশ্ন

নারী নেতৃত্বে থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে আপনি কি মনে করেন, প্রগতিশীল একাডেমিক পরিবেশেও নারীনেতৃত্বের ওপর প্রত্যাশা ও বিচার–মানদণ্ড পুরুষদের তুলনায় এখনো বেশি?

আইরিন ট্রেসি: আমি দেখেছি, নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন নিয়ম কার্যকর থাকে। তাঁদের একটু বেশি কঠোরভাবে বিচার করা হয়। যে বিষয়টি আমি সব সময় গুরুত্ব দিয়ে বলি তা হলো, নেতৃত্বে সহজ হবে ভেবে কোনো নারীকে যেন পুরুষের মতো না হতে হয়। নিজেকে বদলানোর প্রয়োজন নেই। বরং নিজের মতো থাকাই জরুরি এবং পৃথিবীকে সেই বাস্তবতা মেনে নিতে শেখাতে হবে। নমনীয় হতে হবে প্রতিষ্ঠান ও কাঠামোকেই। আপনাকে তাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে না।

কেউ যদি নারীর কথা বলার ভঙ্গি বা দৃঢ় অবস্থান নেওয়া নিয়ে আপত্তি তোলে, সেটি আমার সমস্যা নয়। নারীরা ইতিমধ্যে যথেষ্ট কাজ করেছে। এখন প্রয়োজন পুরুষদের সেই আলোচনার ঘরে আসা। পরিবর্তনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার জন্য পুরুষদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার ওপর জোর দিতে হবে। বর্তমান সময়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ‘বাজারে বিক্রয়যোগ্য’ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার চাপ বাড়ছে, তখন মানববিদ্যা ও সামাজিক বিজ্ঞানের মূল্য আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আমি নিজে একজন বিজ্ঞানী হয়েও মানবিক বিদ্যার পক্ষে কথা বলি, আর বিষয়টি ওই শাখার সহকর্মীরা খুবই মূল্যায়ন করেন। আমি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী, কিন্তু মানুষ হিসেবে আমরা কে, তা যদি না বুঝি এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের আবিষ্কারগুলো সমাজে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা যদি না জানি, তাহলে কেবল বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত থাকার কোনো অর্থই হয় না। মানবিকবিদ্যার গুরুত্ব এখানেই।

মানবিকবিদ্যা ও সামাজিক বিজ্ঞান ছাড়া বিষয়গুলোর কোনো বাস্তব প্রভাব তৈরি হয় না। আপনি একটি টিকা তৈরি করতে পারেন, কিন্তু সমাজ যদি টিকাবিরোধী হয়ে ওঠে, তাহলে সেই টিকার কোনো প্রভাবই পড়বে না। তাই জটিল সমস্যার সমাধান করতে হলে বিভিন্ন শাখার সমন্বয়ে কাজ করা জরুরি। আন্তবিষয়ক সহযোগিতা ছাড়া বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়ে মানববিদ্যার পক্ষে কথা বলা আরও বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আমার মনে হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানববিদ্যার চেয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের বিষয়গুলোকেই বেশি নাড়িয়ে দেবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সহাবস্থানে বাঁচতে হলে মানববিদ্যা ও সামাজিক বিজ্ঞানে প্রশিক্ষিত মানুষের প্রয়োজন আরও বাড়বে। কারণ, এই শাখাগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেবে—মানুষ হয়ে থাকার গুরুত্ব এবং মানবসমাজের মূল্য কী।

প্রশ্ন

আপনি নিজেই তো অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। আপনার জীবনে কি এমন কোনো মেন্টর ছিলেন, যিনি বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছেন?

আইরিন ট্রেসি: আমার একাডেমিক জীবনের একেবারে শুরুতেই আমি ভীষণ সৌভাগ্যবান ছিলাম। তখন অক্সফোর্ডে হাতে গোনা যে কজন নারী অধ্যাপক বিভাগ পরিচালনা করতেন, তাঁদের মধ্যে দুজনের সান্নিধ্য আমি পেয়েছিলাম। দুটি বিভাগেই নারী নেতৃত্ব ছিল, এমন একটি ব্যতিক্রমী পরিবেশে আমি কাজ করেছি। তাঁদের একজন এখনো আমার মেন্টর। তখনকার সেই অভিজ্ঞতা আমাকে এই বিশ্বাসটা দিয়েছে যে একজন মানুষ একই সঙ্গে একজন ভালো বিজ্ঞানী হতে পারেন, একটি বিভাগ পরিচালনা করতে পারেন, মা হতে পারেন এবং একই সঙ্গে ভালো মানুষও হতে পারেন।

আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি অসাধারণ অনেক পুরুষের কাছ থেকেও। যেমন কামাল আহমদকে দেখুন, কী অসাধারণ অনুপ্রেরণা তিনি। একজন মানুষ, যিনি এমন একটি ব্যতিক্রমী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন। পুরুষদের জন্য তিনি এমন একজন আদর্শ, যাঁকে অনুসরণ করা যায়। নারীরাও তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারেন।

আমি ঐতিহাসিক মানুষদের দিকেও তাকাই, খেলাধুলার জগতের মানুষদের দিকেও। আমি খেলাধুলার বড় ভক্ত। অসাধারণ ক্রীড়াবিদেরা আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করেন নিজেদের নিষ্ঠা দিয়ে। তাঁরা বারবার পরাজিত হন, ভেঙে পড়েন, আবার উঠে দাঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে যান। এই লড়াইয়ের মানসিকতাই আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে।

প্রশ্ন

সবশেষে জানতে চাই, বাংলাদেশ সফর থেকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে কিংবা আবেগের দিক থেকে আপনি কী সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন?

আইরিন ট্রেসি: এটা সত্যিই কঠিন প্রশ্ন। আমি যা ভেবেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের কাজ আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এটি বিশ্বে সত্যিই অনন্য একটি উদ্যোগ। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিষয়টি ভীষণ আকর্ষণীয় ও আগ্রহজাগানিয়া। নতুন ক্যাম্পাস নিয়েও আমি খুবই আশাবাদী। সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি শিক্ষার্থীদের দেখে। শুধু এখানে পৌঁছাতে যে পথ তারা পাড়ি দিয়েছে, সেটাই তাদের অসাধারণ করে তোলে। এই গল্পগুলো আমি আমার শিক্ষার্থী ও সন্তানদের সঙ্গে ভাগ করে নেব, যাতে তারা বুঝতে পারে, তারা আসলে কতটা সৌভাগ্যবান।

এই সফর আমাকে নিজের জীবনের সুযোগ–সুবিধাগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করতে সাহায্য করেছে। সেই অভিজ্ঞতার পাশে যখন এই নারীদের শিক্ষার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা, ত্যাগ এবং দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প দেখি, তখন তা আরও গভীরভাবে নাড়া দেয়। আমি ফিরে গিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব, যাতে তারাও অনুপ্রাণিত হয়।

প্রশ্ন

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আইরিন ট্রেসি: আপনাকেও ধন্যবাদ এবং আপনাদের সবাইকে শুভকামনা।