
ইফতেখারুজ্জামান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ছিলেন। প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন সংস্কারের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি, সংস্কার প্রক্রিয়ার বাধা, জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল ইসলাম
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ নেয়। সে সময় আপনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে আপনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অন্তর্বর্তী আমলের সংস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাইছি।
ইফতেখারুজ্জামান: গণ-অভ্যুত্থানের পর মূলত তিনটি এজেন্ডা সামনে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল—বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন। এর মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। জুলাই আন্দোলন যখন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়, তখন মানুষের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হবে।
শুরুর দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগকে অবশ্যই ইতিবাচক বলতে হবে। প্রথমে ছয়টি এবং পরে আরও পাঁচটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এটি ছিল একটি সুচিন্তিত উদ্যোগ। তবে শুরু থেকেই কিছু প্রশ্নও ছিল, কমিশন গঠন নিয়েও বিতর্ক ছিল। বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠীর যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব ছিল না। নারীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল খুবই সীমিত, আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বও ছিল নগণ্য।
প্রথম ছয়টি কমিশন সরাসরি রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। পরে আরও পাঁচটি কমিশন যুক্ত করা হয়; কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে আর কোনগুলো বাদ পড়বে—সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ছিল। যেমন শিক্ষা খাত ছিল জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রেক্ষাপট, অথচ শিক্ষা নিয়ে কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। আবার ব্যবসা-বাণিজ্য, যা স্বৈরশাসনের সময় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, সেটিও গুরুত্ব পায়নি।
তার পরও আমি মনে করি, রাষ্ট্র সংস্কারের একটি সার্বিক সূচনা হিসেবে এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখতে হবে। কমিশনগুলোর কাজও মোটের ওপর ভালো হয়েছে। প্রতিটি কমিশনের প্রতিবেদনে বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও মূল্যবান সুপারিশ রয়েছে। অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে জরিপ পরিচালিত হয়েছে। অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য একটি শক্তিশালী নীতিগত ও দালিলিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
সংস্কার নিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল এবং বাস্তবে যা অর্জিত হয়েছে—আপনি সেটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ইফতেখারুজ্জামান: কমিশনগুলোর প্রতিবেদন তৈরির সময় অর্ন্তবর্তী সরকার আমাদের অনুরোধ করেছিল সুপারিশগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করতে। প্রথমত, যেগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই নির্বাহী সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব; দ্বিতীয়ত, যেগুলোর জন্য আইন পরিবর্তন, সংসদীয় সিদ্ধান্ত বা বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন।
সব কমিশনই সেই অনুযায়ী সুপারিশ ভাগ করে দেয়; কিন্তু যেসব সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই বাস্তবায়ন করতে পারত, সেগুলোর মধ্যে খুব অল্পই বাস্তবায়িত হয়েছে; কিছু কাজ হয়েছে ঠিকই, তবে তা ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং অনেকটাই প্রতীকী বা টোকেনিজম। অর্থাৎ বেছে বেছে কিছু সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে। আবার যেগুলো ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সংস্কারবিরোধী শক্তিগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে যেসব পদক্ষেপ অবিলম্বে নেওয়া সম্ভব ছিল, সেগুলোও স্থগিত হয়ে যায়। অন্যদিকে যেসব বিষয় রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় চলে যায়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ আলোচনা ও নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ গৃহীত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ রয়েছে; কিন্তু একটি বিষয় আমি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করেছি—যে সরকার সংস্কার কমিশনগুলো গঠন করেছিল, সেই সরকারই অধ্যাদেশ প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট কমিশনের প্রতিবেদনকে যথাযথভাবে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেনি; বরং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন প্রণয়নের পুরোনো ধারাই অনুসরণ করা হয়েছে।
ফলে অনেক ইতিবাচক দিক থাকলেও অধিকাংশ অধ্যাদেশে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমলাতন্ত্রের ওপর কার্যকর চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ ছিল, তা অনেকটাই হারিয়ে যায়। কারণ, কোন সংস্কার করা যাবে, কোনটা করা যাবে না, তা নির্ধারণ করেছে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশ।
যে কারণে যতটুকু সংস্কার হয়েছে, তা–ও অনেকাংশে লোকদেখানো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমনকি সরকার পরিচালন কাঠামোতেও আন্তক্যাডার বৈষম্যের মতো সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে আরও ঘনীভূত হয়েছে। অবশ্য কিছু ব্যতিক্রমও আছে। যেমন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ কিংবা বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি উদ্যোগ তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।
সব মিলিয়ে আমি বলব, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য একটি শক্তিশালী নীতিগত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। কমিশনগুলোর প্রতিবেদন এবং জাতীয় ঐকমত্যের আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দলিল তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যে বাস্তব সংস্কার এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা আর হয়নি। সম্ভাবনা ছিল অনেক; কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সেই সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবতায় রূপ দিতে পারেনি।
আপনাকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ দুদক সংস্কার চায়নি এবং তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্যও তাদের অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন। বিষয়টি যদি একটু বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
ইফতেখারুজ্জামান: আমার জন্য বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। কারণ, যে সরকার নিজেই দুদক সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল, আমাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করেছিল, সেই সরকারই যখন দুদক অধ্যাদেশ প্রণয়ন করল, তখন দেখা গেল কমিশনের সুপারিশগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এমনকি অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিশনকে সম্পৃক্ত করা দূরের কথা, উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্ধকারে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
একটি উদাহরণ দিই। দুদকের সর্বোচ্চ স্বাধীনতার পাশাপাশি আমরা দুদকের জবাবদিহির জন্য একটি স্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছিলাম; কিন্তু আমাদের এই সুপারিশ অধ্যাদেশের খসড়া থেকে বাদ দেওয়া হয়। আমি তা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানতে পেরে ব্যক্তিগতভাবে তৎকালীন আইন উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে বৈঠক করি। সেখানে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, দুদকের প্রতিনিধিসহ অধ্যাদেশ প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার সেই বৈঠকে আমরা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।
আমি যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি—কেন এই বিধান গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়েছিল, আমি তাঁদের রাজি করাতে পেরেছি। বৈঠকের শেষ দিকে সবাই একমত হন যে বিধানটি থাকা উচিত। এমনকি কোন ভাষায় এটি লেখা হবে, সেই খসড়াও সেখানে বসেই চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু দুই বা তিন দিন পরে যখন অধ্যাদেশটি প্রকাশিত হলো, তখন দেখলাম, সেই বিধান আর নেই। পরে ভেতরের কিছু সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, শেষ পর্যন্ত সেটি রাখা সম্ভব হয়নি। কারণ, আমলাতন্ত্রের একটি অংশ এর বিরোধিতা করেছিল। শুধু তা–ই নয়, উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্যও সেই অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন।
এ ঘটনায় আমি যে শিক্ষা পেলাম, তা হলো বাংলাদেশে উপদেষ্টা বা মন্ত্রিপরিষদ যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাতে তাদের নিজেদের বিচার–বিবেচনার চেয়ে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশের চাওয়া–পাওয়ার প্রতিফলনই বেশি ঘটে। জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন যদি কখনো ঘটে, তা হয় ঘটনাচক্রে।
দেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল, রাষ্ট্র সংস্কার চেয়েছিল; কিন্তু সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা যত গুরুত্বপূর্ণ, সংস্কারবিরোধী শক্তিগুলোকে চিহ্নিত করাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ কোথা থেকে আসতে পারে, সেটি আগে বুঝতে হয়। সেই শক্তিগুলোকে চিহ্নিত করে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তার পরিকল্পনাও থাকতে হয়। অন্তর্বর্তী সরকার যদি রাষ্ট্র সংস্কারকে সত্যিকার অর্থে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিত এবং সংস্কারবিরোধীদের মোকাবিলায় আরও দৃঢ় অবস্থান নিত, তাহলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগ কি সরকারের নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছিল, আর সেটি কি সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়?
ইফতেখারুজ্জামান: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ, যারা রাষ্ট্র সংস্কারের নেতৃত্ব দেবে বা সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে, তাদের বিরুদ্ধেই যদি অদক্ষতা, স্বার্থের সংঘাত বা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংস্কার কার্যক্রমের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন জনগণের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি, তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা সবাই নিজেদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। শুধু ঘোষণা নয়, পরে এ বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছিল। সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্ধারিত ফরম্যাটও তৈরি করা হয়েছিল; কিন্তু এরপর আর কার্যকর কোনো ফলোআপ হয়নি। ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে সীমিত কিছু তথ্য প্রকাশ করা হলেও সেটি ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য ও মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। অর্থাৎ জাতির কাছে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তার প্রকৃত বাস্তবায়ন আমরা দেখিনি। আমার মতে, এটি সরকারের নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার অন্যতম বড় কারণ।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল স্বার্থের সংঘাত। সরকারের অনেক সিদ্ধান্তে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, এমনকি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কিছু ক্ষেত্রেও এ ধরনের অভিযোগ ছিল। এগুলো হয়তো প্রচলিত অর্থে সব সময় দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত হয় না; কিন্তু সুশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো দুর্নীতিরই একটি রূপ।
আমরা বলেছিলাম, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন— এই তিনটি লক্ষ্য কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা দরকার। সেখানে সময়সীমা থাকবে, অগ্রাধিকার থাকবে এবং বাস্তবায়নের ধাপগুলোও স্পষ্ট থাকবে। যদি শুরুতেই এমন একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হতো, তাহলে আজ আমরা যেসব সীমাবদ্ধতার কথা আলোচনা করছি, তার অনেকগুলোই হয়তো তৈরি হতো না।
আমার মনে হয়েছে, সরকারের মধ্যে একধরনের উইশফুল থিঙ্কিং কাজ করেছিল। তারা মনে করেছিল, জনগণের বিপুল সমর্থন রয়েছে, তাই সবকিছু সহজেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে; কিন্তু কীভাবে সেই কাজগুলো করা হবে, কী ধরনের প্রতিরোধ আসতে পারে, কীভাবে তা মোকাবিলা করা হবে—এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত কৌশলগত প্রস্তুতি ছিল না। অবশ্য কয়েকজন উপদেষ্টা এসব বিষয় নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তাঁদের অবদান আমি অবশ্যই স্বীকার করি; কিন্তু সামগ্রিকভাবে সরকারের মধ্যে যে কৌশলগত পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল, সেটির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। যার ফলে রাষ্ট্রসংস্কারের যতটুকু ভিত্তি তারা রেখে গেছে, তা শুধু আংশিক নয়; বরং অত্যন্ত নাজুক।
নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তি করে। রাষ্ট্র সংস্কারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এই চুক্তির ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার কতটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মানদণ্ড অনুসরণ করতে পেরেছে?
ইফতেখারুজ্জামান: আমার মতে, এই চুক্তির ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কোনো মানদণ্ড অনুসরণ করেনি। এটি এমন কোনো জরুরি বা অনিবার্য সিদ্ধান্ত ছিল না যে নির্বাচনের ঠিক আগে তাড়াহুড়া করে চুক্তিটি করতেই হতো। শুধু এই বাণিজ্যচুক্তির কথাই বলছি না, জাপানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা এবং বন্দরসংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
চুক্তিগুলো কী শর্তে হয়েছে, আলোচনার প্রক্রিয়া কী ছিল, জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে—এসব বিষয়ে অন্তব৴র্তী সরকার পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা দেখাতে পারেনি। জনসাধারণ কিংবা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছেও কোনো অর্থবহ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আমার কাছে মনে হয় না, এ ধরনের গোপনীয়তার কোনো প্রয়োজন ছিল; বরং প্রশ্ন হলো, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচনের ঠিক আগে কেন নেওয়া হলো? এসব চুক্তির মাধ্যমে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ সুবিধা পেয়েছে কি না, কিংবা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ওপর এর কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বা কৌশলগত প্রভাব পড়বে—এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষমতা বাড়িয়ে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দুটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল; কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো আর বহাল থাকল না। তাহলে কি আমরা আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলাম? দুদক ও মানবাধিকার কমিশন নিয়ে বর্তমান সরকারের মূল সমস্যাটা কোথায় বলে আপনার মনে হয়?
ইফতেখারুজ্জামান: প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে দুদক অধ্যাদেশটি করা হয়েছিল, সেটি নিয়ে আমি তখনো সন্তুষ্ট ছিলাম না। কারণ, তাতে আমাদের সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। অধ্যাদেশটিতে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল এবং সেটিকে আরও উন্নত করা দরকার ছিল। তারপরও সেটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর সংস্কার করা সম্ভব ছিল।
কিন্তু আমাকে সবচেয়ে হতাশ করেছে পরবর্তী ঘটনাগুলো। প্রথমত, দুদকের কমিশনারদের পদত্যাগের পর চার মাসের বেশি সময় ধরে কমিশনকে কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। আমার মতে, এটি সরকারের সচেতন সিদ্ধান্ত। যাঁরা পদত্যাগ করেছিলেন, তাঁদের নিয়ে নানা সমালোচনা থাকতে পারে। তাঁরা আদর্শ কমিশনার ছিলেন—এমন কথাও আমি বলছি না; কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ থাকলে তার সমাধান নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে করা যায়; পুরো প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমি একে অনেকটা ‘মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার’ মতো সিদ্ধান্ত বলব।
দ্বিতীয়ত, সরকার এখনো দুদক অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করেনি। অথচ বিএনপি তাদের ৩১ দফা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার—সব জায়গাতেই এ ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকার বলেছে, বিভিন্ন অধ্যাদেশ আরও পর্যালোচনা করে উন্নত করা হবে। সেটি যদি সত্যি হয়, তাহলে দুদকের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই সেই প্রক্রিয়া কেন শুরু হলো না? কেন এত দিন পরও কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান দেখা যাচ্ছে না? এগুলোর মাধ্যমে যে বার্তাটি যাচ্ছে, তা খুব ইতিবাচক নয়। মনে হচ্ছে, কার্যকর ও স্বাধীন দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে সরকারের বাস্তব আগ্রহ খুব সীমিত।
আমি যে প্রবণতাটি দেখছি, তাতে মনে হয় না সরকার এমন একটি দুদক চায়, যা সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে কাজ করবে, কার্যকর হবে এবং জনগণের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করবে। সরকারের সামগ্রিক আচরণও সেই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই সারা দেশে দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল, তাদের মিত্র কিংবা অন্য রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা–কর্মীর নামও এসেছে। অথচ এসব বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান খুব দৃঢ় বলে মনে হয়নি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবাধিকার কমিশন আইনে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই আইন বহাল রাখেনি। শুধু দুদক এবং মানবাধিকার কমিশন নয়, একই ঘটনা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ নিয়েও ঘটেছে। এসব অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্যই ছিল রাষ্ট্রকে জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে আনা।
আমি মনে করি, সরকার প্রকৃত অর্থে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায় না, যেখানে নির্বাহী বিভাগকে কার্যকরভাবে জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে। জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। আর যদি সেটিই বাস্তবতা হয়, তাহলে বলতে হবে, রাষ্ট্র সংস্কারের যে চেতনা জুলাই আন্দোলনের পর তৈরি হয়েছিল, সরকার সেখান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে।
এটি শুধু আমার ব্যাখ্যা নয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকগুলোতে বিএনপির প্রতিনিধিদলের প্রধান একাধিকবার বলেছিলেন, যত সংস্কারই করা হোক, সরকারের হাত-পা বেঁধে দেওয়া যাবে না। সে সময় অনেকেই হয়তো তাঁর এই বক্তব্যের তাৎপর্য পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি। আমার কাছে তাঁর এ কথার অর্থ ছিল জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামোর প্রত্যাশাকে অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখন সেটির বাস্তব প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের করায়ত্ত রাখার চর্চার দৃশ্যমান ধারাবাহিকতার মধ্যে।
সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অঙ্গীকার হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল; কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য কার্যত ভেঙে পড়েছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
ইফতেখারুজ্জামান: সত্যি বলতে, এতে আমি খুব একটা অবাক হইনি; বরং শুরু থেকেই আমার মনে হয়েছে, এই ঐকমত্য দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার সময় থেকেই আমরা দেখেছি, মৌলিক অনেক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবের ক্ষেত্রেই কোনো না কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত ছিল। অর্থাৎ ঐকমত্যটি ছিল অনেকটাই সীমিত এবং শর্তসাপেক্ষ। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মতপার্থক্য সামনে চলে আসবে—এটা অনেকটাই অনুমিত ছিল।
এর একটি বড় উদাহরণ হলো সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া। একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ছিল, নতুন সংসদ শুধু আইন প্রণয়নের কাজই করবে না, একই সঙ্গে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করবে, যাতে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে বিস্তৃত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়; কিন্তু নির্বাচন শেষে সরকার গঠনের পর ক্ষমতাসীন দল সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। আমার মতে, সেখান থেকেই মূল দ্বন্দ্বের সূচনা।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ যদি গঠিতও হতো, ক্ষমতাসীন দলের মতের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন হতো। কারণ, সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এ কারণেই আমি মনে করি, এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কিংবা সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নটি আর জুলাই আন্দোলনের চেতনা বা জুলাই সনদের অঙ্গীকারের ওপর নির্ভর করছে না। এটি এখন পুরোপুরি ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থার যে ধারণা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মূল দাবি ছিল, বিএনপি এখনো সেই ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। অন্তত তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডে সেটি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
বিএনপি সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি টিআইবি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। যদি সামগ্রিকভাবে জানতে চাই—এই সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের চর্চাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? কোন কোন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং কোথায় কোথায় উদ্বেগের কারণ দেখছেন?
ইফতেখারুজ্জামান: পাঁচ মাস কোনো সরকারের জন্য খুব দীর্ঘ সময় নয়। তবে এই সময়ের মধ্যেও কিছু প্রবণতা বোঝা যায়। আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়, বিশেষ করে সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এগুলোর সব কটি হয়তো শেষ পর্যন্ত খুব বড় বা স্থায়ী পরিবর্তন আনবে না; কিন্তু কিছু ইতিবাচক বার্তা অবশ্যই তিনি দিয়েছেন।
কিন্তু সরকার পরিচালনার সামগ্রিক ধরন বিশ্লেষণ করলে একই ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আমরা দেখতে পাই না। যদি সাম্প্রতিক সময়ে অধ্যাদেশ থেকে আইনে রূপান্তরিত হওয়া আইনগুলো সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, যেসব আইন নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে, সেগুলো সরকার খুব দ্রুত এবং প্রায় কোনো ধরনের সংশোধন ছাড়াই অনুমোদন করা হয়েছে।
বিশেষ করে ডিজিটাল পরিসরসংক্রান্ত আইনগুলোতে সরকারের হাতে এমন বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার সীমিত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদেরও অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল সুশাসন, জবাবদিহি এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, সেগুলোর অনেকগুলোই স্থগিত রাখা হয়েছে, সংশোধনের নামে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বা কার্যত বাতিল করা হয়েছে।
এ কারণেই আমার মনে হয়, বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দুটি উৎস থেকে আসছে। প্রথমটি হচ্ছে আমলাতন্ত্র আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহার। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সরকার যদি এখনই এই দুই শক্তিকে অর্থাৎ একদিকে আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধ, অন্যদিকে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রবণতাকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা পরবর্তী সময়ে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ইফতেখারুজ্জামান: আপনাকেও ধন্যবাদ।