১৬ ডিসেম্বর, আমাদের মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটি সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর একটি। এই দিন শুধু একটি ঐতিহাসিক বিজয়ের স্মারক নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব, অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিকনির্দেশনাও বটে।
বিজয়ের চেতনায় আমাদের দেশ হোক শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন। এমন এক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে মানুষের ঘাম ও শ্রম আর কোনো গোষ্ঠীর লুণ্ঠনের হাতিয়ার হবে না। রাষ্ট্র যেন কারও বিশেষ সুবিধার রক্ষাকবচ না হয়ে ওঠে; বরং সব নাগরিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার শক্ত ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। সন্ত্রাস ও ভয়ভীতির রাজনীতির পরিবর্তে এই ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত হোক সহাবস্থান, সহনশীলতা ও মানবিকতার রাজনীতি।
এই দেশে অনিয়ম ও দুর্নীতি যেন আর স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে না থাকে। ক্ষমতার অপব্যবহার, লুটপাট ও জবাবদিহিহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে পড়ুক। আইন হোক সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যেন বিচারের মানদণ্ডে কোনো ভেদাভেদ না থাকে। ন্যায়বিচার হতে হবে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভীক, যাতে মানুষ আস্থা রাখতে পারে রাষ্ট্রের ওপর।
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারও হোক বিজয় দিবসের শপথ। তরুণ প্রজন্ম যেন ধ্বংসের পথে না গিয়ে জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা ও সামাজিক পরিসর হয়ে উঠুক নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশের প্রতিচ্ছবি, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানসিক ও নৈতিকভাবে শক্ত হয়ে গড়ে উঠবে।
বিজয়ের চেতনায় এমন এক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে মানুষ রাষ্ট্রকে ভয় পাবে না; বরং রাষ্ট্র হবে মানুষের আস্থার জায়গা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ঘৃণা, দমন ও সহিংসতার কোনো স্থান থাকবে না। গণতন্ত্র হবে কার্যকর আর নাগরিক মর্যাদা হবে অক্ষুণ্ন।
যে বাংলাদেশে ক্ষমতা নয়, মানুষই হবে রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দু। যেখানে ইতিহাসের গৌরব স্মরণ করা হবে দায়বদ্ধতার সঙ্গে এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণ হবে ন্যায়, সাহস ও সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে। বিজয়ের চেতনা তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রত্যেক নাগরিক সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবে, ভয় ছাড়া কথা বলতে পারবে এবং নিশ্চিন্তে স্বপ্ন দেখতে পারবে।
মহান বিজয় দিবসে এই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার। স্বাধীনতাকে কেবল স্মৃতিতে নয়, বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠা করা। শোষণ, সন্ত্রাস, অনিয়ম, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সত্যিকারের স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
মো. রায়হানুল বারি রাসেল
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়