চিঠিপত্র

পাটের বাম্পার ফলন হলেও সমস্যা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে

সোনালি আঁশের দেশ বাংলাদেশ। একসময় বিশ্ব দরবারে সোনালি আঁশখ্যাত এই পাট দেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও আজ অনেকটা ক্ষতির মুখে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন বন্যা, খরা, অনাবৃষ্টি) আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষিরা।

চৈত্র-বৈশাখ মাসে পাটবীজ বপনের পর প্রায় তিন থেকে চার মাস পর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কাটতে হয়। পাটের বীজ বপন থেকে শুরু করে পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে বাজারজাত করার এই দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যায়বহুল পদ্ধতির কারণেই পাট উৎপাদনে অনীহা কৃষকদের। তবে সব থেকে বেশি ভোগান্তি হয় পাট কাটার পর তা জাগ দেওয়ায়। আষাঢ়–শ্রাবণ মাস তবুও যেন গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ আর পুকুর, খাল, বিলে পানির অভাব। আর এতেই বিপাকে কৃষকেরা। পানির অভাবে জাগ দিতে পারছেন না পাট।

যত্রতত্র বসতবাড়ি গড়ে তোলায় ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে অনেক খাল, বিল, পুকুর। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোও হারিয়েছে নাব্যতা। যদিও নদীর পানিতে পাটের রং কিছুটা বজায় থাকে। তবে কৃষি জমি থেকে নদী দূরে হওয়ায় পরিবহন খরচ বেশি। ফলে পানির অভাবে এক চরম দুর্ভোগে পাটচাষিরা। আর এতেই ব্যাহত হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার পাট উৎপাদন। অল্প পানিতে অধিক পরিমাণে পাট জাগ দেওয়ায় পাটের রং হচ্ছে কালো বা ফ্যাকাশে। পচে যাচ্ছে পানিও। এসব নিম্নমানের পাট বিক্রি করে ক্ষতির মুখে চাষিরা।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরদারি থাকলে সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। খাল, বিল, পুকুর খননের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে পানির সহজলভ্যতা করতে পারলে পাট জাগ দেওয়ার সমস্যা কমবে। এতে পাটের রং এবং গুণগত মান বজায় থাকবে। পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর জন্য রিবন রেটিং পদ্ধতিও একটা জনপ্রিয় এবং কৃষিবান্ধব প্রক্রিয়া। কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ এবং অভ্যস্ত করতে পারলেই মুক্তি মিলবে অনেকটা। এতে যেমন কৃষিতে পাটের উৎপাদন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।

ইমলাক হোসেন
বাংলা বিভাগ, ঢাকা কলেজ