নতুন ভোটার, তরুন ভোটারদের ছিল বেশি উচ্ছাস। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বেগম রহিমা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নতুন ভোটার, তরুন ভোটারদের ছিল বেশি উচ্ছাস। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বেগম রহিমা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রতিক্রিয়া

জেন–জি ভাবনা: জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটার ও প্রার্থীদের প্রভাব

জাতীয় যুবনীতি ২০০৭ অনুসারে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের ‘যুব’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সে হিসেবে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের ৪২ শতাংশের বেশি ছিল তরুণ। অর্থাৎ এবারের নির্বাচনে ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ হিসেবে নিঃসন্দেহে তরুণদের ধরে নেওয়া যায়। নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর কর্মসূচি ও ইশতেহার দেখলেও বোঝা যায় তারাও বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট অবগত। এ তরুণদের বড় অংশই জেনারেশন জেড বা জেনজি।

ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রেও দলগুলো নির্বাচনের আগে তরুণদের সঙ্গে বিভিন্ন ‘মিট’ বা ‘টক’ আয়োজন করে চেষ্টা করেছে নিজেদের সঙ্গে তরুণদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে। উদাহরণস্বরূপ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তরুণদের নিয়ে আয়োজন করে ‘হ্যালো আওয়ার লিডার’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান। সেখানে তরুণদের কাছ থেকে দেশের পররাষ্ট্রনীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামরিক বিষয়ে বেশ জটিল কিছু প্রশ্ন করতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে বিএনপির জন্য তরুণদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের অন্যতম সেতু হিসেবে কাজ করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে রাজধানীতে তরুণদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকটিভ যুব সম্পৃক্ততা অনুষ্ঠান ‘চায়ের আড্ডা’তে অংশ নেন জাইমা রহমান। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কনটেন্ট জেনারেশন টিমের আয়োজনে অনুষ্ঠানটিতে বিশেষভাবে চোখে পড়েছে জাইমা রহমানের বিভিন্ন টেবিল ঘুরে ঘুরে তরুণদের সঙ্গে গল্প করার চিত্র।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপির সার্বিক যাত্রাটাই ছিল তারুণ্যনির্ভর। তাদের রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন ও প্রস্তাবনা—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে তরুণেরাই ছিলেন।

সারা বিশ্বের মতোই বাংলাদেশেও নির্বাচনে বড় ভূমিকা রেখেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। আর স্বাভাবিকভাবেই এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েছেন তরুণ প্রার্থীরা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘নো ইয়োর ক্যান্ডিডেট’ পোর্টালের তথ্য অনুসারে, এই নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে আবার ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী প্রার্থীর হার ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। এটি ২০২৪ সালের নির্বাচনের ছিল ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ২০১৮ সালে ০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই বয়সী কোনো প্রার্থীই ছিল না। তাই সার্বিক পরিসংখ্যান বলছে, এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

নির্বাচনের পুরোটা সময় জুড়েই তরুণ প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রেখেছেন। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত বয়স্ক প্রার্থীরা নিজেদের ‘সোশ্যাল হ্যান্ডলে’ খুব একটা সক্রিয় না থাকলেও বিভিন্ন মোবাইল সাংবাদিকদের রিলস ও কনটেন্টের ওপর অনেকটাই ডিজিটালি নির্ভরশীল ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো সামাজিক মাধ্যমের ‘পালস’ বুঝতে পারা এবং সে অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা। বয়স্ক প্রার্থীদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘পালস’ বুঝতে না পারায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা খুব একটা প্রাসঙ্গিক থাকতে পারেননি।

আবার কেউ কেউ চমক দেখিয়েছেন, যেমন জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনিরকে দেখা গেছে স্থানীয় টিকটকের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে কনটেন্ট তৈরি করতে, এসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছিল। এর বাইরে প্রার্থীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোটাই দখলে রেখেছিলেন তাসনিম জারা, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়ার মতো তরুণেরা। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে ১১ দল মনোনীত এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কথা। শেষ সময়ে ঢাকা–৮ আসনকে সারা দেশের মধ্যে আলোচিত করে তুলেছিলেন তিনি। অনেকের মতে, তাঁর এত ভোট বৃদ্ধির অন্যতম কারণও ছিল সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়তা এবং মোবাইল জার্নালিস্টদের লক্ষ্য করে বক্তব্য রাখা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বড় গুণ হলো এটি সব শ্রেণির মানুষকে ‘কণ্ঠ’ দিতে পারে। বিশ্বব্যাপী ‘সিটিজেন জার্নালিজম’–এর মাধ্যমে অনেকেই মূলধারার মিডিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে।

তবে ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যম নিয়ে একটি ক্রিটিক্যাল একাডেমিক বিশ্লেষণ করেছেন রাজনৈতিক তাত্ত্বিক ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা। ফুকুয়ামা মনে করেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো প্রচলিত তথ্যের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান—যেমন মূলধারার গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দিয়েছে। ফলে প্রান্তিক বা উগ্র মতাদর্শী গোষ্ঠীগুলো সহজেই সরাসরি সমর্থক সংগঠিত করতে পারছে এবং মানুষ ক্রমেই নিজেদের মতো চিন্তার মানুষের মধ্যেই আটকে পড়ছে, এই প্রবণতাটিকে তিনি ‘ইকো-চেম্বার’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

তাঁর মতে, এই পরিবেশে ‘পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি’ সহজেই উত্তেজনা ও বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং যুক্তিনির্ভর গণতান্ত্রিক আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যদিও তিনি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা যথার্থ নয়; বরং এটি কেবল একটি প্রেক্ষাপট; যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক হতাশা ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থাহীনতা তরুণদের রাজনৈতিক মনোভাব ও অনলাইন সক্রিয়তাকে আরও তীব্র করে তুলছে।

বর্তমান প্রজন্মের বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রথম যে বৈশিষ্ট্যটি চোখে পড়েছে সেটি হলো, এই প্রজন্মের মধ্যে আদতে তেমন ভোট ব্যাংক নেই। আদর্শিক দিক থেকে এখানে বেশ ‘ফ্লুইডিটি’ আছে। পূর্ববর্তী প্রজন্মে যেখানে একটি নির্দিষ্ট মার্কা ধরে দীর্ঘদিন ভোট দেওয়ার প্রবণতা আছে; এখানে তার বিপরীতে বিভিন্ন সময় ও ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন আদর্শিক দলকে ভোট দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

ফুকুয়ামার চিন্তা প্রমাণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের প্রভাব মোটেও সরলরৈখিক নয়, বরং এর বিবিধ ব্যবহার ও ফলাফল রয়েছে। আমি নিজে দেশের তরুণসমাজ কিংবা আরও নির্দিষ্টভাবে ‘জেনারেশন জেড’–এর অংশ হওয়ার পরেও দীর্ঘ সময়ের বন্ধু, স্বজন ও সহপাঠীদের মনোভাব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারিনি।

আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের চিন্তাধারাকে আমরা ‘বাপ-দাদাদের চিন্তা’ বলে মোটাদাগে সেকেলে হিসেবে চিহ্নিত করতাম। বিপরীতে মনে হয়েছে, আমাদের প্রজন্মের চিন্তা বেশ বৈচিত্র্যময়। পূর্ববর্তী প্রজন্ম জেনারেশন জেডকে বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে নির্বোধ বলে গণ্য করলেও দেখা গেছে আমাদের প্রজন্ম বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন সংগঠিত করে আগের অসাধ্যসাধন করেছে ও অনেক বিশ্লেষণকে ভুল প্রমাণ করেছে।

বাংলাদেশের তরুণদের রাজনীতির হাওয়া কোন দিকে যাচ্ছে, তা বুঝতে অনেকেই সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদগুলোর উদাহরণ টানেন। তবে সংখ্যাতত্ত্ব এখানে প্রশ্নটিকে এত সহজ করার পথে বাধা দেয়। জাতীয় নির্বাচনে জনগণের যে রায় তার মধ্যে কিন্তু তরুণদের রায়ও নিহিত আছে। খুব ভালো হতো যদি জানা যেত, এই জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবণতা কোন দিকে ছিল। তবে তা জানা না গেলেও ৪২ ভাগ তরুণ ভোটারের নির্বাচনে যাঁরা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন তাঁদের পক্ষে তরুণদের একটি বড় অংশের রায় ছিল, এটা মেনে নিতেই হবে।

বর্তমান প্রজন্মের বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রথম যে বৈশিষ্ট্যটি চোখে পড়েছে সেটি হলো, এই প্রজন্মের মধ্যে আদতে তেমন ভোট ব্যাংক নেই। আদর্শিক দিক থেকে এখানে বেশ ‘ফ্লুইডিটি’ আছে। পূর্ববর্তী প্রজন্মে যেখানে একটি নির্দিষ্ট মার্কা ধরে দীর্ঘদিন ভোট দেওয়ার প্রবণতা আছে; এখানে তার বিপরীতে বিভিন্ন সময় ও ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন আদর্শিক দলকে ভোট দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। যেমন আমার বন্ধুদের অনেকেই যারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের পক্ষে ছিল না, তাদের অনেকেই জাতীয় নির্বাচনে আবার বিএনপির পক্ষে ছিল। ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে, গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া যাদের মধ্যে চিন্তা ও জীবনাচরণে ভিন্নতা আছে তাদেরকে দেখেছি নিজ নিজ বিশ্বাস ও অবস্থান নিয়ে বন্ধুত্ব বজায় রেখে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে বহুদিন ধরে এই ধারণা সমাজে প্রচলিত ছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক উদারনৈতিক রাজনৈতিক বিশ্বাসের অনুসারী। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বাইরেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয়-মতাদর্শিক অনুষ্ঠান ও আন্দোলনের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।

এটি প্রমাণ করে, এ ধরনের চিন্তা ও ভাবাদর্শের উপাদানগুলো দেশের শিক্ষিত তরুণসমাজে আগে থেকেই বিদ্যমান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসে কেবল এই উপাদানগুলো প্রকাশিত হয়েছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপস্থিত হয়েছে।

যে সময়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের ওপর আগ্রাসী আক্রমণ হয়েছে, সেই একই সময়ে বাংলাদেশে নতুন ধারার সাংস্কৃতিক আয়োজন যেমন আর্কা ফ্যাশন উইক, ঢাকা মেকার্স কিংবা উইন্টার ওয়ান্ডারল্যান্ডের মতো আয়োজনগুলোতে ছিল তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এখানে আলাদাভাবে খেয়াল রাখতে হবে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটেই মূলত বাংলাদেশে র‍্যাপ ধারার গান নতুনভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এবং র‍্যাপের মধ্যে নতুন একটি প্রতিবাদী সুর প্রকাশিত হয়েছে।

পুরো আলোচনার মূল কথাটি হলো, আমাদের ‘জেনারেশন জেড’কে কোনো একক মাপকাঠিতে বিবেচনা করলে সেটি এই প্রজন্মকে বোঝার ক্ষেত্রে মারাত্মক সীমাবদ্ধতা তৈরি করবে। আমাদের প্রজন্মের মধ্যে এমন কিছু উপাদান আছে, যেগুলো দেশের চিরায়ত রাজনৈতিক ধারায় এখনো অপরিচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একপক্ষীয় রায় দেখায় পর যদি কেউ বর্তমান প্রজন্মের রাজনৈতিক ধারাকে একপেশে বিশ্লেষণ করেন, তাহলে তিনি এখানে অনেক কিছুই দেখতে পাবেন না। এই নির্বাচনে সারা দেশে বিএনপির জোটসঙ্গী হয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি একমাত্র বামধারার নির্বাচিত এমপি। এ ছাড়া আর কোনো বামধারার দল দেশের কোথাও বিজয়ী হতে পারেনি।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ের সময়েও বামপন্থী জোটের মেঘমল্লার বসু ৪ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। এর বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে দেখেছি বহু বিচিত্র মতাদর্শ ভাবধারা ও চিন্তার ছাত্ররা এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন। যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোকে দীর্ঘ মেয়াদে ভাবতে হয়; তাই দীর্ঘ মেয়াদে তাদের বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে হলে নির্বাচনকেন্দ্রিক দৌড়ঝাঁপের বাইরে বছরব্যাপী তরুণদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার নতুন ও টেকসই পথ খুঁজে বের করতে হবে। তরুণেরা রাজনীতির মারপ্যাঁচ বোঝে না, এ ধরনের চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে তরুণদের গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। আগামীর রাজনীতিতে যাঁরা এই ‘পালস’ বুঝবেন, কেবল তাঁরাই দীর্ঘ মেয়াদে অধিকাংশের সমর্থন লাভ করবেন।

  • মোস্তফা মুশফিক শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    *মতামত লেখকের নিজস্ব