সংকটে টিকে থাকা এক বিদ্যালয়

রাজধানীর সূত্রাপুরের বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন টিকে থাকার এক সংগ্রামের নাম। ১৯৪০ সালে পুরান ঢাকার প্যারিদাস রোডে পাঠশালা হিসেবে এর যাত্রা শুরু, ১৯৭৩ সালে যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপ নেয়। ২০২০ সালে মূল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় এর পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ বছর পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে সূত্রাপুরের হেমন্ত দাস রোডের একটি সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে সাময়িকভাবে আবার ক্লাস শুরু হয়েছে। বর্তমানে একটিমাত্র টিনশেড কক্ষেই চলছে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম, নেই শৌচাগার ও পর্যাপ্ত আসবাব। এক কক্ষেই একসঙ্গে চলে তিন শ্রেণির পাঠদান। তীব্র স্থানসংকট ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও একটি স্থায়ী ভবনের অপেক্ষায় প্রতিদিন শিশুদের কোলাহলে মুখর থাকে আট দশকের পুরোনো এই বিদ্যালয়।

একমাত্র কক্ষেই প্রাত্যহিক সমাবেশে অংশ নিচ্ছে বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
একমাত্র কক্ষেই প্রাত্যহিক সমাবেশে অংশ নিচ্ছে বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সূত্রাপুরের ২৪ নম্বর হেমন্ত দাস রোডের একটি সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে সাময়িকভাবে আবার শুরু হয়েছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। আগে এখানে অন্য একটি বিদ্যালয় থাকায় তাদের সাইনবোর্ডটি এখনো রয়ে গেছে।
একটিমাত্র কক্ষ, সেখানেই একসঙ্গে চলছে তিনটি শ্রেণির পাঠদান।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে ক্লাস শুরু হওয়া এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অদিতি দাস নিজ উদ্যোগে এক কক্ষের এই ভবনের দরজা ও ছাদ মেরামত করে পাঠদানের উপযোগী করেছেন।
প্রথম দেখায় কোনো কোচিং সেন্টার মনে হলেও এটি রাজধানীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো শৌচাগার নেই। তাই পাশের একটি ছাপাখানার (প্রেস) অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার ব্যবহার করতে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
বৃষ্টি হলেই টিনশেডের এই কক্ষের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। আর গরমের দিনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভরসা একটিমাত্র ফ্যান।
পাঠের ফাঁকে শ্রেণিকক্ষের ডাস্টবিনে ময়লা ফেলছে এক শিক্ষার্থী। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও বিদ্যালয়টিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা আছে।
নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এক শিক্ষার্থীর খাতার পাতায় চলছে অঙ্কের হিসাব, এগিয়ে চলেছে শেখার অদম্য চেষ্টা।