পুরান ঢাকায় বানরের চলাফেরা

রাজধানীর পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় বহু বছর ধরে মানুষের পাশাপাশি বসবাস করে আসছে রেসাস বানর। নগরায়ণ, আবাসন সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে তাদের প্রাকৃতিক আবাস ও খাদ্যের উৎস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তবু মানুষের বসতির ছাদ, কার্নিশ, গলি আর বৈদ্যুতিক তারে প্রতিদিনই চোখে পড়ে তাদের চলাফেরা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকা এই মানুষ-বানরের সহাবস্থান পুরান ঢাকার এক অনন্য ঐতিহ্য, যা টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সচেতনতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহাবস্থানের মানসিকতা।

গেন্ডারিয়ার একটি গলিতে মানুষের পাশ দিয়ে নিশ্চিন্তে হেঁটে যাচ্ছে একটি রেসাস বানর। বহু বছর ধরে এই এলাকায় মানুষ ও বানরের সহাবস্থান চলছে।
গেন্ডারিয়ার একটি গলিতে মানুষের পাশ দিয়ে নিশ্চিন্তে হেঁটে যাচ্ছে একটি রেসাস বানর। বহু বছর ধরে এই এলাকায় মানুষ ও বানরের সহাবস্থান চলছে।
শাবককে বুকে আগলে ভবনের সীমানাপ্রাচীর বেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে একটি মা বানর।
পুরোনো ভবনের ছাদে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসে আছে রেসাস বানরের দল। মানুষের বসতির ভেতরেই গড়ে উঠেছে তাদের বিকল্প আবাস।
উনিশ শতকের দিকে ঢাকার বনজঙ্গলে অবাধ বিচরণ ছিল এই রেসাস বানরদের। পরবর্তী সময় দ্রুত নগরায়ণ, বনাঞ্চল ধ্বংস ও মানুষের বসতি বাড়ার কারণে তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান সংকুচিত হয়ে আসে। টিকে থাকার লড়াইয়ে এই বুদ্ধিমান প্রাণীরা তখন নিজেদের মানিয়ে নেয় শহরের পরিবেশের সঙ্গে।
নিরাপদ আশ্রয় আর খাবারের সন্ধানে ভবনের কার্নিশে বসে আশপাশ পর্যবেক্ষণ করছে চারটি বানর।
তার ধরে এক ভবন থেকে আরেক ভবনে যাচ্ছে একটি বানর। শহরের তারের জঞ্জাল যেন তাদের প্রতিদিনের চলাচলের রাস্তা।
আলাদা দুনিয়া, অথচ এক ঠিকানা! ভবনের ফটকে খাবারের খোঁজে হেঁটে চলা কুকুরটির দিকে ওপর থেকে কৌতূহলী নজর রাখছে রেসাস বানরটি।
ছাদের রেলিং ধরে কাঁটা তারের পাশেই খেলায় মেতে উঠেছে দুটি কিশোর বানর। মানুষের বসতির ভেতরেই বেড়ে উঠছে নতুন প্রজন্ম।
পাইপের ওপর সতর্ক পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে একটি রেসাস বানর।
স্থানীয় লোকজনের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করেই পুরান ঢাকার অলিতে-গলিতে এখনো টিকে আছে এই রেসাস বানরেরা।