বনবিবির আরাধনা

প্রতিবছর পয়লা মাঘের শুভলগ্নে বাওয়ালি, মৌয়াল আর জেলেরা বনবিবির চরণে আরজি জানান যেন গহিন জঙ্গল থেকে তাঁরা অক্ষত শরীরে আপনজনের কাছে ফিরতে পারেন। সুন্দরবন উপকূলের মানুষের বিশ্বাস, বনবিবি অরণ্যের দেবী। বাঘ, কুমিরসহ সব হিংস্র প্রাণী তাঁর অনুগত। তাই প্রতিবছর মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহে কয়রার সুন্দরবনঘেঁষা গ্রামগুলোতে হয় বনবিবির পূজা ও মেলা। খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারিতে বনবিবির আরাধনার ছবি নিয়ে এবারের ছবির গল্প।

ছোট্ট মন্দিরে সদ্য মাটি দিয়ে লেপা হয়েছে। বসানো হয়েছে বনবিবি জহুরনামার অরণ্যের লোকপুরাণ চরিত্রগুলো।
ছোট্ট মন্দিরে সদ্য মাটি দিয়ে লেপা হয়েছে। বসানো হয়েছে বনবিবি জহুরনামার অরণ্যের লোকপুরাণ চরিত্রগুলো।
সুন্দরবনসংলগ্ন প্রায় প্রতিটি মহল্লায় ছোট ছোট মন্দিরে বনবিবির আরাধনা হয়। এ মন্দিরগুলোকে ‘থান’ বলা হয়। পুঁথিপাঠ ও পূজার আগে চলছে প্রস্তুতি।
মাইকে পুঁথি পাঠ করা হবে। তাই চলছে প্রস্তুতি।
বনবিবির পূজা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে। নছিমনে তরুণেরা সাউন্ড বক্সে গান বাজাতে বাজাতে আসছেন
একটি মন্দিরের প্রবেশপথের ফটক সুন্দরবনের গোলপাতা দিয়ে সাজানো হয়েছে
বাজানো হচ্ছে ঢাক ও ঘণ্টা
বিক্রি হচ্ছে ঝাল-মিষ্টি খাবার
শুরু হলো পুঁথিপাঠ। সুন্দরবনের লোকসংস্কৃতির প্রাণ হলো এই পুঁথি। পয়লা মাঘ বনবিবির আস্তানায় যখন ধূপধুনো জ্বলে ওঠে, তখন ভক্তিভরে পাঠ করা হয় ‘জহুরনামা’। এটি কেবল একটি বই নয়, এটি সুন্দরবনসংলগ্ন মানুষের বেঁচে থাকার এক অলিখিত দলিল।
পাটির ওপর বসে জহুরনামা পুঁথি শুনছেন সুন্দরবনসংলগ্ন মানুষ
পুঁথিপাঠের সঙ্গে সঙ্গে চলছে বনবিবির আরাধনা।