মির্জা ফখরুলের বক্তব্য হাস্যকর: তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ১১ সেপ্টেম্বর
ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুলদের ওপর কর্মীদেরই আস্থা নেই, বিএনপির কর্মীদের দ্বারাই তাঁরা প্রচণ্ডভাবে সমালোচিত। যেই দলের এই অবস্থা, সেই দলের মহাসচিবের হুইসেল বাজালেই আন্দোলনে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ার বক্তব্য হাস্যকর। বিএনপি কোনো একটা অনুষ্ঠান করতে গেলে নিজেরাই মারামারি করে সে অনুষ্ঠান পণ্ড করে।

হাছান মাহমুদ আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। এ সময় বেতারের আবাসিক প্রকৌশলী নিত্য প্রকাশ বিশ্বাস, আঞ্চলিক পরিচালক এস এম মোস্তফা সরোয়ার ও উপবার্তা নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মানুষ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত, ডাক দিলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ওনার বক্তব্যে মনে হয়েছে, উনি কিংবা সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপার থেকে তাঁদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুইসেল বাজাবেন, তাহলেই মানুষ রাস্তায় নেমে পড়বে। আসলে মির্জা ফখরুল সাহেব জেগে জেগে যে স্বপ্ন দেখেন এবং প্রতিনিয়ত যেসব অবান্তর কথা বলেন, সেটিরই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে তাঁর এই বক্তব্য।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রটি আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কালুরঘাটে যে ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন, সেই ট্রান্সমিটার এখন চট্টগ্রাম পুরোনো সার্কিট হাউসে রাখা হয়েছে। এই ট্রান্সমিটার আগে যেখানে ছিল, সেই কালুরঘাট বেতারের ট্রান্সমিশন সেন্টারে আবার স্থানান্তর করা হবে।’

সেখানে একটা ছোট জাদুঘর করে রাখা হবে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, সেখানে স্বাধীনতা পার্ক স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে এই ট্রান্সমিটার দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানেই এই ট্রান্সমিটার থাকা বাঞ্চনীয়। বাংলাদেশ বেতারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেখানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র একটি ঐতিহাসিক বেতার কেন্দ্র। কারণ, এই বেতার কেন্দ্র থেকেই ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান। পরে ২৭ মার্চ আওয়ামী লীগ নেতারা একজন সেনা অফিসারকে দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করানোর জন্য মেজর জিয়াউর রহমানকে খুঁজে বের করে এনে তাঁকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করান।

হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকেই ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় পুরো জাতি ও বিশ্ববাসী জেনেছিল, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশ যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সেটি চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমেই দেশবাসী ও বিশ্ববাসী জেনেছিল। এটি একটি ঐতিহাসিক বেতার কেন্দ্র।

হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে বেতার যেমন অনন্য ভূমিকা রেখেছে, একইভাবে দেশ গঠনেও অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান, জন্মনিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণসহ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানগুলো মানুষ শুনে অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করে। রেডিও যাতে দেশগঠনে, দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য এর উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।