মৌলভীবাজার-১ আসন

'নির্ভার' আ.লীগকে ঠেকাতে শক্ত প্রার্থীর খোঁজে বিএনপি

শাহাব উদ্দিন,এবাদুর রহমান চৌধুরী,নাসির উদ্দিন আহমদ
শাহাব উদ্দিন,এবাদুর রহমান চৌধুরী,নাসির উদ্দিন আহমদ

বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসনে একজনই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তিনি বর্তমান সাংসদ ও হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন। দলীয় প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রায় নিশ্চিত হওয়ায় নির্ভার আওয়ামী লীগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে বিএনপিতে রয়েছে এক ডজনের বেশি মনোনয়নপ্রত্যাশী। নৌকা ঠেকাতে দলের নেতা-কর্মীরা তাই চাইছেন ‘শক্ত’ প্রার্থী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন শাহাব উদ্দিন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরীর কাছে হেরে যান। এরপর ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি আরও দুবার সাংসদ নির্বাচিত হন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে তিনি ছাড়া আর কেউ দলের মনোনয়ন ফরম তোলেননি। দুটি উপজেলায় দলের নেতা-কর্মীরা তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় এবাদুর রহমান চৌধুরীসহ দলের জেলা কমিটির সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শরীফুল হক, বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সহিদ খান, বড়লেখা পৌর বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেনা বেগম, কাতারপ্রবাসী লোকমান আহমদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, প্রবাসী দারাদ আহমদ, জুড়ী উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি দেওয়ান আইনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান।

>বর্তমান সাংসদ শাহাব উদ্দিন ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে আর কেউ দলীয় মনোনয়ন তোলেননি।

বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাফিজ বলেন, নৌকা ঠেকাতে হলে এ আসনে দলের শক্ত প্রার্থী দরকার।

সাংসদ শাহাব উদ্দিন দাবি করেন, তাঁর সরকারের আমলে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের বহু কাঙ্ক্ষিত কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথের পুনর্বাসনকাজ শুরু হয়েছে। অতীতে আর কোনো সরকারের সময়ে এত উন্নয়ন হয়নি। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভোটাররা আবারও নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করবেন বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদী।

নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এবাদুর রহমান চৌধুরী শ্রদ্ধেয় নেতা। কিন্তু তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ নন। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। নির্বাচনের ব্যাপারে তাঁর খুব আগ্রহ নেই দেখেছি। এ ক্ষেত্রে আমার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’

তবে এবাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আমার পক্ষে। সবকিছু বিবেচনায় দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে বলে আশাবাদী। নানা ব্যস্ততার কারণে আগে এলাকায় আসতে পারিনি। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, আছে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে এলাকায় যাব।’