রাজনীতি

'মাইকেল চাকমাকে ফেরত চাই'

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমার সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমাকে অবিলম্বে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ দাবি করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠন ও কয়েকটি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবাদী কণ্ঠ তথা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশে ক্রমবর্ধমান আন্দোলন স্তব্ধ করতেই রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা মাইকেল চাকমাকে তুলে নিয়েছে।

গত বছরের ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে মাইকেল চাকমা নিখোঁজ হন বলে তাঁর পরিবার ও সংগঠনের অভিযোগ।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে মাইকেল চাকমাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। মাইকেল চাকমার বড় বোন সুভদ্রা চাকমাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন৷

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুনয়ন চাকমা৷ লিখিত বক্তব্যে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়৷ দাবিগুলো হলো উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবিলম্বে মাইকেল চাকমার নিখোঁজের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় জিডি নিতে হবে; অবিলম্বে মাইকেল চাকমাকে সুস্থ শরীরে ও নিরাপদে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে; খুন-গুম-ক্রসফায়ার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে; পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যায় ধরপাকড় ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে৷

মাইকেল চাকমার সন্ধান পেতে পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়,‘ ১৯ এপ্রিল অভিযানে যাবে বলে বাদী ধনক্ষ চাকমাসহ দুই জনকে ডাকে সোনারগাঁও থানা-পুলিশ। রহস্যজনকভাবে অভিযানে পুলিশ যায়নি৷ সেদিন অভিযানে না গেলেও বাদী ধনক্ষ চাকমা থানায় জিডি করেন। কিন্তু জিডির গৃহীত কপি চাইলে পরে দেওয়া হবে বলে সেদিন বাদীসহ দুজনকে পুলিশ ফিরিয়ে দেয়৷ একপর্যায়ে পুলিশ অজুহাত দেখিয়ে কাফরুল থানায় জিডি করতে বলে। আমরা জিডির দরখাস্ত নিয়ে কাফরুল থানায় গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানেও জিডি নেওয়া হয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা, কবি হাসান ফকরি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আকমল হোসেন উপস্থিত ছিলেন৷ ছিলেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরূপা চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সহসাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা৷

সোনারগাঁও থানার ওসি: আজকের সংবাদ সম্মেলনে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সোনারগাঁও থানার সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। আমরা বিষয়টির তদন্ত করেছি। মাইকেল চাকমার কল লিস্ট নিবিড়ভাবে দেখা হয়েছে। দেখা গেছে মাইকেল চাকমা সর্বশেষ কাফরুল থানা এলাকায় ছিলেন।’

ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখেছি, মাইকেল চাকমার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা আছে। এর মধ্যে চারটি হত্যা মামলা। হয়তো তিনি নিজেই আত্মগোপনে আছেন বা অন্য সমস্যা হতে পারে।