আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল

ডাকসুতে বিজয়ীদের অভিনন্দন

এই নির্বাচনের মাধ্যমে ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতির ভূমিধস পরাজয় হয়েছে: আসিফ নজরুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। আজ বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এ অভিনন্দন জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্রশিবিরের নেতাদের অভিনন্দন। স্বতন্ত্র প্রার্থী যাঁরা জিতেছেন, তাঁদের অভিনন্দন। অভিনন্দন এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া সকল অংশগ্রহণকারীদের।’

ছাত্রশিবিরের বিশাল বিজয় নিয়ে নানা বিশ্লেষণ এখন চলছে উল্লেখ করে অধ্যাপক আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আমি শুধু একটা কথা বলব। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতির ভূমিধস পরাজয় হয়েছে। হাসিনার আমলে শিবির ট্যাগ নিয়ে অগণিত শিবির কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের প্রতি অমানুষিক নির্যাতন হয়েছে। শিবির সন্দেহে পেটানোর পর পুলিশে সোপর্দের ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। আমি অবিরামভাবে এর তীব্র প্রতিবাদ করেছি। নানা হুমকি ও আক্রমণ এসেছে, কখনো থামিনি।’

ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই থিমের ওপর “আমি আবুবকর” নামের উপন্যাসও লিখেছি। এক বইমেলাতেই এটি ১১ বার মুদ্রণ করতে হয়েছিল। তখন এর কারণ বুঝিনি, এখন বুঝতে পারছি। শিবিরের নেতাদের প্রতি আমার অনুরোধ, গণ–অভ্যুত্থানকারী সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করুন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে হলগুলোর কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘সলিমুল্লাহ হলে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় হলের ভেতর দিয়ে যেতাম। বারান্দায় চৌকি, মশারি আর ভাঙা টেবিল–চেয়ার দেখে বস্তির মতো লাগত, ক্যানটিন দেখে মনে হতো লঙ্গরখানা আর রুমগুলোর ভেতর তো উঁকি দিতেই ইচ্ছা হতো না। কত কিছু নেই আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কত সমস্যা এখানে। আশা করি, ফ্যাসিস্টমুক্ত এই বাংলাদেশে ঢাবির অন্তত আবাসিক শিক্ষার্থীদের কিছু গুরুতর সমস্যা আপনারা দূর করে যাবেন। দোয়া।’

গতকাল মঙ্গলবার ডাকসু নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। ভিপি, জিএস, এজিএস ছাড়াও ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৯টিতে ছাত্রশিবিরের প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ১৩টি সদস্য পদের মধ্যে ২টি বাদে সব কটিতে জয় পেয়েছেন তাঁরা।